ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা শহরে চলাচলকারী ইজিবাইকের সংখ্যা সহ¯্রাধিক : গ্রামগঞ্জে বেড়েছে আরও
এসএম শাফায়েত:
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের যানজটে নাকাল হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা শহরবাসী। যত্রতত্র এসব যানবাহন অঘোষিত স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী পরিবহন করায় মূল সড়কগুলোতে লেগে থাকে যানজট। শহরের পাড়া-মহল্লা অলি-গলিতে এসব যানের বেপরোয়া চলাচলে বাড়ছে দুর্ভোগ-দুর্ঘটনা। শুরুতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা হওয়ায় এসব যান জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও পরে সংখ্যার দিক থেকে বেড়ে যাওয়ায় এখন তা সুবিধার পরিবর্তে জনজীবনে মহাভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধুমাত্র জেলা শহরে ১ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক রয়েছে। এ ছাড়াও চার উপজেলার ৪১টি ইউনিয়নে কয়েক শতাধিক অনঅনুমোদিত এই বাহনের নিয়ন্ত্রিণহীন চলাচল চোখে পড়ে। এ সকল যানবাহণের যত্রতত্র পার্কিং ও অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজারো মানুষ। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এবং রাস্তার নিয়মনীতি না জেনেই গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও সড়ক দখল করে চলাচলের ফলে জরুরি কাজে নিয়োজিত সরকারি, বেসরকারি, যাত্রীবাহী গাড়িসহ রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও সঠিক সময়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছুতে পারছে না। এই সমস্ত ইজিবাইকের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বললেই চলে। যা আছে সেটি হলো- বাংলাদেশ অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার পরিচয়পত্র।
সম্প্রতি ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে নিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ সম্মিলিত একটি উদ্যোগের কথা আলোচনায় আসে। সেটি হলো- পৌরসভা থেকে লাইসেন্স করার সুযোগ দেয়া হবে তাদের। পৌরসভার অন্তর্গত ইজিবাইক চালকরা পৌরসভা থেকে এবং গ্রাম পর্যায়ের চালকরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন। সকলে লাইসেন্স নিলে চলাচলকারী ইজিবাইকের পরিসংখ্যান পেতে বেগ পেতে হবে না। সে অনুযায়ী রুট নির্ধারণ করে ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে। এজন্য ইজিবাইক মালিক/চালকদের লাইসেন্স প্রতি মাত্র ২ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। সকলকে লাইসেন্স করার সুযোগ করে দিতে কিছু টাকা কম নেয়ার কথাও জানিয়েছেন পৌর মেয়র।
চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দেখা যায় প্রতিদিনই ইজিবাইকের কারণে যানজট লেগেই আছে। এখনি সরকারিভাবে এদের নিয়ন্ত্রণ না করলে, ইজিবাইক চালকেরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইজিবাইকের সাথে পাল্লা দিয়ে মহাসড়কে থ্রী-হুইলারও চলছে। মাঝে মাঝে বাস শ্রমিকরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে সৃষ্টি হয় বাড়তি গোলযোগ। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের হরতাল-অবরোধের রোষানলে পড়তে হয় সাধারণ জনগণকে।
শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, দৌলাতদিয়াড়ের মেহেরপুর বাসস্ট্যান্ড, শহীদ হাসান চত্বর বা চৌরাস্তার মোড়, পৌরসভার মোড়, সদর থানা সংলগ্ন ছুটির সময় ভিজের স্কুল, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কেদারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, নতুন বাজার, কোর্ট মোড়, সরকারি কলেজের সামনে, পৌরসভা মোড়, একাডেমি মোড়, আলমডাঙ্গা রোড, ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড, চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন ও রেলগেটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এই ইজিবাইক নিয়ম না মেনে চালানোর কারণে হরহামেশা দুর্ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী সদর হাসপাতাল সড়কে একমূখী চলাচল শুরু হলেও ইজিবাইক চালকেরা প্রতিনিয়ত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে। এই পয়েন্টেই ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও তারা ইজিবাইক চালকদের সাথে পেরে উঠছে না। অনেকে বলছেন এটি একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। যে কারণে হাসপাতাল একায় কিছুদিন শান্তিপূর্ণ চলাচল করা যেত। বর্তমানে প্রশাসনের নজর না থাকায় আর লোকবল সংকটের কারণে পূর্বের রূপে ফিরেছে হাসপাতাল রোড। অনেক সময় মোবাইল কোর্টে বেপরোয়া ইজিবাইক চালকদের জরিমানা করা হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া যাচ্ছে না। ফলে রাস্তায় যানজট, বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর মতো কা-সহ যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
এদিকে প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় যানজট নিরসনের লক্ষ্যে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বহুবার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও বাস্তবে তেমন কিছুই চোখে পড়ছে না।
এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘আমাদের সড়ক-মহাসড়কে ভারী যানবাহনের শৃঙ্খলা রয়েছে। তবে কিছুটা যানজট সমস্যা রয়েছে ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে। পৌরসভা থেকে তাদের লাইসেন্স করে নিতে বেশ কয়েকবার আহ্বান জানিয়েছি। লাইসেন্স করতে সব মিলিয়ে ২ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে সকলে একসঙ্গে লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে কিছু টাকা কম নেয়া হবে। ইজিবাইক মালিক/চালকেরা লাইসেন্স ভুক্ত হলে তবেই ইজিবাইকের সংখ্যা নির্ধারণসহ তাদের চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে।’
তবে কেনো ইজিবাইক মালিক/চালকরা লাইসেন্স করছেন না? এ প্রসঙ্গে জানতে জেলা অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি মুনতাজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সরাসরি তাদের অফিসে গেলেও সকাল থেকে রাত অবধি অফিস তালবদ্ধ থাকায় কাউকে পাওয়া যায়নি।
