ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা ফায়ার সার্ভির স্টেশনে দু’টি অগ্নিনির্বাপক মোটরসাইকেল সংযোজন
দর্শনা অফিস:
দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আগুন নির্বাপক দুইটি মোটরসাইকেল সংযোজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন একের পর এক অগ্নিকান্ড ঘটে চলেছে তখন আগুন নির্বাপক দুইটি মোটরসাইকেল সংযোজন আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে ছোট-খাটো অগ্নিকান্ড এবং সরু গলিতে ঢুকে অতি সহজে আগুন নেভাতে পারবে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মীর মোশারফ হোসেন জানান।
তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেল দু’টিটে ৪টি সিলিন্ডারে ২০ লিটার করে ৮০লিটার ফোম ও পানি মিশ্রিত আছে। সিলিন্ডারের সাথে একশ’ ফুট পাইপ রয়েছে যা দিয়ে দূর থেকে ফোম ও পানি মিশ্রিত পর্দাথ দিয়ে যে কোন ছোট-খাটো আগুন নেভানো সম্ভব হবে। গত ২২ মার্চ চায়না সরকার গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ২৫০ সিসি এ মোটরসাইকেলগুলো দেশের প্রতিটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে প্রদান করেছে বলে জানা যায়। ফলে দ্রুত অগ্নিকান্ড স্থলে অগ্নি নির্বাপক মোটরসাইকেল পৌঁছে যেতে পারবে এবং সহজে আগুন নেভাতে পারবে। খরা ও শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকান্ডের ঘটনা বেশি ঘটে বলে তিনি বলেন।
এদিকে, এ শিল্পগরীতে রয়েছে দর্শনা কেরু চিনিকল, ডিস্ট্রিলারী, ব্যাংক বীমা, বিশাল কাপড়ের মার্কেট, কাঁচা বাজার, দুইটি রেল স্টেশন, সরকারি কলেজ, ৬টি মাধ্যমিক ও ১০/১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্ত কোথাও অগ্নি নির্বাপক হাইড্রেন সার্ভার, হাইড্রেন লাইন নেই বা পানির রির্জাভ ট্যাংক নেই। এছাড়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র নেই। ফলে অনেকটা অনিরাপদ এসব প্রতিষ্ঠান।
দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন স্থানে সড়ক তাৎক্ষনিক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকান্ড, কাল বৈশাখী ঝড়, ভুমিকম্প, পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনার পাশাপাশি হাট-বাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানে ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩দিন অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ সর্ম্পকে জন-সচেতনতায় করে আসছে। বিশেষ করে দর্শনা শহরে অগ্নিকান্ড নির্বাপকের কোথাও কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, আমরা বার বার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ সম্পর্কে বলে আসছি। তবে তেমন কোন সাড়া মেলেনি। বড় ধরনের অগ্নিকান্ড হলে প্রতিরোধ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিকের সভাপতি টিপু সুলতানের নিকট বাজারে অগ্নি নির্বাপকের কোন ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন ব্যবস্থা নেই তবে আমরা আজকালের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে অগ্নিকান্ড প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এছাড়া বাজারের মধ্যে পানি রির্জাভ রাখা যায়। সে বিষয় ব্যবস্থা নেব। এত কিছুর মধ্যে দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে রয়েছে নানা সমস্যা। এসব সমস্যর মধ্যে দর্শনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের আঙ্গিনায় খানা-খন্দ, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নামা স্লোভ অতিরিক্ত উচু ফলে ফায়ার সাভির্সের গাড়িতে পানি ভর্তি করার গাড়িটি রির্জাভ ট্যাংকির কাছাকাছি যেতে পারে না। রির্জাভ ট্যাংকি থেকে অনেক দুর থেকে পানি ভরতে অনেক সময় লেগে যায়।
এমনকি অগ্নি নির্বাপক গাড়িটি ঘর থেকে নামাতে বেশ খানিক সময় লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নামার স্লোভটি আরো দুর থেকে যদি ঢালু করা হতো তাহলে অতি সহজে গাড়িতে পানি ভরা যেত এবং দ্রুত গাড়িটি স্টেশন থেকে নামতে পারতো। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আগুন নেভানো কর্মীদের রয়েছে নানা সমস্যা। এসব সমস্যার মধ্যে বিনোদনের কোন ব্যবস্থা নেই, টেলিভিশন নেই, যোগাযোগের মোবাইল ফোনটি অর্ধেক ভাঙ্গা, খেলাধুলা করা কোন উপকরণ নেই। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি মাঠের মধ্যে হওয়ায় দুই দিকে দুই কিলোমিটার দূর থেকে বাজার করে আনতে হয়। ফলে একটি ফ্রিজের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে অবস্থানরত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মনে করছেন। তাদের দাবি সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি যদি এলাকার বিত্তশালীরা এ বিষয় এগিয়ে আসে তাহলে এসব সার্ভিস কর্মীরা অনেকটা উপকৃত হতে পারে।
