আলমডাঙ্গা অফিস:
কয়েকজন বখাটে যুবকের হাতে শারীরিক নির্যাতিত হয়ে আত্মসম্মানের ভয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে চাঁদনী আক্তার মুন্নী (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রী। মুন্নি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাতলমারি গ্রামের হেকমত আলী ওরফে ভাষার মেয়ে। সে কেবিএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণিতে পড়ত। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। মুন্নির পরিবারের দাবি, যৌন হয়রানী করার কারণেই লজ্জায় আত্মহত্যা করছে সে।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে মিরপুর থানায় মুন্নির পিতা হেকমত আলী ওরফে ভাষার বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন, উপজেলার আমলা এলাকার আরোবিয়া খাতুনসহ তার ছেলে জয়নাল, আনছের আলীর ছেলে মিঠুন, রেজন আলীর ছেলে আঙ্গুর, নাসের রাজের ছেলে রাজু এবং আফতার আলীর ছেলে পারভেজ।
স্থানীয়রা জানায়, মুন্নী তার চাচাতো বোনের বিয়ের জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে আমলা বাজারে ফুল কিনতে যায়। পথের মধ্যে এলাকার চারজন বখাটে জোরপূর্বক পাশের আমলা আলু বীজ খামারের মধ্যে নিয়ে যায়। তার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন মুন্নীকে উদ্ধার করে স্থানীয় মহিলা মেম্বার রেজেলা খাতুনের সাথে অটোরিকশা যোগে তার বাড়িতে পাঠায়। বাড়ি ফেরার পথেই ফের মেম্বারকে হুমকি দিয়ে অটোরিকশা থামিয়ে মুন্নিকে ফের পার্শ্ববর্তী ছাদিমনের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ সময় তার ওপর শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ওই বখাটে যুবকরা। পরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই মুন্নির চাচা হাশেম আলীর বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মুন্নী। পরে তার পড়ার টেবিলে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে বখাটেদের অত্যাচারের বিষয় তুলে ধরে সে।
মুন্নির চাচা হাশেম আলীর মুঠোইফোনে জানান, মুন্নিকে যৌন হয়রানী করা হয়েছে। এ কারণেই এতটুকু একটি বাচ্চা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত বখাটেদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মিরপুর থানার (ওসি) আবুল কালাম জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মুন্নির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
