পাল ধরে সর্বত্র বিচরণ : তীব্র দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

আপলোড তারিখঃ 2019-05-15 ইং
পাল ধরে সর্বত্র বিচরণ : তীব্র দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা নিচের বাজারে বয়রার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা ব্রীজের নিচে হরিজন সম্প্রদায়ের শ্রী রানাসহ কয়েকজনের বয়রার (পালিত শুকর) অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নিচের বাজার, হাসান চত্ত্বরসহ আশপাশ এলাকার ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ। নিচের বাজারসহ সর্বত্রই পাল ধরে বয়রার বিচরনে জনস্বাস্থ্য হুমকীর মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীন এ প্রাণী দ্বারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দিনের বেলা বাজার ও বাজারের আশপাশের বসত বাড়িতে ঢুকে ছোট খাটো ক্ষয়ক্ষতিসহ নদীর পাশে ফেলে রাখা ময়লা আবর্জনার স্তুপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করায় এ এলাকায় চলাচল করাও দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া সদর থানা, মসজিদ ও ভি. জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেঁষে তৈরি খামারের দুর্গন্ধ তো আছেই। নিচের বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মাসুষের অভিযোগ, বাজার কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও এর কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, নিয়মনীতি না মেনেই চুয়াডাঙ্গা হরিজন সম্প্রদায়ের একটি অংশ বড়বাজার মাথাভাঙ্গা ব্রীজের পাশে নদীর জায়গা দখলকরে বসবাস করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে ওই স্থানে ১২ থেকে ১৩ টি পরিবার বসবাস করছে। প্রায় দু’বছর আগে এসকল পরিবারগুলোর মধ্যে কোনো কোনো পরিবার এক দুটি বয়রা নদীর ধারে বেধে রেখে পালন করলেও বর্তমানে ওই স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বড় ধরণের একটি বয়রার খামার। যেখানে রয়েছে ছোট বড় মিলে অর্ধ শতাধিক বয়রা। প্রায় দু’মাস পূর্বে যার সংখ্যা এর চেয়েও প্রায় দুই গুন ছিল। এই খামার তৈরির শুরু থেকেই বয়রার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একাধিক অভিযোগ করা হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বর্তমানে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য শ্রী রানা, দুখু, জুংলী, আকাশ, সান্টুসহ বেশ কয়েকজন ৫০/৬০টি বয়রা লালন পালন করছেন। যা দিনরাত খামারের বাইরেই থাকে। এদের মালিক থাকলেও কোন রাখাল না থাকায় বিভিন্ন বসত বাড়ি, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত ভাবে ঢুকে পড়ে। এরপর ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরিবেশ দূষণ করে। রাতের বেলা ব্যবসায়ীরা তাদের কাঁচামাল ঢেকে রেখে বাড়িতে চলে গেলে তা বিনষ্ট করে বলেও অনেকে জানান ব্যবসায়ীরা। নিচের বাজারের কলা ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘হরিজনদের এই অনিয়ন্ত্রিত বয়রা রাতেও ছেড়ে রাখা হয়। আমরা দিনের বেলা কলার স্তুপ করে রেখে বাড়িতে চলে যায়। রাতে বয়রার দল স্তুপের উপর উঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিনষ্ট করে। পরে তা আর বিক্রি করতে পারি না। এ নিয়ে অনেকবার অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।’ আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরআগেও বড় বড় কর্মকর্তারা এখানে এসে ঘুরে গেছেন, দেখে গেছেন। এ ব্যাপারে অনেকবার এমপি, মেয়র, সাবেক মেয়রসহ সবাইকে বলা হয়েছে। কেউ কোন পদক্ষেপ নেননি। আমরা বার বার বলেছি- ছেড়ে রাখা বয়রার পাল রাতে বাজারে ঢুকে কাঁচামাল নষ্ট করে। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। আবার অজান্তেই অনেক ব্যবসায়ী বয়রার পালের ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা মালামাল গুছিয়ে বিক্রি করে ফেলেন। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।’ হরিজন সম্প্রদারের সদস্যরাও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা গরু পালন করি, তার জন্য রাখাল রাখতে হয়। কিন্তু এই বয়রার পালের কোন রাখাল নাই। তাই বাড়িতে ঢুকে পরিবেশ দূষণসহ নানা রকম অসুবিধার সৃষ্টি করে। তবে মালিকরা চাইলে খামার পদ্ধতি ও নিয়মনীতি মেনে পালন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে নিজস্ব খাবারের ব্যবস্থা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার ইবু বলেন, ‘এ ব্যাপারে সাবেক জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন সময়ের পৌর মেয়রসহ অনেককেই জানানো হয়েছে। তারা মৌখিক ভাবে হরিজনদের সতর্ক করলেও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সকল হরিজন সম্প্রদায়ের শুধু একটি সমস্যা না, আরও সমস্যা রয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই দেশী মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে সমাজের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে বাংলা মদ। এ সমস্যা সমাধানে যে ১০/১২ ঘর হরিজন রয়েছে তাদের অন্যত্র পুর্নবাসন করা প্রয়োজন। না হলে পরবর্তীতে বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হবে।’ এ অভিযোগের কথা সঠিক স্বীকার করে খামারের মালিক রানা বলেন, ‘আমি বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকায় বয়রার পাল বেঁড়া ভেঙে বেরিয়ে পড়েছিল। এখন থেকে আটকে রাখবো।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)