ছবির ক্যাপশন:
কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নবাগত ডিসি নজরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক:
‘আজ থেকে আমি চুয়াডাঙ্গা পরিবারের সদস্য হলাম। আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এ জেলার উন্নয়নে কাজ করব। সবাই মিলে এ জেলাকে আদর্শ ও মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলব।’ গতকাল রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘একজন জেলা প্রশাসকের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব না। আপনাদের যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে আমাকে সহযোগিতা করবেন। নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে হবে। আমি কাজ করতে এসেছি। আপনাদের মধ্যে নতুন কোনো উদ্ভাবনী পরিকল্পনা থাকলে বলবেন, তা বাস্তবায়নে আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করব।’
চুয়াডাঙ্গাকে মডেল জেলা হিসেবে রূপান্তরের গুরুত্বারোপ করে নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা এ জেলাকে মডেল জেলায় রূপান্তর করতে পারব। এ জন্য সবার চেষ্টা থাকতে হবে। সবার উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরামর্শ কাজে লাগাতে হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে আমি কোনো সহযোগিতা করব না। তাঁর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আমি জিরো টলারেন্স। দুর্নীতিমুক্তভাবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করব।’
নজরুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, ‘আমি এখানে আসার পর দামুড়হুদার শিবনগরে ডিসি ইকোপার্ক পরিদর্শন করেছি। বেশ বড় জায়গা নিয়ে মনোরম পরিবেশে এ পার্ক গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে এ পার্কটির আধুনিকায়ন করা হলে পর্যটনের নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে। এ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। এরপর আমি চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার সংযোগস্থাপনকারী অতি ঝুঁকিপূর্ণ মাথাভাঙ্গা সেতুটি পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে অতিদ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করব। সেই সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের একমাত্র রেলক্রসিং আন্ডারপাস সংস্কারসহ উড়াল সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন, আমি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ জেলায় দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার সচিব মহোদয় আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছেন যে ঝুঁকিপূর্ণ মথাভাঙ্গা সেতু ও রেলওয়ের ওভারপাস নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাজ্জাদ সরোয়ার, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ, সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ রেজাউল করিম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আব্দুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মুহা. শামসুজ্জোহা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মালিক, প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, প্রফেসর এস এম ই¯্রাফিল, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী হাসান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম রবিউল ইসলাম, জেলা স্কাউটসের সম্পাদক আব্দুল হান্নান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান কচি, সাবেক সভাপতি আজাদ মালিতা, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম ডালিম, সাংবাদিক হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ, আলমডাঙ্গা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাড. খন্দকার সালমুন আহমেদ ডন প্রমুখ।
