ছবির ক্যাপশন:
*ভবন মালিক ও রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা *ওয়াহেদ ম্যানশনের বেজমেন্ট পার্কিংয়ের জায়গায় অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল -ডিএসসিসির তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি *চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি হয়তো এড়ানো যেত -মানছেন ওবায়দুল কাদের *গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে চকবাজারের বাসিন্দারা, গ্রামে ফিরেছে ভাড়াটিয়ারা *ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কুয়েত ও বেলারুশসহ বিভিন্ন দেশের শোক প্রকাশ
সমীকরণ প্রতিবেদন: রাজধানীর পুরান ঢাকাস্থ চকবাজার থানাধীন চুড়িহাট্টা এলাকায় বিশ্বব্যাপী আলোচিত অগ্নিকা-ের ঘটনায় হাজি ওয়াহেদ ম্যানশন ভবনটিতে নিয়ম-নীতির বালাই ছিল না বলেই জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। একটি ভবনের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ছিল ভবনটিতে তা না করে উল্টো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এ ভবন মালিক। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সবগুলো ভবন অনুমোদিত কি না তাও জানে না রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ঘটনার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) গঠিত ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটির তদন্তেও অনিয়ম-গাফিলতি আর বেপরোয়াপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কমিটি প্রধানসহ অন্য সদস্যরা। ভবনটিতে কোনো রকমের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বরং প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল ছিল জানিয়েই প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টার হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করে ডিএসসিসির ১১ সদস্যের গঠিত তদন্ত দল। তদন্ত কমিটির সদস্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এসএম জুলফিকার রহমান বলেন, এই ভবনে আগুন নেভানোর জন্য কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। প্রচুর কেমিক্যাল ছিল, যে কারণে আগুন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিফিলের পদার্থ ছিল। এটা নিজেই একটা দাহ্য পদার্থ। এ ছাড়া আরও অন্যান্য কেমিক্যাল তো ছিলই। ওই ভবনে থাকা প্রত্যেকটা জিনিসই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে। তদন্ত কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, পারফিউমের বোতলও রিফিল করা হতো এখানে। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমার মতো কাজ করেছে। কেমিক্যালের কারণে আগুন এভাবে ছড়িয়েছে, না হলে কখনোই আগুন এভাবে ছড়ায় না। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি এখানে যে জিনিসগুলো আছে সেগুলো অবশ্যই কেমিক্যাল। এদিকে, ওয়াহিদ ম্যানশনে কেমিক্যাল ছিল না- ঘটনার পর প্রথম দিকে শিল্পমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন মন্ত্রী এ কথা কোন আঙ্গিকে বলেছেন সেটা তার জানা নেই।তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রফেসর ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেছেন, ওয়াহিদ ম্যানশন একটি অনেক বড় বিল্ডিং। এ ধরনের ভবনের মধ্যে মাত্র একটি সিঁড়ি, যা পর্যাপ্ত নয়। ভবনের দ্বিতীয় তলাটা পুরোটাই গুদাম ছিল। ওই ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত না। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ওয়াহেদ ম্যানশনসহ সবগুলো ভবন নিয়েই মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উদাসীনতার প্রমাণই মিলছে প্রতিটি ধাপে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াহেদ ম্যানশন পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, এই ভবনে কেমিক্যালের কোনো গোডাউন ছিল না। মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ডিএসসিসির তদন্ত দলের প্রধান বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল। এখানকার যে পাউডার, সেগুলো কেমিক্যাল। এখানে যেসব প্লাস্টিকের বোতল পাওয়া গেছে, সেগুলোও কেমিক্যাল মাখানো। সর্বোপরি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন পুনরায় বলেন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই চকবাজারে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তিনি এ কথা জানান। এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অগ্নি দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও সুপারিশ দেয়ার জন্য তার নির্দেশে শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনও পেশ করবে। পুরান ঢাকার নিমতলীর ঘটনার পর আরও সতর্কভাবে নজরদারি চালানো হলে চকবাজারের অগ্নিকান্ডে বিপুল প্রাণহানি হয়তো এড়ানো যেত উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জনসাধারণ যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদেরও সচেতন হওয়া দরকার। কারণ তাদের এখানে জীবিকার চেয়ে জীবনের ঝুঁকি বেশি। সেখানে সচেতনতাও একটা ব্যাপার ছিল, সতর্কতার ব্যাপার ছিল। পাশাপাশি যানবাহনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়ায় এর বিকল্প কী হতে পারে, তা ভেবে দেখার দরকার। গতকাল শুক্রবার ঢামেকের বার্ন ইউনিটে গিয়ে তিনি এসব বলেন। সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে না দাবি করে তিনি আরও বলেন, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভয়াবহ এই অগ্নিকা-র ঘটনায় সম্ভাব্য তিনটি কারণ রয়েছে জানিয়েছেন বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমরা অনেক ক্লু পেয়েছি। তাই আমরা ধারণা করছি তিনটি কারণে আগুন লাগতে পারে। কারণগুলো হচ্ছে- ট্রান্সফরমার, গ্যাস সিলিন্ডার অথবা কেমিক্যাল