অনুমোদন ছাড়াই চলছে আঁখি তারা ক্লিনিকের কার্যক্রম!

আপলোড তারিখঃ 2019-09-14 ইং
অনুমোদন ছাড়াই চলছে আঁখি তারা ক্লিনিকের কার্যক্রম! ছবির ক্যাপশন:
প্রসূতি আমেনা খাতুনের দাফন সম্পন্ন, ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীকে অবহেলার অভিযোগ ডা. হোসনে জারি তাহমিনা আঁখি ও তাঁর স্বামী ডা. তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলছেন প্রসূতি আমেনার মা নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালে (আঁখি তারা ক্লিনিক) সিজারের পর মৃত্যুবরণ করা প্রসূতি আমেনা খাতুনের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ ফুটবল মাঠে আমেনার জানাজার নামাজ শেষে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনার বিচার দাবি করে মৃত্যুবরণ করা প্রসূতি আমেনা খাতুনের স্বজনেরা এ প্রতিবেদককে জানান, ডাক্তারের অবহেলার কারণে প্রসূতি আমেনার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনায় আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জেলার সচেতনমহল জোর দাবি জানিয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালের (আঁখি তারা ক্লিনিক) কোনো অনুমোদন নেই। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অনুমোদন ছাড়াই এই ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। সরকারি নীতিমালা অমান্য করে চটকদার বিজ্ঞাপন, ব্যানার ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ঠিক সিভিল সার্জস অফিসের পিছনে কীভাবে এ ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর মনে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানান, এই ক্লিনিকের মালিক পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায়, তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনৈতিক উপায়ে ম্যানেজ করেই সবার নাকের ডগায় অবৈধভাবে আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের প্রসূতি নারীদের বাগিয়ে ক্লিনিকে নিয়ে আসার জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা দালালেরা যেমন কমিশন নিচ্ছেন, ঠিক তেমনি অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা আয় করছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্মরতসহ অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অর্থের বিনিময়ে সিজারিয়ান ও বিভিন্ন অপারেশন করতে অনুমোদনহীন আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতালে (আঁখি তারা ক্লিনিক) যান। না প্রকাশ না করার শর্তে সুশীল সমাজের একজন এ প্রতিবেদককে বলেন, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভালো করেই জানেন, তিনি অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে অপারেশন করতে পারেন না। তারপরেও নিজের বিবেক টাকার কাছে বির্সজন দিয়ে এসব অনুমোদনহীন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে অপারেশন করে থাকেন। যেটা তাঁদের কাছে কাম্য নয়। আমেনা খাতুনের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা আঁখিতারা জেনারেল হাসপাতালে সময় হওয়ার আগেই আমার মেয়েকে সিজার করেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হোসনে জারি তাহমিনা আঁখি ও তাঁর স্বামী ডাক্তার তরিকুল ইসলাম। এ সময় তাঁরা আমার মেয়ের কোনো এক নাড়ি ভুল করে কেটে ফেলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আমার অবস্থা বেগতিক দেখে সন্ধ্যার দিকে তাঁরা নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে অচেতন অবস্থায় আমার মেয়েকে রাজশাহী পাঠিয়ে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর আমার মেয়ে মারা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে ডাক্তাররাই মেরে ফেলল। আমি এর বিচার চাই।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আঁখি তারা জেনারেল হাসপাতলের গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. হোসনে জারি তহমিনা আঁখি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসকই চান না একটা রোগী মারা যাক। আমরা রোগীদের সুস্থ করে তুলতেই চিকিৎসা দিয়ে থাকি। আমেনা খাতুনের সিজার আমি ও আমার স্বামী এনেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট ডা. তরিকুল ইসলাম মিলে করেছি। তাঁর সিজার খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা হয়। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এক ঘণ্টারও বেশি সময় থাকার পর আমেনা খাতুনের পেটের অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে রক্ত বের হতে থাকে। তাই পুনরায় তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের অনুমতি নিয়েই তাঁর জরায়ু নারি কেটে ফেলা হয়। এরপরও তাঁর রক্তক্ষরণ কমেনি। তিনি কার্ডিয়াক অ্যাটাকের শিকার হন। আমেনা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।’ এনেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, আমেনা খাতুনের সিজার সফলভাবেই সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকাকালীন তাঁর কার্ডিয়াক এ্যাটাক হয়। তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে রেফার্ড করা হয়। রাজশাহী যাওয়ার পথের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘শুনেছি আঁখিতারা জেনারেল হাসপাতালে এক প্রসূতি মারা গিয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। অনুমোদনবিহীন এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আইনসম্মত নয়।’ খুব শিগগিরই ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সী বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পর্কে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)