সমীকরণ প্রতিবেদন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ভুল বুঝে যারা উগ্রবাদ চরমপন্থী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন, তারা নিজেদের ভুল উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন। জলদস্যু, মাদক কারবারী ও চরমপন্থীরা সবাই একে একে আত্মসমর্পণ করছেন। আমাদের পুলিশ গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে ১০ বছর আগের বাহিনীর তুলনা করা চলবে না। তিনি বলেন, কারণ বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকা- করে পার পাওয়া যাবে না। যে সব চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করলেন তারা যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। আত্মসমর্পণকারীদের আইনি সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিনউদ্দিন স্টেডিয়ামে চরমপন্থীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। দেশের ১৪টি জেলার পূর্ববাংলার সর্বহারা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), নিউ পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটির নামের ৪টি চরমপন্থী সংগঠনের ৫৯৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৫টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিগত ১৯৯৯ সালেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২ হাজার চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেন নি। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আত্মসমর্পণ করলে তাদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, পাবনার এই অনুষ্ঠানে যে সকল চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত। তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে পুলিশের আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ২০ বছর পরে আবার আজকের এই আত্মসমর্পণ। জঙ্গি ও মাদক ব্যবসায়ী অনেকেই পুলিশের সহযোগিতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, পুলিশের অনেক সদস্য উগ্র জঙ্গিদের হাতে প্রাণ দিলেও তারা জঙ্গিবাদ দমন করতে সক্ষম হয়েছেন। উগ্রপন্থা এমন একটা রাস্তা ছিল যেন সেখান থেকে আর বেরুতে পারবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা তার পরিবর্তন করেছেন।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলার পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) প্রধান আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবু তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থায় চারুমজুমদারের আদর্শে সমাজ বিপ্লবের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব ভেবেই চরমপন্থী সংগঠনে যোগ দেই। কিন্তু দলের আদর্শ, কথা ও কাজের মিল না থাকায় অন্ধকার জগতে পড়ে যাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সারা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছি। ভাবতে ভালো লাগছে। যারা এখনো আসেনি তাদেরকে বলি ফিরে আসুন।
