আরও ২৫ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা

আপলোড তারিখঃ 2019-08-03 ইং
আরও ২৫ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা ছবির ক্যাপশন:
সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে সমীকরণ প্রতিবেদন: চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। ৬৪ জেলাতেই এখন ডেঙ্গুর বিস্তার। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকাও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৬৮৭। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি আর কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। গত বৃহস্পতিবার নতুন করে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১২। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ১ জনের বেশি ভর্তি হয়েছেন। এদিকে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ২ জন ও ঝিনাইদহে ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও দুই রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁদের ডেঙ্গু আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেন। বিকেলে আরও দুই রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে দেখা হচ্ছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কি না। ডেঙ্গু আক্রান্তরা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের আব্দুস সালামের ছেলে রোকনুজ্জামান (১৮) ও চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মহিলা কলেজপাড়ার মামুন রেজার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা (২১)। আক্রান্তরা ঢাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ছিলেন। জ্বরে আক্রান্ত হলে চুয়াডাঙ্গায় এসে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে চুয়াডাঙ্গায় সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করে তাদের। এ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৩ জন। ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে এখন সামান্য জ্বর হলেই হাসপাতালে ছুটে আসছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। গত ১৭ দিনে কয়েক শ ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষা করা হলেও ধরা পড়েছে ৪৩ জনের। তাঁদের মধ্যে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), দুজন শিশুসহ ভর্তি আছে ২৩ জন। ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে চারজনকে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অপূর্ব কুমার সাহা গতকাল দুপুরে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রতিদিন ডেঙ্গু সন্দেহে ৫০-৬০ জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছে। সামান্য সর্দি-জ্বর হলেই মানুষ আতঙ্কে ছুটে আসছে হাসপাতালে। এ কারণে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় জায়গা নেই। ডা. অপূর্ব কুমার সাহা জানান, এত দিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস (কিট) ছিল না। গত বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে মাত্র এক শ রোগীর জন্য রিএজেন্ট এসেছে। এ দিয়ে আতঙ্কিত রোগীদের সামলানো কষ্ট হচ্ছে। কেউ প্যাথলজি বিভাগে এসে হুমকি দিচ্ছে, আবার কেউ মারতে উদ্যত হচ্ছে। অল্পসংখ্যক ডিভাইস নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পড়েছে বিপাকে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২৩ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের সবার অবস্থা মোটামুটি ভালো। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। স্বাভাবিক রোগ হিসেবেই ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এর চিকিৎসা ও ফ্রি রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তরা হলেন ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারী পাড়ার আব্দুস সালাম, শামিম, হরিণাকু-ুর মালিপাড়ার মহসিন, শৈলকুপার সিদ্দিক, কবিরপুরের সিরাজুল, মহেশপুর থানার এএসআই মামুন অর রশিদ মহন ও শৈলকুপার দুধসর গ্রামের মিল্টন প্রমুখ। উল্লেখ্য, মহেশপুর থানার সেকেন্ড অফিসার আনিচুর রহমান ও এএসআই আসাদ-ই-আলম প্রথম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে গত ১৫ জুলাই ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন এএসআই আসাদ-ই-আলম। এএসআই আসাদ-ই-আলম চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের বদরুল আলমের ছেলে। সেকেন্ড অফিসার আনিচুর রহমান ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মহেশপুর থানায় যোগদান করেছেন বলে জানান ওসি রাশেদুল আলম। এ ঘটনার পর থেকেই ঝিনাইদহে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)