ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে রোড সেফটি অথরিটি গঠন, রাজধানী থেকে রিকশা তুলে দেয়া, চালক ও ট্রাফিক পুলিশের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ, রাস্তায় প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও সড়কে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা সহ ১১১টি সুপারিশ করেছে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কাছে সুপারিশের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্য কমিটি গঠন করা হয় জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬ সভায়। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৭ সভায় এই সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হবে। এরপর আলোচনা, পর্যালোচনা শেষে তা বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্স তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এ বিষয়ে সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি পরপর সাতটি সভার মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে এবং সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। প্রতিবেদনে ১১১টি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে আশুকরণীয় ৫০টি, স্বল্প মেয়াদি ৩২টি এবং দীর্ঘমেয়াদি ২৯টি। সড়ক ও সড়কে চলাচলের পরিবেশ, অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অসর্তকতা, সড়ক নির্মাণে প্রকৌশলগত ত্রুটি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দফতর/সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালনে অনীহা, যানবাহন ও সড়ক ব্যবহারকারী তথা চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবার অসচতেনতা, সড়কের পাশে বসবাসরত জনগণের অসচতেনতা ইত্যাদি। প্রতিবেদনে সুপারিশসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা ও শিক্ষা, প্রচার প্রচারণা, মহাসড়কের প্রকৌশলগত বিষয়াদি, কারিগরি দিক, রাস্তার ওপর বিভিন্ন স্থাপনা ও রাস্তার দুপাশে বৃক্ষরোপন, হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা/ইজারা প্রদান, বাস স্টপেজ, বাস-বে, ডিভাইডার, লেন, লেভেল ক্রসিং, মহাসড়কের সঙ্গে গ্রামীণ রাস্তার সংযোগ, ঢাকা শহরের বাস ফ্রাঞ্চাইজিং, ফিটনেসবিহনী লক্কর-ঝক্কর যানবাহন এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা আহ্বান করে এ সব সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হবে। সুপারিশমালা বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করার প্রস্তাবনা রয়েছে। এ কাজটি যত দ্রুত করা সম্ভব। কারণ দুর্ঘটনা, যানজট এসব বিষয় আজকে একটা দুর্ভাবনা হয়ে গেছে এবং দুশ্চিন্তার বিষয়। সাধারণত কমিটি গঠনের পর প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। তবে এটি তার ব্যতিক্রম। সুপারিশ করে কোন লাভ নেই যদি এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সঠিক ও যথাযথ না হয়। আমরা আসলে ভাষণের চেয়ে অ্যাকশনকেই গুরুত্ব দিতে চাই। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে আরও আট জন সদস্যকে কো-অপ্ট করা হয় কমিটিতে। সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে বিষয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আইনের বিধিমালা প্রণয়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী বসে আলোচনা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরলে বিষয়টি আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আইন ঠিক রেখে কোন অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হবে।
