দর্শনা-জীবননগর রুট দিয়ে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা!

আপলোড তারিখঃ 2019-08-17 ইং
দর্শনা-জীবননগর রুট দিয়ে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা! ছবির ক্যাপশন:
এবারও পশুর চামড়ার বাজার মন্দা, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসা-এতিমখানাগুলো মেহেরাব্বিন সানভী: এবারও পশুর চামড়ার বাজার মন্দা। দেশের বাজারে চামড়ার মূল্য কম হওয়ায় তা পাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতে। অন্যদিকে কোরবানির পশুর চামড়া থেকে দেশের কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর বেশ ভালো একটি আয় হতো, কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চামড়ার মূল্য কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো। দরিদ্র ও অসহায় ছাত্রদের শিক্ষাসেবা দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ভারতে বিজেপি সরকার আসার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে গো-রক্ষার নীতি গ্রহণ করায় ভারতীয় বাজারে চামড়ার চাহিদা এখন তুঙ্গে। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছেন বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তাঁরা দেশীয় বাজার থেকে স্বল্পমূল্যে চামড়া কিনে তা ভারতে পাচার করে দিচ্ছেন। দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কোরবানির চামড়ার প্রায় অর্ধেকই পাচার হয়ে যায় ভারতে। ভারতের চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানির পূর্বে শত শত কোটি টাকা তুলে দেন পাচারকারী চক্রের হাতে। তাঁরা চামড়ার মূল্যও দেন স্থানীয় বাজারের প্রায় দ্বিগুণ। ফলে পাচারকারী চক্র চামড়া সংগ্রহে মরিয়া হয়ে ওঠে। ভারতের বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গরু জবাই নিষিদ্ধ করে। এতে ভারতের ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়ার ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়। ভারতে কাঁচা চামড়ার চাহিদা সামনে রেখে পরিকল্পনা করে এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমিয়ে দেয় বাংলাদেশের ট্যানারির মালিকদের সিন্ডিকেট। এ বছরও চুয়াডাঙ্গার চামড়ার বাজারগুলোতে অনেক কম দামে বেচাকেনার দৃশ্য চোখে পড়েছে। রেলবাজারের চামড়া ব্যবসায়ী সামসুল আলম টুটুল সময়ের সমীকরণকে বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে চামড়ার দাম খুবই কম। এ বছরও অনেক কম দামে চামড়া কিনেছি, সে তুলনায় লাভ হবে খুব সীমিত। প্রতিটি চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে এক থেকে দেড় কেজি লবণ প্রয়োজন হয়। আগে ১ কেজি লবণ কিনতে ৫-৬ টাকা লাগত, আর এখন তা ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। ফলে লবণের দাম পোষাতে চামড়ার কিছুটা মূল্যহ্রাস হচ্ছে প্রক্রিয়াজাতকরণেও।’ চুয়াডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষক মাহফুজুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও শহরের বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর চামড়া তাঁরা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ৮৬টি গরুর চামড়া ও ৫২৫টি ছাগলের চামড়া। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট ৬ শ টাকা দরে গরুর চামড়া ও ৭০ টাকা দরে ছাগলের চামড়া বিক্রয় করেন তিনি। তিন বছর আগেও এ সব চামড়ার মূল্য ছিল বর্তমান দামের তিনগুণ। চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় তাঁরা বছরের বড় একটি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানা যায়। অজ্ঞাতনামা কারণে বিগত বছরের চেয়ে চামড়ার দাম খুবই কম স্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও দেশের চামড়া বাজারের প্রতি সুনজর না থাকায় এমনটি ঘটেছে। তা ছাড়া কিছু অসাধু চামড়া ও ট্যানারি ব্যবসায়ী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দাম কমিয়ে বাজারে মন্দাভাব সৃষ্টি করছেন। যেখানে পার্শ্ববর্তী ভারতে চামড়ার মূল্য দেশের বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি।’ চামড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে উপকৃত হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। সেখানে বর্তমানে প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়ার মূল্য প্রায় ৩০ টাকা, যা বাংলাদেশের নির্ধারিত দরের প্রায় দ্বিগুণ। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের চামড়ার মান ভালো অথচ দাম অনেক কম থাকায় প্রতিবছরই ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা থাকে। জানা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ সাধারণত এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিংসহ সমাজের গরিব-দুঃখী মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ফলে চামড়ার দাম কমে গেলে দুস্থ-অসহায় মানুষের ভাগে লাভের পরিমাণও কম হবে। ঘোষণা অনুযায়ী, ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কিনবেন। আর খাসির কাঁচা চামড়া সারা দেশে ১৮-২০ এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা দরে কেনাবেচা হবে। এদিকে, পর্যবেক্ষক মহলের অভিযোগ ভারতের চেয়ে পরিকল্পিতভাবে দাম কমিয়ে চামড়া পাচারের সুযোগকে সহজ করা হয়েছে। অথচ চামড়াজাত পণ্যের মূল্য আকাশ ছোঁয়া। তারপরও দাম বাড়ছে না কাঁচা চামড়ার। দেখা যায়, কাঁচামাল ক্রয় ও পণ্যের বিক্রয় মূল্য আকাশ-পাতাল দূরত্ব। কোরবানির ঈদের আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় ভারতে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার চামড়া সরাসরি ঢাকামুখী করার নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক এখনো চুয়াডাঙ্গার বাজারের চামড়া সীমান্ত পার হতে পারেনি। তবে সীমান্তে সতর্কাবস্থা না থাকলে হয়তো কিছুদিন প্রক্রিয়াজাত করে রাখার পর তা পাচার করা হতে পারে বিভিন্ন রুটে। ফলে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটা তারতম্য থেকেই যায়। অথচ এ দেশের পশুর চামড়ার মান বিশ্বে এক নম্বর হওয়ায় দামও আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্ত পথে ভারতে চামড়া পাচারের রুট হিসেবে সীমান্ত এলাকার ১০টি পয়েন্টকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে বেনাপোল, সাতক্ষীরার কলারোয়া, জীবননগর, মেহেরপুর, দর্শনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সোনা মসজিদ, রাজশাহীর গোদাগাড়ি, জাফলং, তামাবিল ও করিমগঞ্জ। এসব পয়েন্টে চোরাচালান চক্রের চিহ্নিত ব্যক্তিদের আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়। তবে ভারতের চামড়া পাচার রোধে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)