ছবির ক্যাপশন:
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরষ্কার বিতরণকালে অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা-২০১৯’র পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান।
এ সময় অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান বলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শুধুমাত্র এ জেলারই শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এ প্রতিষ্ঠান দেশের মধ্যে সেরা একটি বিদ্যাপীঠ। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে সাফ্যলের সাক্ষর রাখছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডে ক্রিকেট ও ফুটবলে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ রানার্স আপ হয়েছে। সাহিত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কলেজের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পুরষ্কার পাচ্ছে। এবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া ১৩৮ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। ২০ জন শিক্ষার্থী মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমি এ কলেজে যোগদানের পর, ১৪০ শয্যার একটি ছাত্রী হোস্টেল ও ৬ তলা একটি পরীক্ষার ভবন, একটি কমার্স ভবন নির্মাণ হয়েছে। ১ হাজার আসন বিশিষ্ট একটি অডিটরিয়াম কাম লাইব্রেরি তৈরীর জন্য প্রস্তাবনা জমা দিয়েছি। এটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা কামনা করছি।
এসময় তিনি আরো বলেন, মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা আনতে পারে সুস্থ দেহ-সুস্থ মন। বিজয়ী হওয়াটা বড় কথা নয়, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। তাই অংশগ্রহনকারী সকল খেলোয়াড়দের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন বলেন, খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের জাতির ভবিষ্যৎ। পড়াশুনার পাশাপাশি অন্যান্য কো-কারিকুলাম শিখতে হবে। এরমধ্যে খেলাধূলা অন্যতম। বাল্যবিবাহ, মাদক ও জঙ্গিবাদের মতো ঘটনা ঘটছে। খেলাধুলা থাকলে এসব ঘটতো না। সারাদিন ফেসবুকে থাকেন। এতে লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। আমরা যদি যার যার কাজ সঠিকভাবে করি তাহলে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে দেশ। খেলা দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব চেনে। ভালো খেলা করে আর্থিক উন্নতি ঘটানো যায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে সুনাম অর্জন করে কলেজ ও দেশের মুখ উজ্বল করবে। তোমাদের মাঝেই দেশের নেতৃত্ব তৈরী হবে। তাই মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার পাশাপাশি খেলাধুলাও করতে হবে।
অনুষ্ঠানে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা-২০১৯’র আহ্বায়ক আবুল কালামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে থেকে বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. এ কে এম সাইফুর রশিদ, চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) আহসান হাবিব পিপিএম, জেলা শিক্ষা অফিসার নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী, সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম ই¯্রাফিল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. আনসার রহমান টিপন।
বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সী আবু সাইফের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আতিয়ার রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল জব্বার, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান খোন্দকার রোকনুজ্জামান, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আব্দুল আজিজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মকছুদুল হক খান চৌধুরী, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সাবেক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মাহবুবুর রহমান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. ফারুক হোসেন, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হেমায়েত আলি, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল হাসানসহ চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকবৃন্দ।
