আলমডাঙ্গা অফিস:
আলমডাঙ্গার হাটবোয়লিয়া থেকে এক উত্ত্যক্তকারী ও তার সহযোগিকে পাকড়াও করেছে এলাকার লোকজন। উত্ত্যক্তকারীরা হারদী থেকে কলেজছাত্রী এক গৃহবধুর পিছু নিয়ে তার বাড়ি পর্যন্ত গেলে গৃহবধূর চিৎকারে লোকজন তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে তারা হাটবোয়ালিয়া এলাকায় পালিয়ে আসলে লোকজন মেহেদী হাসান (২২) নামের একজনকে ও ব্রীজের নিচে একটি বাড়ি থেকে মূল উত্ত্যক্তকারী ওবাইদুর রহমানকে (২৪) ধরে ফাঁড়ি পুলিশের হাতে তুলে দেয়। রাতে দু’জনের নামে থানায় মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার আমতৈল গ্রামের এক গৃহবধু প্রবেশপত্র নিতে আলমডাঙ্গার হারদী এম এস জোহা কলেজে যায়। কলেজের সামনে ওই গৃহবধুর বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ার ইবির গোপালনগর গ্রামের মৃত মশিউর রহমানের ছেলে ওবাইদুর ও তার এক সহযোগিকে সাথে নিয়ে অপেক্ষা করছিল। তাদের দেখে গৃহবধু কলেজ গেট থেকে দৌড়ে হারদী হাসপাতালের সামনে থেকে বাসে উঠে পড়ে। এ সময় উত্ত্যক্তকারীরা তার পিছু নেই। তারা গাংনী উপজেলার আমতৈল গ্রামে পৌছে গৃহবধুর স্বামীর বাড়ি খোঁজ করে বাড়ি গিয়ে হাজির হয়। এ সময় তার চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে উত্ত্যক্তকারীদের ধাওয়া করে। তারা পালিয়ে হাটবোয়লিয়া আসলে লোকজন কুষ্টিয়ার ইবির ঝাউদিয়ার আজিজুল হকের ছেলে মেহেদী হাসানকে ধরে ফেলে। পরে হাটাবোয়লিয়া ব্রীজের নিকটের একটি বাড়ি থেকে ওবাইদুর ধরা পড়ে। ধৃত দু’জনকে হাটবোয়লিয়া ক্যাম্প পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গৃহবধু জানায়, বিয়ের আগে থেকেই বখাটে ওই যুবক তার পিছু নিয়ে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তার অত্যাচারে ৮ মাস আগে সে নিজে পছন্দ করে গাংনীর আমতৈল গ্রামে বিয়ে করে। বিয়ের পর ওই যুবক তার পিতা-মাতাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি তার স্বামীকেও মোবাইলে হুমকি দিয়ে বলেছে তার স্ত্রীকে যে কোনভাবে ক্ষতি করে দেবে। স্বামীর বাড়িতেও ওই গৃহবধুকে ভয়ে ভয়ে থাকতে হতো। এরাই একপর্যায়ে বখাটেরা বুধবার তার পিছু নিয়ে তাকে এসিড নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর পরিবারের লোকজন বাদি হয়ে রাতে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
