সেমিফাইনাল স্বপ্নের সমাধি

আপলোড তারিখঃ 2019-07-03 ইং
সেমিফাইনাল স্বপ্নের সমাধি ছবির ক্যাপশন:
খেলা প্রতিবেদন: স্নায়ুচাপ সামলাতে না পারার খেরাসত দিল টাইগাররা। যারা উইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রান টপকে ম্যাচ জিতে তারা গতকাল বার্মিংহামের এজবাস্টনে ভারতের ৩১৪ রানের চ্যালেঞ্জ জবাবে ২৮৬ রানে গুটিয়ে যাবে। এ ভাবনা সমর্থকদের মাথায় কখনো ভর করেনি। এ বিশ^কাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনশ প্লাস রান করে তাদের কাছে কোহলিদের রান তাড়া করা কঠিন কিছু নয়। এ সমীকরণ শুরুতেই বাস্তবায়ন করতে পারেনি তামিম ইকবাল। মারকুটে এ ওপেনার এই বিশ^কাপে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। দলীয় ৩৯ রানে তামিম বিদায় নিলে ধৈর্য হারা হন সৌম্য। ৭৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যে চাপে পড়ে তা আর কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। সাকিব-মুশফিক এবং সাইফ উদ্দিন-সাব্বির জুটি ভারতীয় শিবিরে ভীতি জাগিয়ে তুলে ম্যাচে নাটকীয়তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে সাইফউদ্দিনের সাহসী ব্যাটিং টাইগার সমর্থকদের মুগ্ধ করেছে। ৩৮ বলে ৫১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি। এ বিশ^কাপে ব্যাট হাতে সফল সাকিব আল হাসান গতকাল ৬৬ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন। ৭ ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৫৪২ রান করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ভারতের রোহিত শর্মা ২ রান বেশি নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তামিমের হাতে জীবন পেয়ে ১০৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রোহিত শর্মা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২৮ রানের জয় পেয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল কোহলিরা। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড ৮ ম্যাচ শেষে ১৪, ১৩, ১১ ও ১০ পয়েন্ট নিয়ে সেমির দরজায় কড়া নাড়ছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সমান ৮ ম্যাচ থেকে ৯ এবং ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেমির স্বপ্ন দেখছে। শ্রীলঙ্কা তাদের শেষ ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে। পাকিস্তান খেলবে টাইগারদের বিপক্ষে। আজ ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে যারা জিতবে তারা তৃতীয় দল হিসেবে সেমির টিকেট নিশ্চিত করবে। টাইগারদের সেমির স্বপ্ন যে শেষ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নিউজিল্যান্ড যদি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারে অন্যদিকে পাকিস্তান যদি মাশরাফিদের হারাতে পারে তাহলে চতুর্থ হিসেবে পাকিস্তান কিংবা নিউজিল্যান্ডের সম্ভাবনা থাকবে। শ্রীলঙ্কা ভারতকে হারাতে পারলে পয়েন্ট হবে ১০। এ মুহূতে এ হচ্ছে সেমির সমীকরণ। সেমিফাইনালে যেতে হলে ভারতের বিপক্ষে জিততেই হবে- এমন সমীকরণকে সামনে রেখে বিরাট কোহলিদের বিপক্ষে গতকাল খেলতে নামে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি। বার্মিংহামের এজবাস্টনের মাটি ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গরাজ্য। ২০১৫ সালে এ মাঠেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংলিশরা ৫০ ওভারে ৪০৮ রান সংগ্রহ করেছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই টসে জিতে কোহলি ব্যাটিং নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মাও দলকে এনে দেন উড়ন্ত সূচনা। তারা দুজনে মিলে করেন ১৮০ রান। এই রানের মধ্যে সেঞ্চুরি করেন রোহিত। এ পর্যন্ত রোহিত শর্মা এই বিশ^কাপে চারটি সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। এর মধ্যে দুটি ম্যাচেই ফিল্ডারদের ভুলে ক্যাচ আউট থেকে বেঁচে গিয়ে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। টাইগারদের বিপক্ষেও বেঁচে যাওয়ার পর যেন ক্রিজে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান করতে সমর্থ হয় কোহলিরা। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের পাহাড়সম রান করা থেকে বিরত রাখার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান নিঃসন্দেহে মোস্তাফিজুর রহমানের। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হলে যেন মোস্তাফিজ বোলিংয়ে পুরোপুরি ধার ফিরে পান। তিনি গতকাল যেন পুরো আগুনের গোলার মতো জ্বলে ওঠেন। ১০ ওভার বল করে ৫৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। বিশ^কাপে মোস্তাফিজ দ্বিতীয় বাংলাদেশি, যিনি এক ম্যাচে ৫ উইকেট তুলে নেয়ার কীর্তি গড়েছেন। তার আগে সাকিব আল হাসান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই বিশ^কাপেই। তিনি যেভাবে বল করছিলেন তাতে ভারতীয় হার্ডহিটার হার্দিক পান্ডিয়া, দীনেশ কার্তিক ও ধোনি কোনো সুবিধাই করতে পারেননি। উল্টো সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে তারা আউট হয়ে যান। এরপর তো তিনি শামিকে সরাসরি বোল্ড আউট করেই সাজঘরে পাঠিয়ে দেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)