ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় বাস-ট্রাকের হাইড্রোলিক হর্নের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ পৌরবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় বাস ও ট্রাকচালকদের হরহামেশা বাজানো হাইড্রোলিক হর্নের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। এ সব বাস-ট্রাকের হাইড্রোলিক হর্নের শব্দসহ আলমসাধুর শব্দের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার জনগণ। এ ধরনের উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধে আইন আছে, তাতে জরিমানা করার বিধানও আছে। তবে প্রশ্ন, আইন প্রয়োগ করবে কে, জরিমানাটি দেবে কে। সাধারণ জনগণ বলছেন, আইনটি যারা প্রয়োগ করবে, সেই ট্রাফিক পুলিশের সামনেও দেদার বাজানো হচ্ছে হাইড্রোলিক হর্ন। আলমসাধুর চালকেরা বট-বট শব্দ করে বিনা বাধায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযান নিয়মিত চলছে।
চুয়াডাঙ্গার আশপাশের প্রতিটি জেলাতেই বাইপাস সড়ক আছে। ২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে রূপকথার গল্পের মতোই শোনা যাচ্ছে এ জেলাতেও হবে বাইপাস সড়ক। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করতে পারেনি। ফলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ওপর দিয়ে হরহামেশা উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে বিনা বাধায় চলাচল করছে বাস-ট্রাক, ভারী যানবাহনসহ অবৈধ আলমসাধু। আর এদিকে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ এ জেলার অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, কোর্ট রোড ও কলেজ রোডের কোলঘেঁষে গড়ে উঠেছে। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই প্রতিদিন এ ধরনের শব্দ দূষণ সহ্য করে নিচ্ছে এসব মানুষেরা।
হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী ট্রাকচালক বড় গাংনীর আশাবুল তাঁর ট্রাকে হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে টার্মিনাল হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। টার্মিনালের কাছে থামতেই উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্নের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর থেকে ড্রেইভারি করচি, কোনো দিন সমস্যা হয়নি। তা ছাড়া হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে আইন আচে, জরিমানা আচে সেটাও আমি জানি। তবে কোনো দিন জরিমানা দিতে হয়নি।’
তবে সাধারণ জনগণের অভিযোগ এ ধরনের উচ্চ শব্দে প্রতিনিয়তই নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। তাঁরা আরও অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সৃষ্ট শব্দ যে পরিমাণ বেড়েছে, তাতে মাথাধরা, নিদ্রাহীনতা, বধির হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, হৃদ্্রোগের ঝুঁকিসহ নানা ধরনের সমস্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে পথচলতি অবস্থায় বিকট শব্দে হাইড্রোলিক হর্ন দিলে মনে হয় শরীর ভেদ করে শব্দটি বেরিয়ে গেল। তা ছাড়াও এ ধরনের শব্দে ছোট শিশুসহ গর্ভবতী মায়েরা ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ সময় তাঁরা আরও অভিযোগ করে বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধে আইন আছে, তাতে জরিমানা করারও বিধান আছে। তবে আইনটি কার্যকরসহ জরিমানা করবে কে, জরিমানাটি দেবেই বা কে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সামনেও দেদার বাজানো হচ্ছে হাইড্রোলিক হর্ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ব্যাপক হারে বেড়েছে শব্দ দূষণ। ফলে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ কিছু রোগ-বালাই। তবে বেশি ক্ষতির মুখে আছে শিশু, গর্ভবতী মহিলাসহ হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সাধারণভাবে ৫০ থেকে ৬০ ডেসিবেল শব্দ দূষণ মানুষের সহ্য ক্ষমতার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে শব্দ দূষণের মাত্রা ছাড়িয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ ডেসিবেল। যেটা তাঁদের ধারণারও বাইরে বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে এ জেলার মানুষ।
এদিকে হাইড্রোলিক হর্নসহ উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যানবাহনের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মাহাবুব কবিরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান অব্যাহত আছে। আগামীতে এ অভিযান আরও বাড়ানো হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইন আছে ঠিকই, আইনে জরিমানাটা খুবই কম। ফলে বারবার মামলা দিয়ে ফাইন করেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এসব বেপরোয়া চালকদের। অনেক সময় হাইড্রোলিক হর্নের মাইক খুলে নিলেও পরদিনই আবার ওই সব গাড়িতেই লাগানো হচ্ছে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র। তবে আগামীতে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী এসব যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
