ছবির ক্যাপশন:
এখনও নিরুত্তাপ চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলার নির্বাচনী মাঠ : সাঙ্গ হলো প্রচার-প্রচারণা
বিশেষ প্রতিবেদক:
কে হচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলার অভিভাবক? বর্তমান চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান পদে সব জায়গায় রয়েছে নতুন পুরাতন সমীকরণ। তবে সকলের আলোচনা সমালোচনার তুঙ্গে দলীয় মনোনয়নে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাড়ানো স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। উপজেলাবাসীর মুখে এখন নানান কথাসহ জল্পনা-কল্পনার রোল। কার পাল্লা ভারী, শেষ হাসি হাসবেন কে অথবা ভোটের শেষ হিসেব কি দাড়াবে এমন সব ভাবনা যেন আর সইছেনা, যদিও রাত পোহালে নির্বাচন। অনেকে এ আসন্ন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কৌশলগত দেখলেও নির্বাচনের লড়াইয়ে সকলে তাদের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের চাওয়া পাওয়ার মূল্য দেবেন বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিকে পূর্বের নির্বাচনের কথা ভেবে নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও এবার পুলিশের ভূমিকা নির্ভয়ে তাদের কেন্দ্রে আসতে সহায়ক হবে। কারণ চুয়াডাঙ্গা সদর, জীবননগর, দামুড়হুদা ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচনে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকছে দু’হাজারের বেশি পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব সদস্য। এ ছাড়াও ৪ জন জুডশিয়িাল ম্যাজস্ট্রিটে ও ১৪ জন নর্বিাহী ম্যাজস্ট্রিটে নয়িোগ প্রদান করা হয়েছে। কোথাও কোন বআেইনী কছিু পরলিক্ষতি হলে তাৎক্ষনকি ম্যাজস্ট্রিটেগণরে সহায়তা নয়োর জন্য নর্দিশেনা প্রদান করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নর্বিাচন উপহার দয়োই তাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দশ্যে।
পর্যবেক্ষণ তথ্যানুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন আসাদুল হক বিশ্বাস। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান। তার প্রচারণায় কাজ করেছেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ ও যুগ্ম সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকিসহ সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকর্মীরা। এ পদে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ছোট ভাই ও পৌরসভার সাবেক মেয়র, জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। তার সঙ্গে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগসহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থি হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সরব জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দার। তিনি এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দারের ভাতিজা। এখনও পর্যন্ত এ তিনজনকে নিয়েই সদর উপজেলার সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে আরও প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাকের পার্টির প্রার্থী শফি উদ্দীন (গোলাপ ফুল) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির মামুন অর রশিদ (হাতুড়ি)।
জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান। দলীয় মনোনয়নে প্রথম দিকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও কিছুটা মান-অভিমানের দোলাচলে একটু পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। প্রসঙ্গ-প্রচার প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবারও নির্বাচন করবেন বলে জানা যায়। এ পদে মোটরসাইকেল প্রতীকে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মর্তুজা। তিনি জীবননগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে অমলকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি সমর্থন জানিয়ে সে সময় নির্বাচনে অংশ নেননি। এবার একই পদে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ তিনিও। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংসদ হাজী আলী আজগার টগর এবার তাকেই সমর্থন জানাচ্ছেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল প্রতীকের হয়ে কাজ করছেন। চেয়ারম্যান পদে এবার জোর আলোচনায় বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ। তিনি কাপপিরিচ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সরব। আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল মল্লিকও, তিনি আনারস প্রতীক পেয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে।
দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন সিরাজুল ইসলাম (ঝন্টু)। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। প্রচার প্রচারণায় সরব, আলোচনায় রয়েছেন তিনি। প্রচারণার শেষ দিনে তাঁর পক্ষে ভোটের মাঠে নেমে দলভারী করেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহসম্পাদক হাসেম রেজা। আলোচিত এ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থনে বেশ জোর পেয়েছেন ঝন্টু। এদিকে, এ পদে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আলী মনসুর বাবু। তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংসদ হাজী আলী আজগার টগরের ছোট ভাই। ভাইয়ের সমর্থনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে মনে করছেন তিনি নিজেকে। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস কাপ পিরিচ প্রতীকে লড়ছেন। প্রার্থী হিসেবে আরও রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এহসানুল হক (লাঙ্গল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তালেব (মোটরসাইকেল)।
আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান। তিনি চিৎলা ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমান দায়িত্বরত। এরপর দলীয় মনোনয়নে নৌকা প্রতীক পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হতে জোর প্রচেষ্টায় রয়েছেন। এ পদে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিক আইয়ুব হোসেন জোর আলোচনায় রয়েছেন। তার প্রতীক আনারস। তবে বসে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুজ্জামান মল্লিক ওরফে হুজুর আলী। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রচার প্রচারণা সেরেছেন। এ ছাড়াও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে সানোয়ার হোসেন লাড্ডুও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
এদিকে, যিনি আগামী দিনে উপজেলা বাসীর সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন ব্যক্তিকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে চাইবেন বলে জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী এবং দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে তার ভূমিকা রাখতে পারবে তাকেই ভোট দেবেন সচেতন ভোটারগণ।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম বলেছেন, ‘যে কোন নির্বাচন ডিউটিই অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। সতকর্তার সাথে ডিউটি পালন ও নির্বাচনের আগের রাত থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুলিশ সদস্যদের খুবই সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভোট চলাকালীন সময়ে অনলাইন ভিত্তিক তথ্য যাচাই না করে কোন গুজবে কান দিতে বলা হয়েছে তাদের। ভোট কেন্দ্রের ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, আনসারসহ অন্যান্য সকল সদস্যদের সমন্বয়ে সুন্দরভাবে ডিউটি পালন করবেন। ভোট দিতে আসা বৃদ্ধ ও নারী ভোটারসহ সকল ভোটারদের সাথে মার্জিত ও ভদ্র আচরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমাদের আর কোন ক্রটি নাই। ইতমধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার ৭০৬ জন পুলিশ সদস্যসহ খুলনা জেলার ৭০০ জন এবং বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ১০০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে পালনে প্রস্তুত হয়েছে। নির্বাচনে সদর উপজেলায় ৪৬৮ জন, জীবননগরে ২৬১ জন, দামুড়হুদায় ৩৪২ জন এবং আলমডাঙ্গায় ৪৩৫ জন পুলিশ/এপিবিএন সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করবেন। এছাড়াও ৩০টিরও বেশি স্ট্রাইকিং ও পর্যপ্ত রিজার্ভ ফোর্স থাকবে।’
বাংলাদেশ গেজেটের তথ্যানুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৮৭টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ২৭১ জন। জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৫৭টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৬৭ হাজার ৮১৮ জন এবং নারী ভোটার ৬৭ হাজার ৩৩৭ জন। দামুড়হুদা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৮৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৩১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১০ হাজার ১১০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ৫২১ জন। আলমডাঙ্গার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১০৮টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৫ জন এবং ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮১ জন নারী ভোটার।
