ছাত্রলীগে পরিবর্তনের ধ্বনি, বিতর্কিতরা শঙ্কায় বঞ্চিতরা আশায়

আপলোড তারিখঃ 2019-09-18 ইং
ছাত্রলীগে পরিবর্তনের ধ্বনি, বিতর্কিতরা শঙ্কায় বঞ্চিতরা আশায় ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: চার মাস আগে গঠন করা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পান খুনের আসামি, মাদক কারবারি, বিবাহিত, বয়স উত্তীর্ণ এবং এমনকি ছাত্রদলের নেতাও। তখনই ছাত্রলীগের নেতাদের একটি অংশ দাবি তোলে, কমিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বিতর্কিত। ৩০১ সদস্যের মধ্যে বিতর্কিত হিসেবে ৯৯ জনের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করে তারা। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। গত শনিবার ছাত্রলীগের এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে। মাদকসংশ্লিষ্টতা, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগে সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করা হয়। এখন আতঙ্ক ভর করেছে বিতর্কিত নেতাসহ অনেকের মধ্যে। তাঁদের ধারণা, শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সরে যেতে হয়েছে, কাজেই সংগঠনকে বিতর্ক বা কলঙ্কমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে আশার আলো দেখছেন পদবঞ্চিতরা। গত মে সামে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের একটি অংশের আন্দোলন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে শোভন-রাব্বানী বিতর্কিত ১৯ জনের নাম প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে বিতর্কিতদের পদ শূন্য করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, কিন্তু কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসায় বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার দাবি আবারও জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কমিটিতে পদবঞ্চিতরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়া শীর্ষ দুই নেতা আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য পদবঞ্চিত অনেককে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছেন। পদবঞ্চিতরা বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। পদবঞ্চিতরা বলছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কিংবা সাবেক নেতাদের অনুসারী বিবেচনা করে অনেক সক্রিয় নেতাকে পদ দেওয়া হয়নি। তাঁদের সঙ্গে অন্যায্য ও অন্যায় করা হয়েছে। যাঁরা এটা করেছেন, ‘প্রকৃতির ন্যায়বিচারে’ তাঁদের সংগঠন থেকেই অপসারিত হতে হয়েছে। ছাত্রলীগের তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটিতে অর্ধশতাধিকের বেশি পদ পেয়েছেন অপরাধী ও বিতর্কিতরা। পদ বাগিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি, হত্যা মামলার আসামি, নাশকতা মামলার আসামিরাও। ছাত্রদল নেতা, রাজাকারপুত্র ও বিবাহিতরাও কৌশলে পেয়েছেন পদ-পদবি। আছেন বয়স উত্তীর্ণ ও চাকরিজীবীরাও। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর ‘গ’ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না। এ ছাড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ২৯ বছরের বেশি বয়সী কারো ছাত্রলীগের পদে আসার সুযোগ নেই। পদ পাওয়া বিতর্কিত অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার শঙ্কার কথা জানা গেছে। তবে তাঁরা কেউ নাম প্রকাশ করতে চান না। সহসভাপতি পদধারী এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অন্য সংগঠন করার অভিযোগ তোলা হয়েছে, কিন্তু সে বিষয়ে শোভন-রাব্বানী ভাইকে প্রমাণ দেখিয়েছি। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব আসায় বিষয়টি নিয়ে কী হবে বুঝতে পারছি না।’ আরেক নেতা বলেন, ‘আমি বিবাহিত না, তার পরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। হ্যাঁ, বিয়ে হয়েছিল কিন্তু সেটা এখন নেই। তাই বলে ছাত্রলীগ করা যাবে না? ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। কারণ আগের দুই নেতাকে প্রমাণাদি দেখিয়ে সমাধান করা হয়েছে। এখন আবারও সে বিষয়টি উঠছে।’ ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাদের মুখপাত্র রাকিব হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করতে বিতর্কিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরানো হয়েছে। কমিটিতে আরো যারা বিতর্কিত রয়েছে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই তথ্য-প্রমাণ আছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন নেতৃত্বের কাছে প্রত্যাশা, যোগ্যতা থাকার পরও যাদের পদ দেওয়া হয়নি তাদেরকে পদ দিতে হবে। নতুন নেতারা দায়িত্ব পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে রাখছেন, কর্মসূচিতে নিচ্ছেন। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক।’ চাঙ্গা অঞ্চলভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি : কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চল থেকে একজন করে নেতা নির্বাচিত হওয়া ছাত্রলীগে অলিখিত নিয়ম। তবে এই নীতি ভেঙে বরিশাল অঞ্চল থেকে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে কোনো নেতা নির্বাচিত হননি। খুলনা অঞ্চল থেকেও এবার কেউ নেতা হননি। সদ্যোবিদায়ি সভাপতির বাড়ি কুড়িগ্রাম আর সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি মাদারীপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির বাড়ি ময়মনসিংহ অঞ্চলে আর সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পঞ্চগড়। অর্থাৎ এবারই প্রথম উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীরা দুজন নেতা পেয়েছিলেন। তবে দুই শীর্ষ নেতা অপসারিত হওয়ায় বরিশাল থেকে সভাপতি ও যশোর থেকে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এখন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল, উত্তরবঙ্গ, বরিশাল ও বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের ছাত্রনেতারা আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। যদিও শোভন-রাব্বানী কমিটিতে বরিশাল ও খুলনার অনেক নেতার স্থান হয়নি কেবল অঞ্চলভিত্তিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল থেকেও ছাত্রলীগে শীর্ষ নেতৃত্ব উঠে আসেনি দীর্ঘ সময়েও। সিলেট অঞ্চল থেকে বহু বছর পর বছর দুয়েক আগে একজন শীর্ষ পদে উঠে আসেন। ঢাবির হল কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা শঙ্কায় : শোভন-রাব্বানীর পতনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি হলের ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরাও শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন। কারণ প্রতিটি হলেই শোভন ও রাব্বানীর অনুসারী রয়েছে। তাঁরা এখন কোন দিকে যাবেন সেটাই ভাবছেন। আবার বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। পদপ্রত্যাশী বেশি হওয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের শঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। বিজয় একাত্তর হলে শোভনের অনুসারী রকি রায়হান বলেন, ‘এটা এক ধরনের শঙ্কা। আসলে ছাত্রলীগে যোগ্য হলেও কে কার অনুসারী সেটা বিবেচনা করেই পদ দেওয়া হয়। শোভন ভাই না থাকায় পদ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য: ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘আমরা কেবল দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এখনো আমরা দেখা করতে পারিনি। তিনি আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন। আমরা সেখানে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া ও পদবঞ্চিতদের বিষয়গুলো আলোচনা করব। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে।’ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করতে যা যা করা প্রয়োজন, নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তা করব। কারো জন্য ছাত্রলীগ কলঙ্কিত হবে সেটা হতে দেব না। খুব শিগগির এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)