জনজীবনে স্ববিরতা : প্রাণীকুলে নাভিশ্বাস

আপলোড তারিখঃ 2019-05-10 ইং
জনজীবনে স্ববিরতা : প্রাণীকুলে নাভিশ্বাস ছবির ক্যাপশন:
তীব্র তাপদাহ : ভ্যাপসা গরমে নাকাল চুয়াডাঙ্গাবাসী নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপদাহে পুড়ছে জনজীবন। গেল সপ্তাহজুড়ে সূর্যের দাপটের সাথে সাথে ভ্যাপসা গরমে নাকাল চুয়াডাঙ্গার মানুষ। একদিকে রমজান মাস, তার উপর গরমের তীব্রতায় তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণীকুলে নাভিশ্বাস উঠেছে। চারিদিকে একটু শীতল পরশ লাভের জন্য মানুষের যেন ব্যাকুল প্রচেষ্টা। গত কয়েকদিনের অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাস্তায় বের হওয়া মানুষের। দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। একান্ত জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। চোখে-মুখে যেন আগুনের তাপ লাগছে। সব মিলিয়ে বাকি রমজানেও চুয়াডাঙ্গাসীর জন্য তেমন কোনো সুখবর নেই। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই অবস্থা চলবে আরো অন্তত দুই দিন। এর পর থেকে কোথাও কোথাও বৃষ্টি হয়ে কমতে থাকবে তাপমাত্রা। গতকাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, এখন সারা দেশেই তাপদাহ চলছে। তবে আগামী দুইদিন পর এই তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। কারণ ১২ তারিখের পর থেকে দেশের কিছু অঞ্চলে কিছু কিছু বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে আবহাওয়া কিছুটা শীতল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা শহর ঘুরে দেখা গেছে, অন্যদিনের তুলনায় গতকাল শহরের সড়কে ও বাজারে মানুষের চলাফেরা কম ছিলো। বিকালে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ তেলে ভাজা খাবারের ইফতারের দোকানগুলোতেও খুব একটা মানুষ লক্ষ্য করা যায়নি। চুয়াডাঙ্গা নিচের বাজারে যেয়ে দেখা যায়, বাজারে অন্যদিনের মতো ক্রেতা নেই। খুবই অল্প পরিমাণের মানুষ এখানে বাজার করতে আসছেন। চুয়াডাঙ্গা নিচের বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, আগে সকাল থেকে সারাদিনই এ বাজার জমজমাট থাকতো। ক্রেতা সমাগম হতো। কিন্তু তীব্র গরমে কিছুটা ক্রেতা কমেছে। যারা আসছে তার সকালে ও সন্ধ্যার আগে আসছে। চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে ফলের দোকানে ফল কিনতে আসা রুহুল আমিন নামের একজন জানান, তীব্র গরমে তেলে ভাজা খাবারের প্রতি খুব একটা আগ্রহ নেই। তাই এখান থেকে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে, রমজান মাসে তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ কৃষক, দিনমজুর, খেটে থাওয়া মানুষদের। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ মাঠে যেয়ে দেখা যায়, সূর্যের প্রখর তাপের মধ্যে ক্ষেতে কাজ করছে দিনমজুররা। চুয়াডাঙ্গা শহরের রিক্সা চালক বাদল জানান, ‘এরাম গরম আর দেকিনি। রিক্সা চালাইয়া রুযা থাকতি খুব কষ্ট হচ্চে’। কিন্তু কিচুই করার নেই, সন্তানদের নিয়ে দু’মুটো ভাত তো খাতি হবে, তাই কষ্ট হলেও রিক্সা চালাচ্ছি’। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ঢাকা বিভাগে ৩৫ দশমিক ৮, খুলনায় ৩৯ দশমিক ২, ময়মনসিংহে ৩৫, সিলেটে ৩৩ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ৩৪ ও বরিশালে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় গতকাল সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বিষয়ে আবহাওয়াবীদ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সারাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে দেশের আকাশে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্পের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে বৃষ্টিপাতও নেই। আগামী সপ্তাহের বুধবার পর্যন্ত দেশে তাপদাহের আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। তবে আগামী দুইদিনের মধ্যে দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাত হতেও পারে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রাও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রচ- তাপদাহের পর ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ফণী। শনিবার ঝড়টি বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যায়। এর প্রভাবে হঠাৎ শীতল আবহাওয়া তৈরী হয়। বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা এক লাফে ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। তবে ফণী চলে যাওয়ার পর রোববার থেকে তাপমাত্রা ফের বাড়তে থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর ফলে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও নওগাঁ অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারী ধরণের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)