ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
যশোরের বেনাপোলে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টুর ওপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ম্যাগজিন, গুলি, দেশিয় অস্ত্র ও ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায়র বেনাপোলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তিনি ও তার বন্ধু সুমন ইসলাম বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বেনাপোল গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে তিনজনকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মোটরসাইকেল থামান তারা। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে কালো কাপড় বাঁধা লোকগুলো বোমা ছুড়ে মারে। বাড়ির ওপরও দুইটি বোমা ছুড়ে তারা পালিয়ে যায়, তবে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়। দ্রুত তারা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের চেনা যায়নি। বোমা হামলায় মন্টু মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলেও অক্ষত আছেন তিনি। তবে তার বন্ধু আহত হয়েছেন। এ নিয়ে তাকে পাঁচবারের মতো হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে ঘটনা শোনার পর পরই বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ ও নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেনের বেনাপোলের বাড়িতে দুই ঘণ্টা অভিযান চালায়। তার বাড়ি থেকে এ সময় বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বারটি ম্যাগজিন, পিস্তলের তিন রাউন্ড গুলি, আটটি দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি ও ৩৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সৈয়দ আলমগীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে তারা মোটরসাইকেলে থাকা আহত সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় মন্টু বেঁচে গেছেন। মন্টুর বাড়ি থেকে অবিস্ফোরিত দুইটি বোমাও জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেন জানান, রাজনৈতিক চাপে তিনি গত ছয় মাস ধরে এলাকা ছাড়া। ওই বাড়িতেও কেউ থাকে না। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই প্রতিপক্ষরা সাজানো এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের অনুসারী। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেন বেনাপোল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটনের অনুসারী। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে গত পাঁচ বছর ধরে শক্রতার সম্পর্ক। প্রায়ই তাদের অনুসারীদের মধ্যে হামলা-মামলার ঘটনা ঘটে আসছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সার্কেল এএসপি স্যারসহ আমরা রাত ১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ম্যাগজিন, পিস্তলের গুলি, দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি ও ৩৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করি। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। এদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মন্টুর ওপর বোমা হামলার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তার বাড়িতে আসেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। এ সময় তিনি মন্টুসহ পরিবারের লোকজনদের সান্তনা দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন পুলিশকে।
