ঝিনাইদহের ত্রিমহনীর অটো রাইস মিলের দূষিত বর্জ্যে
প্রতিবেদক, ডাকবাংলা:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা ত্রিমহনীর অটো রাইস মিলগুলোর দূষিত বর্জ্য ফেলায় চরমভাবে পরিবেশ-বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ‘অপু এগ্রো ফুড’ ও ‘জোহান এগ্রো ফুড-২’ কোম্পানি লিমিটেডের ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি, ধানের তুষ, ছাই ও মেশিনের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এ বিষয় নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এলাকাবাসী কয়েক দফা বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে পরিবেশ-বিপর্যয়ের মধ্যেই মিলের আশপাশে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছে উত্তর নারায়ণপুর, মাগুরা পাড়া ও বাদপুকুরিয়া গ্রামের কয়েক শ পরিবার। এদিকে, বাড়িতে সব সময় হাঁটুপানি জমে থাকায় কেয়ামত আলী, আবু তাহের, ইমান আলীর পরিবারসহ ৮-১০টি পরিবার নিজ বাড়ি ফেলে রেখে ভাড়া বাড়িতে থাকে।
এ বিষয়ে আবু তাহের জানান, ‘জোহান অটো রাইস মিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আজ আমার বাড়ি ফেলে চাতালে থাকতে হচ্ছে। আমার বাড়িতে সব সময় হাঁটুপানি জমে থাকে। আমরা সবাই সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপন করতে চাই।’
এ বিষয়ে বাচাই অটো রাইস মিলের মালিক হাজি আরজান সাংবাদিককে জানান, ‘জোহান এগ্রো ফুড কোম্পানি লিমিটেডের অটো রাইস মিলের দূষিত পানিতে আমার চাতাল আজ পানির নিচে। সেখানে কয়েক শ মণ ধানও আছে।’
এ প্রসঙ্গে ত্রিমহনী মিলকল মালিক সমিতির সভাপতি হাজি মোয়াজ্জেম ম-লের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জোহান এগ্রো ফুড কোম্পানি লিমিটেডের অটোর পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের এ দুর্ভোগ। সমাধানের জন্য আমরা ভুক্তভোগীরা সবাই একসঙ্গে বসব। যদি এটা সমাধান না হয়, তাহলে আমরা সবাই মিলে ডিসি অফিসে এ বিষয়ে দরখাস্ত করব।’
এ বিষয়ে সাগান্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, অটো মিলের আশপাশে যেসব চাতাল বা বাড়িঘর আছে, সেগুলো দেখলে খুব কষ্ট লাগে, এর একটা সমাধান হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জোহান অটো এগ্রো ফুড কোম্পানি লিমিটেডের মালিক মোয়াজ্জেম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার অটোর পানি নিষ্কাশনের জায়গা আছে। আর মূল সমস্যা হলো, পানি বের হবে কীভাবে, সবাই পুকুর কেটে মাছ চাষ করছে, তাই পানি এখন আর বের হচ্ছে না। আমি এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ডিসি অফিস ও ইউএনও অফিসে দরখাস্ত দিয়েছি। পারলে ইউএনওর কাছে জানতে পারেন।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম জানান, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, জেনে ব্যবস্থা নেব।’
