বয়সে যুবতী হলেও এখনো তারা শিশু

আপলোড তারিখঃ 2019-05-16 ইং
বয়সে যুবতী হলেও এখনো তারা শিশু ছবির ক্যাপশন:
খর্বাকৃতি দু’বোনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি -ডিসি গোপাল চন্দ দাস আফজালুল হক/তৌহিদ তুহিন: আলমডাঙ্গা উপজেলার আঠারখাদা গ্রামে রূপা আর মিম কথা বলে যন্ত্রচালিত পুতুলের মতো করে। বয়স বেড়ে গেলেও এখনো তারা পুতুলকন্যা হিসেবে পরিচিত। পুতুলকন্যা দুই বোনের কারণে তাদের বাড়িটিও এলাকায় পুতুলবাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ১৭ বছরের মিমের ৩৩ ইঞ্চি ও ২৬ বছরের রূপার উচ্চতা ৩৪ ইঞ্চি। রূপা ও মিমের চেয়ে উচ্চতায় ছোট নেপালে ও ভারতে আছে বলে রেকর্ড আছে। তবে, দুই বোন খর্বাকৃতিতে রূপা ও মিম বোধহয় হবে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট। এলাকাবাসী মনে করেন, স্বল্প উচ্চতা ও ওজনের জন্য এরা খর্বাকার সহোদর বোন হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়াল্ড রেকর্ডে স্থান পেতে পারেন। বয়সে যুবতী হলেও এদের চলাফেরা, আচার-আচরণ সবকিছু শিশুদের মতো। খেলাধুলা করে প্রতিবেশী শিশুদের সাথে। রাতে ঘুমায় মায়ের গলা ধরে। মাঝে মাঝেই দু’বোনকে দেখতে আসে দূর-দূরান্তের মানুষ। জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম আঠারোখাদা। এই গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ। তার তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে রূপা (২৬), ছেলে নূর আলম জিকু (২১) ও ছোটো মেয়ে মিম (১৭)। ছেলে নূর আলম জিকুর উচ্চতা স্বাভাবিক হলেও রূপা ও মিম একেবারেই খেলনা পুতুলের মতো ছোট। ভাই নূর আলম জিকু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত। নূর আলম জিকুর লেখাপড়া অব্যাহত থাকলেও শুধু অস্বাভাবিক শারীরিক গড়নের কারণেই দু’বোন রূপা ও মিমের লেখাপড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডিতেই থেমে গেছে। কৃষক পিতা আব্দুর রশিদ জানান, ছোট বেলায় রূপাকে স্কুলে ভর্তি করা হলে তার সহপাঠীরা রূপার শারীরিক গঠনের কারনে রূপাকে নিয়ে বিভিন্ন ঠাট্টা করতো। আর মিমের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। ফলে, তাদের লেখাপড়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, ছোট বেলায় যখন বোঝা যায়, রূপা স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে না, তার চিকিৎসা করানো হয়। কোনো লাভ হয়নি। মিমের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। মিমকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। তারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠেনি। ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী জানান, ওদের অস্বাভাবিক আকৃতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছোট বেলা প্রায় (একযুগ) আগে থেকেই মানুষ তাদের দেখতে আসে। তবে তারা কোনভাবেই হতাশ হননি। বরং চালিয়ে যাছে জীবনযুদ্ধ। আশা ছিল সরকারি উদ্যোগে তাদের জন্য কিছু নিশ্চয় হবে। তেমন কিছু হয়নি। তিনি বলেন, ‘রূপার উচ্চতা ৩৪ ইঞ্চি, আর মিমের ৩৩। আমি মনে করি আমার মেয়েদের মতো এত কম উচ্চতার সহোদর বোন পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই।’ তাই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে রূপা ও মিমের নাম দেখতে চান তিনি। এ জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আবদুর রশিদ। রূপা ও মিমের মা ফাতেমা খাতুন জানান, ‘জন্মের সময় ওরা খুবই ছোট আকৃতির হয়েছিল। বেঁচে থাকবে এ বিশ্বাস কারোরই ছিল না। ছোট মেয়ে মিমের জন্মের পর নিজের দেশসহ ভারতের অনেক নামি-দামি ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ব্যাপারে সবাই নিরাশ করেছেন।’ রূপা খুব অভিমানী ও রাগি। বায়নাও নেই কোন কমতি। দিনভর খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। আর মোবাইলে শিল্পী মমতাজের গান শোনে। গানের তালে তালে নাচে। ছোট মিমের রাগ-অভিমান অনেক কম। বাড়িতে এই আছে, এই নেই। খেলতে চলে যায় পাড়ায়। অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করে সে আনন্দ পায়। গ্রামবাসীরা জানায়, এই দু’বোনের বয়স যখন অনেক কম তখন থেকেই তারা তোঁতা পাখির মতো ছোট ছোট করে কথা বলে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাদের দেখতে আসে। অনেক মানুষ দেখলে দু’বোনই লজ্জা পায়। বড়টা মিটিমিটি হাসে। কথা বললে বোঝে। কেউ কিছু খেতে দিলে লাজুকভাবেই তারা তা হাতে নেয়। আচরণ শিশুসুলভ। স্বাভাবিক জ্ঞানবুদ্ধি আছে। তাদের বয়স বাড়লেও এখনো তারা ছোট্ট মেয়ের মতো বাবার কাধে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিন জানান, সরকারিভাবে ওই দু’বোনকে নিয়ে ভাবা দরকার। এখন তাদের বাবা-মা রয়েছে। তাদের অবর্তমানে কে দেখবে তাদের? তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী এমন কিছু করা দরকার যাতে তারা নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারে। বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন জানান, রূপা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। মিমও যাতে পায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বেশ কিছুভাবে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে ইতোমধ্যে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, রূপা ও মিমের চেয়ে উচ্চতায় ছোট নেপালে ও ভারতে আছে বলে রেকর্ড আছে। তবে, দুই বোন খর্বাকৃতিতে রূপা ও মিম পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট হতে পারে। এ বিষয়ে আমরা দেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েছি। আমি যতটুকু জানি রূপা প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়েছে। আগামীতে মিমকেও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)