ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি
দলমত নির্বিশেষে জানাযায় বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণ : শোক প্রকাশ
বিশেষ প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলী আহাম্মদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহে........রাজেউন)। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় চুয়াডাঙ্গা মুক্তিপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি দুই পুত্র, চার কন্যা, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবসহ অসংখ্য গুণাগ্রাহী রেখে গেছেন। পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্যসহ ক্যান্সারাক্রান্ত ছিলেন।
সহকর্মীর মৃত্যু সংবাদ শুনে শেষ বিদায় জানাতে তাঁর বাড়িতে ছুটে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। প্রবীণ এ রাজনীতিকের মৃত্যুতে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়াও তাঁকে শেষ বারের মতো দেখতে ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ রাজনৈতিক সহকর্মী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে, গতকাল রোববার বাদ আছর নামাযে জানাযা শেষে জান্নাতুল মওলা কবরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। জানাযায় অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, এ্যাড. শামসুজ্জোহা, কোষাধ্যক্ষ আলী রেজা সজল, জেলা জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি সাইফুল হাসান জোয়ার্দ্দার টোকন, দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম শাহান, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, দৈনিক সময়ের সমীকরণ’র প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ দলমত নির্বিশেষে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।
আলী আহাম্মদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। দপ্তর সম্পাদক আবু তালেব বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, তার এই মৃত্যু আওয়ামী পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর’৭৫ পরবর্তী সময়ে দলকে সুসংগঠিত করায় তার অবদান অনস্বীকার্য। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন) এমপি। তিনি বলেন, আলী আহাম্মদ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তার মৃত্যুতে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন ও মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন যে, পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন। আমিন।
অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. শরীফুজ্জামান শরীফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামের মসজিদপাড়ায় জন্ম গ্রহন করেন আলী আহাম্মদ। পিতা মরহুম আজগর আলী বিশ্বাস ও মাতা সারাতুন্নেছার দুই ছেলে এবং চার মেয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। লেখাপড়া করেছেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তিনি ছিলেন বর্ণাঢ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। বলা হয়- বঙ্গবন্ধু হত্যার পর’৭৫ পরবর্তী সময়ে দলকে সুসংগঠিত করায় তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধারে তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের আজীবন সদস্য, চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সভাপতি ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেছেন।
