চুয়াডাঙ্গায় শিকলবন্দী কিশোরী, পুলিশে নালিশ!

আপলোড তারিখঃ 2019-08-29 ইং
চুয়াডাঙ্গায় শিকলবন্দী কিশোরী, পুলিশে নালিশ! ছবির ক্যাপশন:
সোহেল রানা ডালিম: ভাংড়ি দ্রব্য কুড়িয়ে বিক্রি করে সংসার চালান পাঁচ সন্তানের জননী চুয়ডাঙ্গা রেলস্টেশন-সংলগ্ন বস্তি এলাকার ফিরোজা বেগম। সমাজে নিজের কোনো পরিচয় না থাকলেও ফিরোজা বেগম চেয়েছিলেন তাঁর কিশোরী মেয়ে যেন একদিন নিজের পরিচয় তৈরি করে। তাই মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে স্কুল ছেড়ে জড়িয়ে পড়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে মাদকাসক্ত। তার এই উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে পরিবারের লোকজন। তাই কিশোরী মেয়েকে সঠিক পথে আনতে শিকল দিয়ে বেধে রাখতেন মা ফিরোজা বেগম। কিন্তু বেপরোয়া ওই কিশোরী শিকল ভেঙে পালিয়ে এসে সেই মায়ের নামেই করল পুলিশে নালিশ। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা ও নানি থানায় উপস্থিত হয়ে জানায়, উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন ও মাদকসেবনের জন্যই তাকে শিকলবন্দী করা হয়েছিল। পরে পুলিশ বিস্তারিত শুনে মা ফিরোজা বেগমকে ওই কিশোরীকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে লিখিতভাবে তাঁর জিম্মাই দেন। জানা যায়, রাস্তার ধারে, বিভিন্ন ময়লার স্তুপে লোহার টুকরো (ভাংড়ি) কুড়িয়ে সংসারের ঘানিটানা ফিরোজার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়ের মধ্যে মাদকাসক্ত ওই কিশোরী (১৪) দ্বিতীয়। পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত ওই কিশোরী। তবে এখন আর লেখাপড়া করে না সে। ভাংড়ি কুড়াতে দর্শনা, আলমডাঙ্গা, জীননগরসহ চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয় ওই কিশোরীর মা ফিরোজাকে। আর এই সুযোগে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে ওই কিশোরীর জীবন। হঠাৎ করেই তার চলাফেরার ধরণ পাল্টে যায়। মাঝেমধ্যেই রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে দুই-তিন দিন বাইরে থাকার পর আবারও বাড়ি ফিরে আসে। দুইমাস আগে ফিরোজা বেগম দেখেন তাঁর মেয়ে বমি করছে, সেই সঙ্গে প্রচুর রক্ত উঠছে মুখ দিয়ে। ওই ঘটনার পর ফিরোজা বেগম মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে ঘুমের বড়ি খাওয়ার কথা স্বীকার করে কিশোরী। এরপর থেকেই মেয়েকে চোখে চোখে রাখেন তাঁরা। তবে সুযোগ পেলেই পালিয়ে যায় ওই কিশোরী। কোনো উপায় না পেয়ে গত মঙ্গলবার সকালে পায়ে শিকল বেধে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় ওই কিশোরীকে। পরদিন অর্থাৎ গতকাল বৃহস্পতিবার কৌশলে পায়ে পরানো শিকলের তালা ভেঙে পালিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়িতে এসে মায়ের নামে অভিযোগ করে সে। সদর ফাঁড়ি থেকে তাকে থানায় পাঠালে, থানায় মায়ের নামে নালিশ করে মাদকাসক্ত ওই কিশোরী। এ ঘটনায় তার মাকে ডাকা হয় থানায়। ওই কিশোরীর মা ও নানি থানায় এলে জানা যায়, হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে ওঠা মাদকসেবী ওই কিশোরীর কাহিনী। পরে ওই কিশোরীকে মাদকের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে সদর থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার কর্র্তৃপক্ষ ওই কিশোরীকে প্রয়োজনে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে লিখিতভাবে মা ফিরোজার জিম্মাই দেয়। ওই কিশোরীর মা ফিরোজা বেগম বলেন, কিভাবে ঘুমের বড়ি খাওয়া শিখল তাঁর মেয়ে, তা কিছুই জানতে পারেননি তাঁর পরিবারের লোকজন। তবে ঘুমের বড়ি খাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কোথায় বা কে তাকে এগুলো দেয়, এ বিষয়ে কিছুই বলে না সে। তবে এর থেকে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করলে সে তাঁদের মেরে ফেলারও হুমকি দেখায়। এ সময় ওই কিশোরীর মা আরও বলেন, এতটুকু একটা মেয়ের এ রকম আচরণে প্রতিবেশিদের সমালোচনার মুখে পড়েতে হয় তাঁর পরিবারকে। অনেক সময় তাঁদের এ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি-ধামকিও দিচ্ছে প্রতিবেশীরা। ওই কিশোরীর নানী নিলুফার বলেন, ফিরোজা ভাংড়ি কুড়াতে গেলে তাঁর কাছে রেখে যেতেন ওই কিশোরীকে। মাঝেমধ্যে ওই কিশোরী তার নানীকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। কয়েকদিন আগে বাইরে যেতে বাধা দিলে গলাই দড়ি দেওয়ারও হুমকি দেখায় সে। পরে উপায় না পেয়ে ওই কিশোরীকে পায়ে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন তাঁর মা। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এইচ এম লুৎফুল কবীর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে শিকলের তালা ভেঙে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়িতে যায় ওই কিশোরী। সদর ফাঁড়ি থেকে থানায় পাঠালে তার মায়ের নামে নালিশ করে সে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মাকে থানায় ডাকা হলে মূল ঘটনা আমরা জানতে পারি। পরে ওই কিশোরীকে প্রয়োজনে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে লিখিতভাবে মা ফিরোজার জিম্মাই মাদকাসক্ত ওই কিশোরীকে দেওয়া হয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)