বেতন কর্তনে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা

আপলোড তারিখঃ 2019-05-09 ইং
বেতন কর্তনে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ ডেস্ক: সারাদেশের এমপিওভুক্ত প্রায় পাঁচ লাখ শিক-কর্মচারী চলতি মে মাসে বেতন কিছুটা কম পাবেন এপ্রিলের চেয়ে। কারণ বেসরকারি শিক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের চাঁদা বাবদ ৪ শতাংশ টাকা তাদের বেতন থেকে বাড়তি কেটে নেয়া হয়েছে। ৩০ এপ্রিল এই টাকা কেটে রেখে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বিল তৈরি করে ব্যাংকে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিা (মাউশি) অধিদফতর। সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করে চলছে শিক্ষকরা। বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে ১০ শতাংশ হারে অর্থ কেটে নেয়ার আদেশ দিয়েছে সরকার। এর আগে একই আদেশ দিয়ে স্থগিত করার ২ বছর পর পুনরায় গত ১৫ এপ্রিল জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে চলতি মাসের আজ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের মোট ১০ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হবে। এত দিন শিক প্রতি অবসর বোর্ডের জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা কর্তন করা হচ্ছিল। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুসারে আজ থেকে অবসরের জন্য ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪ শতাংশ হারে কাটা হবে। এই অর্থ চলে যাবে বেসরকারি শিক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিলে। যে তহবিলের অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের দিনের পর দিন অপো, হয়রানির শিকার, নাজেহাল ও ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই নির্দেশনা জারির পর থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে সারাদেশে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষকরা। এই দাবি আদায়ে ৪ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে রাস্তায় আন্দোলন করছে ১০টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন। অবসর ও কল্যাণ তহবিলে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তনের প্রতিবাদে গত ২ মে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক-কর্মচারীরা। গত ৪ মে ঢাকাসহ সকল জেলায় শিকক্ষ-কর্মচারী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আজ ৯ মে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী ও শিামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার কথা রয়েছে এবং ২৩ মে ঢাকায় প্রতিনিধি সভা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করবে। শিক্ষক নেতা আসাদুল অবিলম্বে শিক-কর্মচারীদের স্বার্থের পরিপন্থী প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে একটি অদৃশ্য দূরত্ব সৃষ্টি করে নিজেদের ইচ্ছামত বিধিবিধান পরিবর্তন করছেন। অথচ ইউনেস্কো ও আইএলওর সুপারিশমালায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, শিক্ষকদের সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার। শিক্ষামন্ত্রী, সচিব ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা অনেকই ইউনেস্কো ও আইএলওর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিদেশে যান অথচ এসব সংগঠনের নীতিমালা প্রয়োগেরক্ষেত্রে তারা কোনো ভূমিকাই রাখেন না। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, আমরা কিছুদিন আগে আন্দোলন করে ৫ শতাংশ বৈশাখী ভাতা আদায় করেছি। কিন্তু আমাদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই হঠাৎ করে বেতনের অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কেটে নেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। এই আদেশ আমাদের বুকে ছুরিকাঘাতের মতো। শিক্ষকদের পুরনো সংগঠন বাংলাদেশ কলেজ শিক সমিতি (বাকশিস) ও বাংলাদেশ অধ্য পরিষদের (বিপিসি) মুখ্য সমন্বয়কারী প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্য মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অন্যায় এবং অবিলম্বে^ তা প্রত্যাহার করা উচিত। এ ধরনের প্রজ্ঞাপনে দেশের শিাব্যবস্থায় সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য বাড়বে। বেসরকারি শিক্ষকরা অবসর জীবনে পূর্ণাঙ্গ পেনশন পাওয়ার অধিকার রাখেন উল্লেখ করে বলেন, তারা নিষ্ঠার সাথে সেবা প্রদান করে অবসর জীবনে আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে জীবনযাপনের নিশ্চয়তা অর্জন করেছেন। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের একক বৃহৎ সংগঠন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্য মো: সেলিম ভূঁইয়া বলেন, এখন শিকদের জন্য পেনশন চালু করার সময় এসেছে। সরকার দেশের যে উন্নয়নের বন্যার কথা বলছে, তাতে সরকারের সমতা হয়েছে পাঁচ লাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর অবিলম্বে^ পেনশন চালু করার। তিনি প্রজ্ঞাপনটি বাতিল বা প্রত্যাহার দাবি করে বলেন, অন্যথায় অতীতের মতো আন্দোলনের মাধ্যমেই সেটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হবে। তিনি জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্য শরীফ আহমদ সাদী গণমাধ্যমকে বলেন, অবসর সুবিধা বোর্ডে বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা রয়েছে। এসব আবেদন অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে বোর্ডের প্রয়োজন প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, প্রতি মাসে বেসরকারি শিক ও কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেয়া ৪ শতাংশ অর্থ থেকে বোর্ডের আয় হয় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। অথচ প্রতি মাসে জমা হওয়া আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন হয় ৭০ কোটি টাকা। এ কারণে প্রতি মাসেই ঘাটতি থাকে ৩৫ কোটি টাকা। আগে জমা নেয়া আবেদন আগে নিষ্পত্তি করা হয় জানিয়ে শরীফ সাদী জানান, বর্তমানে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত জমা নেয়া আবেদনের নিষ্পত্তি করছেন তারা। বোর্ডের সদস্য সচিব আরও জানান, অর্থ সংকটের কারণে শিক্ষকদের অবসর সুবিধা পেতে আগে পাঁচ-ছয় বছর লাগত। এখন তা প্রায় আড়াই বছরে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশ্য হজে যেতে চাইছেন কিংবা ক্যান্সার বা কোনো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এমন আবেদনকারীদের মানবিক কারণে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত অর্থ পরিশোধ করা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)