শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধের পক্ষে ডিসিরা

আপলোড তারিখঃ 2019-06-09 ইং
শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধের পক্ষে ডিসিরা ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: শিক্ষার গুণগত মান আরও বৃদ্ধির লক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসকরা। আগামী ১৪ জুলাই শুরু হতে যাচ্ছে ডিসি সম্মেলন। এ সম্মেলনের প্রস্তাবে শিক্ষকদের রাজনীতির বিষয়টি বড় আকারে উঠে এসেছে। জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ২৬ জন জেলা প্রশাসক শিক্ষার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে মোট ৫০টি প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে একেবারে নতুন প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছেÍ মাঠপর্যায় থেকে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা, বি.এড. ডিগ্রির লাগাম টানা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বিচারে বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অনুমোদন বিষয়ে সতর্ক থাকা, প্রত্যেক জেলায় একটি করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বহনের জন্য প্রত্যেক জেলায় নিজস্ব একটি কাভার্ডভ্যান দেয়া, দেশের চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাদানের জন্য স্থানীয়ভাবে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করা, কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন আরও সহজ করা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিউশন ফির জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার মান যাচাইয়ের জন্য জেলা শিক্ষা কমিটি গঠন, গাইবান্ধায় কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর ও শিক্ষা টিভি নামে টিভি চ্যানেল চালু। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলের বড় বড় পদধারী নেতারা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। এতে করে এসব শিক্ষকরা পাঠদানে ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এমন প্রেক্ষাপটে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- কর্মচারীদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষকদের পাঠদান ব্যতিরেকে সার্বক্ষণিক রাজনীতি, ব্যবসাসহ বিভিন্ন লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে আসছে। রাজনৈতিক পদ-পদবির কারণে কেউ কেউ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পাঠদানে সময় দিতে পারছেন না। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মূলত জেলা প্রশাসকরা এবারের প্রস্তাবে এ ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব প্রস্তাব আগামী জেলা প্রশাসক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তুলে ধরবেন ডিসিরা। ডিসিদের প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি শিক্ষকদের শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করার প্রস্তাব। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন এ প্রস্তাব করে বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কতিপয় শিক্ষক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এর ফলে তারা ক্লাসরুমে পাঠদানে সময় দিতে পারেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ দক্ষ জাতি তৈরিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্তরায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়ে বলেছে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ হতে বিরত রাখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, বেতন-ভাতা পুরোপুরি সরকারি তবুও শুধু নামে বেসরকারি। এসব শিক্ষকদের ওপর সরকারের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনীতি সরাসরি বন্ধ না করে একটি নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে। তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে তিনি আশা রাখেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকরা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত থাকার ফলে তাদের কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেন না সাধারণ শিক্ষকরা। রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী থাকায় ক্ষমতাবানদের সঙ্গে ওঠাবসা থাকে। ফলে, তারা ঠিকমত প্রতিষ্ঠানে সময় দেন না। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে অনেক সময় অপারগতা প্রকাশ করনে। প্রস্তাবগুলোতে যে বিষয় উঠে এসেছে- রংপুর জেলা প্রশাসক দুর্গম চরাঞ্চল ও গ্রামের স্কুলের মান বৃদ্ধিতে শহরাঞ্চলের অবস্থিত সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গ্রামাঞ্চলে স্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন পদায়ণ করার প্রস্তাব করেন। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধে প্রশ্নপত্র বহনের জন্য প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একটি নিজস্ব কাভার্ডভ্যান দেয়ার প্রস্তাব করেন। এতে ঝড়, বৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রশ্নপত্র বহনের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, গোপনীয়তা রক্ষা হবে। পিরোজপুর জেলা প্রশাসক প্রত্যেক জেলা সদরে সরকারি বালক ও বালিকা স্কুলে ইংরেজি ভার্সনের একটি শিফট চালু করার প্রস্তাব করেছেন। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক দুর্গম চরাঞ্চলের জন্য স্থানীয়ভাবে চুক্তিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করে বলেন, দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন না। অন্যান্য অঞ্চল থেকে শিক্ষক পদায়ন করলে তারা সেখানে থাকেন না। সারাদেশের মতো একই নিয়মে শিক্ষক নিয়োগের ফলে চরাঞ্চলে শিক্ষক হিসেবে কেউ যেতে চান না। এ জন্য স্থানীয়দের মধ্য থেকে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক প্রত্যেক জেলায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও বি.এড. কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেন। তিনি তার সুপারিশে বলেন, বেসরকারি অধিকাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ নামসর্বস্ব, সরকারি টিটি কলেজ যে ধরনের প্রশিক্ষণ পায় বেসরকারিতে তার ন্যূনতম পায় না। যশোর জেলা প্রশাসক ত্রৈমাসিক শিক্ষা সম্মেলনের প্রস্তাব করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক শিক্ষা টিভি নামে একটি টেলিভিশন চ্যানেল চালুর প্রস্তাব করেন। এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে এ টেলিভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়াও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত গাইবান্ধা কৃষি ইনস্টিটিউটকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের প্রস্তাব করেন। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসন শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। জেলার শিক্ষার গুনগতমান নিশ্চিতকরণে কোনো কমিটি না থাকায় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এ জেলা শিক্ষা কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত তার। কমিটিতে শিক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া যাবে, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাধিকার নির্ধারণ করা যাবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)