সমাজবিজ্ঞান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

আপলোড তারিখঃ 2019-09-21 ইং
সমাজবিজ্ঞান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার নাগদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারি নিজস্ব প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গার নাগদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কৃষিশিক্ষা বিভাগের শিক্ষক গোলজার হোসেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বকুলের বিরুদ্ধে ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলেছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে এক জরুরি মিটিং ডাকা হয়। এ মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমাজবিজ্ঞান শিক্ষককে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, কয়েক মাস পূর্বে নাগদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেএসসি মডেল টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতন, পরীক্ষার ফিসসহ মোট ৪০ হাজার টাকা ম্যানেজিং কমিটির ফান্ডে জমা হয়। এ টাকা শিক্ষকদের মধ্যে গ্রেড ক্যাটাগরি হিসেবে ম্যানেজিং কমিটি ভাগ করে দেয়। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে স্কুলের দপ্তরি সাইদ বিভিন্ন সময় ফান্ডে জমা থাকা টাকা থেকে কিছু টাকা ম্যানেজিং কমিটির ক্যাশিয়ার খাইরুল বাশারের কাছে চান। কমিটির ক্যাশিয়ার খাইরুল সভাপতি ব্যতীত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুপুরে টিফিনের সময় আবারও অফিসের মধ্যে ক্যাশিয়ারের নিকট টাকা চান দপ্তরি সাইদ। সভাপতি ব্যতীত টাকা দিতে পারবেন না বলে জানান ক্যাশিয়ার খাইরুল বাশার। এ সময় হঠাৎ সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক বকুল হোসেন ও গণিত বিভাগের শিক্ষক আমিনুল কেন টাকা দেবে না, এ জবাব চেয়ে ক্যাশিয়ার খাইরুল বাশারের ওপর চড়াও হন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় কৃষিশিক্ষা বিভাগের শিক্ষক গোলজার হোসেন তাঁদের উত্তেজনা শান্ত করার চেষ্টা করেন। গোলজার হোসেন শিক্ষক বকুলকে ক্যাশিয়ারের ওপর রাগ না করে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে টাকা নিতে বলেন। এ কথা শোনার পর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বকুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে পেপার কাটা ছুরি দিয়ে শিক্ষক গোলজারের ওপর আক্রমণ করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত শিক্ষকেরা তাঁদের ঠেকিয়ে দেন। এ ঘটনায় নাগদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল জানান, ‘শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হয়ে শিক্ষকের ওপরে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক বকুলকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে। যদি তিনি কারণ দর্শাতে না পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার শীল বলেন, এ ধরনের কর্মকা- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মধ্যে ঘটা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, শিক্ষকের মধ্যে অনেক সময় গোলোযোগ বাঁধতেই পারে। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিতি শিক্ষকের নিকট থেকে সেই দিনের অপরাধের কোনো তথ্য না জেনেই তাঁকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক বকুল জানান, ‘আমার সঙ্গে শুধুমাত্র একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তাঁকে কোনো ধরনের ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা অথবা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত শিক্ষকদের নিকট তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আমাকে বিনা দোষে দোষারোপ করা হচ্ছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)