শিক্ষার মানোন্নয়নের অন্তরায় শ্রেণী শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য

আপলোড তারিখঃ 2019-04-12 ইং
শিক্ষার মানোন্নয়নের অন্তরায় শ্রেণী শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সরকারি গার্লস ও ভি.জে স্কুলে অভিভাবক সমাবেশে ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস বিশেষ প্রতিবেদক: সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো, উচ্চ মানসিকতা প্রভৃতিই পারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যা দেশের কাম্য। দেশের কাম্য সর্বোপরি দেশের সুনাম সুখ্যাতি। আসলে পৃথিবীর মানচিত্রে অতি ছোট একটি দেশ বাংলাদেশ হলেও কিছু সেক্টরে বাংলাদেশের সুনাম অস্বীকারের কোনও সুযোগ নেই। এবার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার দু’টি সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং বেলা ১২টায় ভি. জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পৃথক আয়োজনে বিদ্যালয় দু’টিতে অভিভাবক সমাবেশ করা হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শ্রেণী শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য ও শিক্ষক সংকটের কথা। উন্মুক্ত আলোচনায় অভিভাবকরা অভিযোগ করেন- শ্রেণী কক্ষে তাদের সন্তানরা কিছুই শিখতে পারে না। তাই প্রাইভেট/কোচিংয়ে পাঠাতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিষয় ভিত্তিক শ্রেণী শিক্ষকের কাছে কোচিং না করানো হলে মার্ক না দেয়ার অভিযোগ অন্যতম। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কোচিং বানিজ্য বন্ধে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাকে বানিজ্যিকরণ না করে আসল মানুষ গড়ার কাজে ব্যবহার করুন। বিদ্যালয়ে কোচিং বানিজ্য বন্ধ করুন। ছাত্র/ছাত্রীদের প্রতি আপনার দায়িত্ববোধ থেকে পাঠদানে গুরুত্বদিন, ক্লাসে ভালোভাবে পড়ান। শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট/কোচিং না করলে মার্ক কমবে, এটা মোটেও কাম্য নয়। বিনীত অনুরোধ, আপনারা প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করুন। ১০ জন শিক্ষার্থীকে পড়ানোর যে সরকারি নীতিমালা রয়েছে তা অনুসরণ করুন। দুর্বল ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য স্কুলে বিশেষ ব্যবস্থা করুন। এতেও কিছু টাকা-পয়সা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেটা করুন। ভেবে দেখুন, একজন দিনমজুর, ভ্যান-রিক্সা-অটোচালক তিনি কত টাকা আয় করেন, কত টাকা তিনি নিজের সন্তানের পড়াশোনায় ব্যয় করতে পারবেন। তাদেরকে যদি মাসে মাসে একেকটা বিষয়ের জন্য ১ হাজার, ৭০০-৮০০ টাকা গুনতে হয়, সে কীভাবে দেবে? সে খাবে, না সন্তানকে স্কুলে পাঠাবে? সমাজ গড়ার কারিগর প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, আপনারা একটু মানবিক হোন, শিক্ষার্থীদের প্রতি আক্রোশ রাখবেন না। তবেই বদলে যাবে শিক্ষা ব্যবস্থার হালচিত্র।’ শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশের সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বক্ষেত্রেই সংকট রয়েছে, রয়েছে সীমাবদ্ধতা। তারপরেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা স্বপ্ন দেখছি ২০৪১ সালে আমাদের কোন সীমাবদ্ধতা থাকবে না। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবো।’ অভিভাবকদের বক্তব্যে উঠে আসে বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বেতন নেয়ার কথা। বোর্ড পরীক্ষার কারণে প্রায়ই বন্ধ থাকে প্রতিষ্ঠান দু’টি, এরমধ্যে যখন তখন বন্ধের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাতও করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে স্কুল বন্ধ রেখে বেতন নেয়ার নিয়ম আর থাকবে না জানিয়ে বলেন, ‘প্রস্তুতি চলছে, আর আপনাদের কষ্ট করে বেতন দিতে স্কুলে আসতে হবে না। বেতন নিতে আর স্কুল বন্ধ রাখতে হবে না। স্কুল বন্ধ রাখতে আমার অনুমতি নিতে হবে। শিগগিরই বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন দেয়ার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। চাইলে সারামাস বেতন দিবেন, দু’তিন মাসের বেতনও জমা দিয়ে রাখতে পারবেন। প্রতিটি ছাত্র/ছাত্রীর নামে আলাদা আলাদা একাউন্ট হবে। এতে করে আর বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হবে না, অভিভাবকদেরও সময় বাঁচবে, পরিশ্রম কমবে।’ গার্লস স্কুলের অভিভাবকদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে টিফিনের খাবারের গুনগত মানোন্নয়নের উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেন, ‘টিফিনের ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা তোলার কথা বলা হয়েছিল, যেখানে মাত্র ৫৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে; বাকী টাকা গেলো কোথায়? -জবাব দেবেন প্রধান শিক্ষক। এখন থেকে আর সারাবছর একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ করতে পারবে না। ভিন্ন ভিন্ন ভাবে খাবার সরবরাহ ও পরিবেশন করতে হবে। যদি কোন প্রতিষ্ঠানের খাবার খেয়ে আমার সন্তানরা অসুস্থ হয় তার বিরুদ্ধে কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে একজন স্যানেটারি ইন্সপেক্টর স্কুলে আসবে খাবার পরীক্ষা করতে।’ পানি, বিদ্যুৎ, শৌচাগার সমস্যা নিরসন ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকল্পে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের যে কয়টি শৌচাগার আছে তা ব্যবহারে নানা অসুবিধার অভিযোগ উঠে এসেছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে আরও শৌচাগার ও ওয়াশব্লক স্থাপন করা হবে। তা রক্ষনাবেক্ষণের জন্য আউট সোর্সিংয়ের ভিত্তিতে আরও জনবল (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) নিয়োগ দেয়া হবে। আগামী একমাসের মধ্যে পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ে চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে। সম্ভব হলে সরকারি বরাদ্দ থেকে, না হলে সকলের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য একজন চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হবে। যিনি ১৫ দিন পর পর বিদ্যালয়ে আসবেন এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। আজ থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষে মোট ৫০টি ফ্যান ও পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা করা হবে।’ ভর্তি বিলম্ব ও বই বিতরণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বছরের প্রথম মাসের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে সরকারি ভাবে দেয়া বিনামূল্যে বই গ্রহণ করে পুরোদমে ক্লাস শুরু করতে হবে। কোন বই ব্যবসায়ী স্কুলে ঢুকবে না। মনে রাখবেন, পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথায় এত বই দেয়ার রেকর্ড নাই, যত বই বাংলাদেশ সরকার বিতরণ করে। অভিভাবক হিসেবে আপনাদের অধিকার বইগুলো বুঝে নিবেন।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে প্রবেশের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিতের পর কোন ছাত্র/ছাত্রীকে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তা-ঘাট ও পার্কে ঘুরতে দেখলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৬ মাস পর পর ক্লাস টেস্টের ব্যবস্থা করতে হবে, ফলাফল খারাপ হলে টিসি দিয়ে দেয়া হবে। শতকরা ৭৫ ভাগ উপস্থিতি রেকর্ড না থাকলে বার্ষিক পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে না।’ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াশীমুল বারীর পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, জেলা শিক্ষা অফিসার নিখীল রঞ্জন চক্রবর্তীসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। এদিকে ভি. জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল হোসেন উজ্জল।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)