ছবির ক্যাপশন:
গাংনীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেয়র ও প্যানেল মেয়রের মধ্যে দ্বন্দ্ব
গাংনী অফিস:
গাংনীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আসা পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম ভেন্ডার ও প্যানেল মেয়র নবীর উদ্দীনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং মত পার্থক্য এবার প্রকাশ্য বিতর্কে রূপ পেয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করতে শুরু করেছে। আর প্যানেল মেয়র নবীর উদ্দীনকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসতে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পৌর পরিষদ। প্যানেল মেয়র নবীর উদ্দীনকে বাদ দিয়ে যাকে পৌরসভার প্যানেল মেয়র করা হয়েছে সে নিজেও পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি মেয়রের বিরুদ্ধে চলে গেছে।
এসময় মেয়র আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের কাছে প্যানেল মেয়র নবির উদ্দীন জানান, মেয়র আশরাফুল ইসলাম এখন দেওলিয়া হয়ে গেছে। তার এ দেওলিয়পনা থেকে বাঁচতে নানান রকমের অনিয়ম করে যাচ্ছে। এর আগে কাউকে না জানিয়ে কোন প্রকার বৈঠক বা রেজুলেশন না করে প্যানেল মেয়র নবিরউদ্দিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানান পৌর পরিষদের কাউন্সিলরবৃন্দ। তার এই অব্যাহতির বিষয়ে উপস্থিত কাউন্সিলরবৃন্দের কেউ কিছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
গতকাল সোমবার দুপুরে পৌরসভার একটি কক্ষে মেয়র আশরাফুলের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিষয়ে কথা বলেন, সদ্য বিদায়ী প্যানেল মেয়র ও ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নবিরউদ্দিন, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর ও বর্তমান প্যানেল মেয়র মলিদা খাতুন রংমালা, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বদরুল আলম বুদু, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আছেল উদ্দিন, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আক্তার, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ও ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফিরোজা বেগম।
কাউন্সিলররা বলেন, পৌরসভার একজন প্যানেল মেয়রকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে অথচ এ বিষয়ে আমরা কেউ বিছুই জানিনা, বা আমাদের জানানো হয়নি। সভা সমাবেশ ছাড়ায় পৌর পরিষদ ভাঙ্গা হচ্ছে আবার নতুন করে গড়ে তোলাও হচ্ছে এটা কিভাবে হচ্ছে। এদিকে, প্যানেল মেয়র-১ নবিরদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে প্যানেল মেয়র করা হয় মলিদা খাতুনকে। মলিদা খাতুন প্যানেল মেয়র-৩ এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেয়র আশরাফুল ইসলাম কিভাবে আমাকে করল আমি জানিনা, কয়েকদিন আগে আমার কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে তাতে বুঝতে পারি আমাকে প্যানেল মেয়র-১ করা হয়েছে। মলিদা খাতুন বলেন, বিষয়টি ভালভাবে জানতে তিনি প্যানেল মেয়র নবিরউদ্দিনের কাছে ছুটে যান। কিন্তু নবীর উদ্দীনও সে সময় কোন কারণ তাকে জানাতে পারেনি তাকে। এদিকে, পৌর মেয়র আশরাফুলের এ ধরণের স্বেচ্ছারিতার বিরুদ্ধে অধিকাংশ পৌর কাউন্সিলর তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন। তারা পৌর মেয়রের এ ধরণের অবৈধ সিদ্ধান্ত মানেননা বলে সাংবাদিকদের জানান।
কাউন্সিলর নবির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই মেয়র আশরাফুল ইসলাম প্রায় সব ক্ষেত্রে অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে। সড়কের কাজ, হাট টেন্ডারও অনিয়মের মাধ্যমে দিয়েছে। তার এসব দুর্নীতির আমিসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রতিবাদ করে আসতাম কারণ জনগণের কাছে আমার দায়বদ্ধ। আমাদের এই প্রতিবাদ তার পছন্দ নয় যার কারণে সে আমার বিরুদ্ধে একাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কাউন্সিলর নবিরউদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমাদের পৌরসভাকে বাঁচাতে হবে। তাই আপনাদের সহযোগিতা আমাদের দরকার। তিনি মেয়র আশরাফুলের নানান দুর্নীতি তুলে সাংবাদিকদের জানান, হাট-ঘাট ইজারা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করে যাচ্ছে মেয়র আশরাফুল। দুর্নীতির বিষয়ে মেয়র আশরাফুলের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর নবীর উদ্দীন বলেন, গাংনীর ঐতিহ্যবাহী তহ বাজারের আগে দশটা টিনশেডের পাকা দোকান ছিল সেখানে আগের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতো। সেখানে সংস্কারের নামে দোকান ছোট করে মোট ১৩টা দোকান হয়েছে। সেই ১৩টা দোকানের বিপরীতে মেয়র আশরাফুল ১৬ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, নিয়মানুযায়ি হাটে যে দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সে টাকা পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে অথচ সে টাকা বিনা রশিদে লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে যা পৌরসভায় জমা পড়েনি। কাউন্সিলরবৃন্দ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কোন অনিয়ম দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবনা। কারণ আমাদের এলাকার জনগন উন্নয়নে বিশ্বাসি আমাদের বিশ্বাস করে তারা আমাদের নির্বাচিত করেছে। তাদের বিশ্বাস আস্থা আমরা নষ্ট হতে দিতে পারিনা। কাউন্সিলররা সাংবাদিকদের বলেন, আপনাদের সহযোগিতায় খুব অল্প সময়ে মেয়র আশরাফুলের দূর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করা হবে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংএর সময় সেখানে পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারি ছাড়াও পৌর সচিব সেলিম রেজা উপস্থিত ছিলেন। এসব অভিযোগ বা হাটের দোকান বরাদ্দ এমনকি প্যানেল মেয়র অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মেয়র আশরাফুল ইসলাম আমার নির্বাহি প্রধান তার অনুমতি ছাড়া আমি কিছু বলব না।
এদিকে জানতে চাইলে মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্যানেল মেয়র থেকে কাউন্সিলর নবিরউদ্দিনকে নিয়ম মেনে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মেয়র বলেন, আমার অবর্তমানে সে নিজে বিভিন্নখাতে দুর্নীতি করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবজিবাজারে দোকান ঘর বসিয়ে দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সে পকেটস্থ করেছে। মাছের হাটে দোকান বরাদ্দ দিয়ে সে টাকার কোন হিসেব দেয়নি। তাছাড়া নিয়মানুযায়ী পৌর স্টাফদের বেতন নিশ্চিত করার পর কাউন্সিলররা বেতন পাবে, তা না করে তারাই আগে বেতন নিয়েছে পৌর স্টাফদের বেতন বকেয়া রেখেছে- এটা বেআইনী। এ ধরণের নানান অনিয়ম দুর্নীতির কারণে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর মলিদা খাতুনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে।
