ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ ডেস্ক:
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট উৎসব। প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী ভোটে নির্বাচন করবেন তাদের প্রতিনিধি। ছয় ঘণ্টার ভোটে চূড়ান্ত হবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃত্ব। এই নির্বাচন সামনে রেখে উৎসবমুখর ক্যাম্পাস। আছে শঙ্কাও। বিরোধী প্রার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে রাতেই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ব্যালট-বাক্স। গণমাধ্যমের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা করছে প্রশাসন।
মান্দাতার আমলের স্টিলের ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনে। প্রচার প্রচারণায় আচরণবিধির নানা অভিযোগ থাকলেও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির গড়তে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র স্থাপন আর ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর জোরালো দাবি ছিল শুরু থেকেই। এসব দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। ভোটের আগের এসব আলামতকে খুব ভালোভাবে নিতে পারেননি সাধারণ প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে এসে ভর করেছে নানা শঙ্কা। দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার ডাকসুর নির্বাচনে চোখ পুরো দেশের। বিগত নির্বাচনগুলোর নানা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা সামনে রেখে সবার অধির আগ্রহ কি হবে ডাকসুতে।
অতীতের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে যেসব মডেল প্রত্যক্ষ করা গেছে তা কি ডাকসুতেও দেখা যাবে? নাকি সাধারণ ভোটাররা নিজেদের রায় দিয়ে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যালটের শক্তি ফিরিয়ে আনবেন এমন প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনেও আজকের নির্বাচন এক বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে নাকি অপচেষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করবে এটিই এখন দেখার বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে আজ সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে ডাকসুর।
নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত প্রশাসন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মু. সামাদ বলেন, ‘বহুল প্রত্যাশিত ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোট কেন্দ্রে আসতে অন্যান্য দিনের মতো গাড়িগুলো চলাচল করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচিত করবে। যিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা নিয়ে কাজ করবে। প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান কিভাবে আরো সুন্দর হয় সে বিষয়ে কাজ করবে।’ প্রো-ভিসি বলেন, ‘আমরা সব আয়োজন সম্পন্ন করেছি। এখানে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করবেন। এটা শিক্ষকদের নৈতিকতার প্রশ্ন। আমরা আশা করি শিক্ষার্থীরা আমাদের শিক্ষকদের প্রতি আস্থা রাখবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ করা শিক্ষার্থীদের ঠিক না।’
অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট, কী বলছে প্রশাসন: বহুল প্রত্যাশিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হচ্ছে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে। স্টিলের রঙিন বাক্সে ব্যালট পেপার সংরক্ষিত করা হবে। যে বাক্সটি তালা দেয়া থাকবে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রার্থীরা। যদিও প্রশাসন বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নির্বাচন, রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে এ বাক্স ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ডাকসুর আগের সব নির্বাচনেও এ ধরনের বাক্স ব্যবহার করা হয়েছিল। এবার ভোটার বেশি হওয়ায় কিছু বাক্স নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রার্থীরা। গতকালও ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব বাক্স পরিবর্তনের দাবি করেন তারা। বলেন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের। এ বিষয়ে জিএস প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের মাধ্যমে কারচুপির আশঙ্কা থেকে যায়। আমি মনে করি এর মাধ্যমে একটি গোষ্ঠিকে সুবিধা দিতে চায় প্রশাসন। যারা রাতের আঁধারে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ফেলে দিলেও কেউ কিছু বলতে পারবে না। আমরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মু. সামাদ বলেন, যে বাক্সগুলো ডাকসু নির্বাচনে ব্যবহার হচ্ছে এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়। ডাকসুতেও আগের সব নির্বাচনে এসব বাক্স ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রার্থীরা যদি বিষয়টি আমাদের আগে জানাতো তাহলে আমরা বাক্সগুলো ব্যবহার না করে অন্য চিন্তা করতাম। কিন্তু তারা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এসে এসব বাক্সের ব্যবহার না করার দাবিতে আন্দোলন করছে। এ মুহূর্তে বাক্সগুলো পরিবর্তন করে অন্য বাক্সের ব্যবহার করা আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়। এখানে কোনো অনৈতিক কাজের সম্ভাবনা নেই। কারণ শিক্ষকরাই নির্বাচনী কাজে সংশ্লিষ্ট থাকবেন।
