নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হানুর বাড়াদিতে কলেজছাত্রীকে ডেকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের পরিবারের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইফতারের পর প্রেমিক শৌখিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় প্রেমিকা কলেজছাত্রী লিমা আক্তার তিষিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্রেমিকের বড় ভাই সাইফুদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি দৈনিকের পত্রিকার সাংবাদিক রুদ্র রাসেলকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে এবং তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। আহত কলেজছাত্রী দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামের নতুনপাড়ার আশাদুল হকের কন্যা ও তালাকপ্রাপ্তা।
কলেজছাত্রী লিমা আক্তার তিষি বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের হানুর বাড়াদি গ্রামের পূর্বপাড়ার সৌরভ হোসেনের ছেলে শৌখিনের সাথে বেশ কিছু দিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ‘আমি বৃহস্পতিবার নানির বাড়ি হানুর বাড়াদিতে বেড়াতে যায়। ইফতারির পর আমাকে ডাকে শৌখিনের পরিবার। আমি গেলে আমাকে শৌখিনে মা, ভাবি ও শৌখিন শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করে। পরে তারাই আমাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে প্রেমিক শৌখিন বলেন, ‘আমার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।’
প্রেমিক শৌখিনের ভাই সাইফুদ্দিন বলেন, ‘শৌখিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তবে বিষয়টা আমরা ইতোপূর্বে জানার পর উভয় পরিবারের নিয়ে বসে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়। তবে কোন মারধর করা হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কলেজ ছাত্রী নিজেই আমাদের বাড়িতে চলে আসে। এসময় সে বিষপান করেছে বলে জানালে আমরা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক রুদ্র রাসেল হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্রেমিকের ভাই সাইফুদ্দিনসহ কয়েকজন তাকে লাঞ্চিত করে। এসময় রুদ্র রাসেলকে গালিগালাজসহ তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিলেও পরে তা ফেরত দেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা তাকে ওয়াশ করিয়ে ভর্তি করেছি। তবে মারধরের কোন আলামত পাইনি।’
