ছবির ক্যাপশন:
শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওরিয়েন্টেশনে ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শপথ নিলো উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী। ‘মাদক ও বাল্যবিয়েকে না বলুন, বাল্য শিক্ষাকে হ্যাঁ বলুন’ এ ¯ে¬াগান নিয়ে গতকাল বুধবার মাদক এবং বাল্যবিয়েকে লাল কার্ড দেখাল এক হাজার শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে মেয়েরা ১৮ বছর এবং ছেলেরা ২১ বছরের আগে বিয়ে করবে না বলে শপথ বাক্য পাঠ করেছে। সেই সঙ্গে শপথ নিলো মাদক ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করারও। অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করার জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে চত্বরে বেলা ১০টার সময় বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সালাউদ্দীন কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস।
জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ১৮ বছরের নিচে কোন মেয়েকে বিয়ে দিলে সেটি বাল্য বিবাহ বলে গন্য হবে, আর বাল্য বিয়ে দিলেই বিয়ের অনুষ্ঠানেই জেল দেওয়া হবে। তবে শুধু বরপক্ষ বা কনে পক্ষের নয়, যে সমস্ত অতিথি বাল্য বিবাহের দাওয়াত খেতে আসবে তাদের কেউ জেল দেওয়া হবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন, লেখাপড়া করতে হলে সকলকে মনোযোগী হতে হবে, মোবাইল বা ফেসবুক থেকে দূরে থাকতে হবে। স্কুলে কখনই মোবাইল ফোন নিয়ে আসা যাবে না। নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে ও সমাজে মানুষের মতো মানুষ হতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, জীবননগর থানার ওসি (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ, জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুন্সী মাহবুবুর রহমান বাবু, যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. আকিমুল ইসলাম, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের জহির রায়হান, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান পিল্টু প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও বন্ধে মানসম্পন্ন শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে মেয়েদের শিক্ষার উপর বেশি জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে মেয়েদের সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।’ উক্ত অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের বকুল হোসেন।
