বিশেষ প্রতিবেদক:
সময় বিকাল সাড়ে ৩টা। দিবা শিফটের ছাত্রীরা তখন টিফিনের বিরতি পার করছিল। এরমধ্যে বেশ কয়েকজন বিদ্যালয়ের ১ নম্বর ভবনের দশম শ্রেণীর ক্লাসরুমে অবস্থান করছিল। হঠাৎ চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়লো মাথার উপর। অনাকাঙ্খিত এ দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হলো দশম শ্রেণীর ছাত্রী সূচণা ও ছুম্মা। তাদেরকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অভিভাবকের মাধ্যমে বাড়ি পাঠানো হয়। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খুব একটা আমলে না নিলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায় রৌহমর্ষক দৃশ্য। দেখা যায় পাঠদানের প্রতিটি কক্ষে লাগানো ফ্যান ও লাইটের করুণ দৃশ্য। প্রতিটি ফ্যান ও লাইট নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষণ করার কথা থাকলেও অনেকটা অযতœ অবহেলায় সেগুলো জীর্ণ প্রায়। আবার বেশির ভাগ সময়ই ক্লাসরুমগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। কারণ, লাইট জলে না। নজর না দেয়ায় সিলিংয়ে সংযুক্ত রডগুলো মরিচা ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ধরণের সিলিংয়ে লাগানো ফ্যানগুলোর আবার পূর্ণ ভোল্টেজ না পাওয়া, দুর্বল ক্যাপাসিটর, বল বিয়ারিং জ্যাম ও কয়েলের ইন্সুলেশন দুর্বল হয়ে পড়তে দেখা যায়। ছাত্রীদের দাবি কোন কিছু একেবারে নষ্ট না হলে তা আর ঠিক করা হয় না। কিন্তু এ ধরণের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষণ না করা হলে আরও বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হতে পারে প্রাণ হানিও।
ফ্যান খুলে পড়ে দুই ছাত্রী আহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্মৃতি কণা বিশ্বাস বলেন, ‘ফ্যান খুলে পড়ার পর পরই সবকিছু ঠিক করা হয়েছে। আর বাকীগুলো ঠিক করা হচ্ছে।’
