নিজস্ব প্রতিবেদক:
দর্শনা মডার্ণ ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় জুলিয়া নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সে দামুড়হুদা উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের ইজাজুলের স্ত্রী।
জানা গেছে, গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের ইজাজুলের স্ত্রী অন্তসত্বা জুলিয়া খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে দর্শনা মডার্ণ ক্লিনিকে নেয়া হয়। এরপর ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. তারিকুল আলম প্রসূতির আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসক জানান, প্রসূতির অনাগত সন্তান পেটের ভিতরের পায়খানা করে ফেলেছে রোগীকে দ্রুত অপারেশন করতে হবে। এমন কথা শোনা মাত্রই রোগীর মা রশিদা বেগম অপারেশনের জন্য বলেন। এরপর চিকিৎসক রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রপাচার করেন এবং কন্যা সন্তানের জন্মলাভ করে। রোগীকে অপারেশ থিয়েটারের মধ্য থেকে বের করে ক্লিনিকের বেডে রাখার কিছুক্ষণের মধ্যে জুলিয়ার পেট ব্যাথা ওঠে। এরপর চিকিৎসকের একের পর এক প্রেসক্রিপসনে ঔষধ লিখতে থাকে। সেই প্রেসক্রিপসনের লেখা ৪২শ’ টাকার ঔষধ খাওয়ানোর পরেও রোগীর পেট ব্যাথা ভাল না হলে ক্লিনিকের চিকিৎসক বলে রোগীর হার্টের সমস্যা আছে, তাকে চুয়াডাঙ্গায় ডা. আবুল হোসেনের নিকট নিতে হবে। এ কথা শোনার সাথে সাথে মাইক্রোযোগে নেওয়া হয় চুয়াডাঙ্গার চিকিৎসকের নিকট। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এরপর পথিমধ্যে ঈশ্বরদী চারহাট নামক স্থানে পৌছালে তার মৃত্যু হয়।
জুলিয়ার পিতা রবিউল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আমার অন্তসত্বা মেয়ে জুলিয়া খাতুনের প্রসব বেদনা দেখা দিলে বুধবার সকালে দর্শনা মডার্ণ ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য যায়। এসময় ক্লিনিকের চিকিৎসক রোগীকে দেখার পর আল্ট্রাসনোসহ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, পেটের বাচ্ছা মায়ের গর্ভে পায়খানা করে ফেলেছে এখনই রোগীর অপারেশন করতে হবে। এসময় মেয়ের সাথে থাকা তার মা চিকিৎসককে অপারেশনের জন্য জানান। এরপর চিকিৎসক তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তার শরীরে অস্ত্রপাচার করলে কন্যা সন্তান জন্ম লাভ করেন। তার নবজাতক কন্যা সন্তান সুস্থ থাকলেও মায়ের অবস্থা গুরুত্বর দেখা দেয়। এরপর চিকিৎসক ডাঃ তারিকুল একাধিক প্রেসক্রিপসনে ঔষধ লেখে যা ৪২শ’ টাকা খরচ হয়। ঔষধে কোন কাজ না হলে চিকিৎসক জানায় রোগীর হার্টে সমস্যা দেখা দিয়েছে তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গায় ডা. আবুল হোসেনের কাছে নিতে হবে।
ডা. তারিকুল আলমের পরামর্শ অনুযায়ী মাইক্রোযোগে নেওয়া হয় চুয়াডাঙ্গায় ডা. আবুল হোসেনের নিকট। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক রোগীর অবস্থা গুরুত্বর জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সাথে সাথে এ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপর পথিমধ্যে ঈশ্বরদী চারহাট নামক স্থানে পৌছালে জুলিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, দর্শনা মডার্ণ ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক ডা. তারিকুল আলমের ভুল চিকিৎসার কারণে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তার শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ডা. তারিকুল আলম বলেন, প্রসূতি জুলিয়া ক্লিনিকে আসলে তার কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অপারেশন করা হয়। অপারেশনে তার কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। এরপর তাকে ক্লিনিকের বেডে রাখা হলে সে সুস্থ থাকার একপর্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে প্রসূতি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় হার্টের সমস্যার কারণে অসুস্থ হয়েছে বলে জানান। পরে আমি দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সযোগে চুয়াডাঙ্গায় ডা. আবুল হোসেনের কাছে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক রোগীর অবস্থা দেখে বলেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক তাকে রাজশাহী নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে রাজশাহী নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। তবে অপারেশনে আমার কোন ভুল ছিলোনা, রোগীর হার্টের সমস্যার কারণে মৃত্যু হয়েছে।
