তানভীর সোহেল:
‘আমার মরার জননি কেও দাই নয়। সবাই খুব ভালো ছিলো, শুদু আমি খারাপ ছিলাম। আমার জননি এই বাড়িতে ঝগরা হয়, তাই আমি চলি গেলাম। আমার সামি (স্বামী) খুব ভালো ছিলো। মা, বাবা রেকছোনা বু তোমরা সবাই আমার তানহাকে দেখবা। আমি যদি তোমাগের কাছে কোন ভুল করি থাকি, মাপ করি দিবা। সবাই তানহাকে খুব ভালোবাসবা। জিহাদ আব্বা তোমাগের খুব দেখতি মন চাইছে।’ আলমডাঙ্গায় এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করার আগে এভাইে সুইসাইড নোট লিখে যায়। তার মৃত্যুর পরে (সুইসাইড নোট) চিরকুটটি হাতে পেয়ে শোকের ছায়া নেমেছে পুরো পরিবারে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা হারদী ইউনিয়নের কুয়াতলা গ্রামের নিয়াজ উদ্দিনের ছেলে তরিকুল ইসলামের সাথে একই ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের নাছিমা খাতুন (২৫) এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তেকে তাদের সংসার খুব ভালোই চলছিলো। তাদের ছোট্ট সংসারে তানহা নামের একটি ফুটফুটে সন্তানও আসে। এরপরেই ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে গত ৩ বছর আগে নাছিমার স্বামী তরিকুল প্রবাসে পাড়ি জমান। স্বামী বিদেশ থাকায় শ্বশুর বাড়ীর লোকজনের সাথে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। গতকাল বিকালে এই পারিবারিক কলহের জেরে বিদেশে থাকা স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে ঝগড়া হয় নাছিমার। পরে গতকাল সন্ধ্যায় অভিমানে নিজ ঘরের সিলিংয়ে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা গৃহবধূ নাছিমা।
এদিকে, এই ঘটনায় গতকাল রাতেই আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলমডাঙ্গা থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানা যায়।
