যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক আহাদ আলীর বিরুদ্ধে
বিশেষ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহাদ আলীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে সুবিচার চেয়ে আবেদন করেছে স্ত্রী সাথী আক্তার। অভিযুক্ত আহাদ আলী চুয়াডাঙ্গা সদরের নেহালপুর গ্রামের খোয়াজ আলীর ছেলে। তার সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার ঝাঝরী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে সাথী আক্তারের। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তিনি। এ রকম অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বরাবর শিক্ষক আহাদ আলীকে চাকুরী হইতে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের আবেদন করা হয়।
সাথী আক্তার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, ২০১৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আহাদ আলীর সঙ্গে ইসলামী বিধান মোতাবেক ৭০ হাজার টাকা দেন মোহর ধার্য্য করে আমার বিবাহ হয়। বিবাহের সময় সে নিজেকে একজন সরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেয় এবং আমার পিতার নিকট হতে ২ লক্ষ ৫০ টাকা নেয় ধার নেণ। এরপর তার সঙ্গে সংসারকালে তিনি যৌতুকের দাবিতে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। একপর্যায়ে আমি পিতার বাড়ি চলে আসার কিছু দিন পর ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি আমাকে আবার শশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই সময় তিনি আমাদের বাড়িতে এসে আমার কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়িত্ব নেবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু পুনরায় স্বামীর সংসারে ফিরে গেলে আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দেয়া হয়। অতি কষ্টে সংসারকালে আমি গর্ভবতী হয়ে পড়লে একদিন রাতে আহাদ আলী ও তার মা আমাকে একটি অজানা ওষুধ খাইয়ে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়। এরপরেও তার সংসারে ফিরে গেলে আবারও সে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করলে আমি পিতার বাড়ি চলে আসি। গত ২ এপ্রিল আমাকে পিতার বাড়ি থেকে নিতে আসলে তার কাছে ধারের টাকা ফেরৎ চাইলে সে আবারও যৌতুক দাবি করে বলে যে- যৌতুকের টাকা না দিলে সে আমাকে তালাক দিয়ে অন্যত্রে বিয়ে করবে। আহাদ আলী প্রায় আমাকে বলতো- আমার যা ইচ্ছা তাই করবো। সাথী আক্তার আহাদ আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষক আহাদ আলীকে চাকরী হতে স্থায়ী ভাবে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন সাথী আক্তার।
