ছবির ক্যাপশন:
এ আর মালিকের ইন্ধনে এ হামলা চালানো হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদক:
বাসভবনে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সাবেক যুগ্ম সচিব ড. আব্দুস সবুর। গতকাল সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার রেজিস্ট্রার অফিস-সংলগ্ন তাঁর স্ত্রীর ‘স্বপ্নাঙ্গন’ বাসভবনে এ হামলার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা বিবাদ নেই। ড. এ আর মালিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের একপর্যায়ে এসে অব্যাহতি নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মালিকের (এ.আর মালিক) সঙ্গে ¯œায়ু যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, আমি প্রতিষ্ঠানটি থেকে অর্থ লোপাট ও আত্মসাৎ করেছি। অথচ, প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আমার হাত দিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হতো না। স্কুলের আসবাবসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয়ের সকল প্রকার লেনদেন করতেন স্কুলের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হবি, অ্যাকাউনটেন্ট আব্দুর রশিদ ও এ.আর মালিকের আত্মীয় ম্যানেজার আবুল কালাম এবং এ. আর মালিক নিজেই। আমি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জনসেবামূলক কাজ মনে করে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করি। তবে কোনো প্রকার বেতন ভাতা নিইনি। নামকাওয়াস্তে সম্মানী হিসেবে আমাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হতো। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটিকে সেবামূলক বললেও পরবর্তীতে সে শর্ত টিকিয়ে রাখতে পারেনি মালিক পক্ষ। স্কুলটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রুপান্তর করতে চাপ দিতে থাকে। এ ছাড়াও তাঁর সঙ্গে মতের মিল না হওয়া এবং ব্যক্তিগত একাধিক কারণ উঠে আসায় আমি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যাই। যাওয়ার আগে সকল প্রকার দায়িত্ব ও হিসাব-নিকাশ তাঁর সামনে, তাঁরই অফিসের অ্যাকাউনটেন্টকে বুঝিয়ে দিয়ে যাই। তারপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আদৌ এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি-প্রমাণ নেই। আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটিয়ে সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
হামলা বর্ণনা দিয়ে ড. আব্দুস সবুর আরও বলেন, ‘গত রোববার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জন ব্যক্তি আমার স্ত্রী আঞ্জুমানারা শিউলী রহমানের স্বপ্নাঙ্গন বাসভবনে প্রবেশ করে। এরপর নিচতলায় থাকা ভাড়াটেদের দরজায় লাথি মারে এবং টেবিল ফ্যান ভাঙচুর করে। দুর্বৃত্তরা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি ঘরের দরজা ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে ও আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বলে, আমাকে খুঁজে পেলে অপহরণপূর্বক চোখ ও পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া হবে। একপর্যায়ে তারা আমাকে খুঁজে না পেয়ে রাগান্বিত হয়ে বাড়িটি বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।’