বিস্ফোরণ। এদিকে আগুন লাগার ঘটনায় বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকেও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলমকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। বাকি দুই সদস্য হলেন- পরিদর্শক মুনীরা ইয়াসমিন ও তোফাজ্জল হোসেন। এই তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় নিহত ৬৭ জনের মধ্যে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৪৬ জনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন ও ঢামেক কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ভয়াবহ অগ্নিকা-ের এ ঘটনায় পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া আরও ২১টি লাশের বিষয়ে সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পর্যন্ত নিতে না পারায় প্রশাসন ইতোমধ্যে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে লাশগুলোকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করবে বলে ঘোষণা দেয়। ২১টি লাশের আত্মীয়-স্বজনদেরও কেউ এখনো পর্যন্ত লাশের শনাক্ত করতে না পারায় এমন সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গের সামনে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ পুলিশ সুপার রোমানা আক্তার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২১টি মরদেহ বেশি পুড়ে যাওয়ায় কোনোভাবেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এখনো। যারা দাবিদার আছে তাদের দেখানো হয়েছে। কিন্তু শনাক্ত করা যায়নি। এসব লাশ হস্তান্তরে এখন একমাত্র উপায় ডিএনএ টেস্ট। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া এগুলো হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা সব মরদেহ থেকে ডিএনএ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান, হাড়, দাঁত, মাংস সংগ্রহ করছি। এখন আত্মীয়স্বজন যারা দাবিদার আসছে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৩ জন দাবিদার এসেছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষ হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অ্যান্ড এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর জানান, মোট ৪৬ লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২১টি লাশ বিভিন্ন মর্গে রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত লাশের স্বজনদের ২০ জনের ডিএনএ নমুনা গ্রহণ করছে সিআইডি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির সহকারী ডিএনএ অ্যানালিস্ট নুসরাত ইয়াসমিন। তিনি বলেন, লাশের সন্ধানে থাকা স্বজনদের রক্তের নমুনা রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া দিনব্যাপী চলমান থাকবে। পুরো বিষয়টির জন্য সময় লাগবে ৬ মাস। এছাড়া গত বুধবার রাতে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে একটি এবং গতকাল শুক্রবার সকালে নিহত একজনের স্বজন আরেকটি মামলা করেন চকবাজার থানায়। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেনের করা মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এরপর গতকাল সকালে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন আগুনে জীবন্ত দগ্ধ আরাফাত ইসলাম সিয়ামের (১৯) আত্মীয় হাবীবুর রহমান রুবেল। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চুড়িহাট্টার হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক হাজি আবদুল ওয়াহেদের দুই ছেলে শহীদ ও হাসানসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনায় আহত সবারই অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত একজনও আশঙ্কামুক্ত নয়। কারণ সবার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি আরও বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মোট ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ৫ জনকে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। আইসিইউ সংকটের কারণে বাকি চারজনকে নেয়া সম্ভব হয়নি। আহত ৯ জনের কেউই আশঙ্কামুক্ত নয়। সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সবার ডিপ বার্ন হয়েছে। শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে কোনো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো দর্শনার্থীকেই ঢুকতে দিচ্ছি না। কারণ ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি আছে। এই হসপিটালে রোগী মৃত্যুর প্রধান কারণ ইনফেকশন। চকবাজার চুড়িহাট্টা এলাকায় অগ্নিকা-ের এ ঘটনায় যেমন পুরো এলাকায় চলছে শোকের মাতম তেমনি দ্বিতীয় দিনের মতো ওই এলাকার সব দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে এখনো। ভাড়াটিয়াদের বেশিরভাগই গ্রামের বাড়ি চলে গেলেও মহা সংকটে পড়েছেন স্থানীয়রা। গত দুই দিন ধরে চকবাজারের চুড়িহাট্টা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় পানিও পাচ্ছেন না এলাকার লোকজন। যে কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। পানি বিদ্যুৎ সংকটে রান্নাবান্না করতে না পারায় হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে। অগ্নিকা-ের ঘটনার পর থেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। অপনজনকে খুঁজে পেতে স্বজনরা ভিড় করেছেন মর্গের সামনে। স্বজন হারাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো মর্গ এলাকা। কেউ কেউ ঢাকা মেডিকেলে লাশ না পেয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন অন্য হাসপাতালের মর্গে। দুইদিন ধরে মর্গ থেকে মর্গে প্রিয়জনের লাশ খুঁজে ফিরছেন তারা। প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে একটি পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগলে পরে তা আশপাশের আরও তিনটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও ব্যর্থ হয়েছে ৬৭টি তাজা প্রাণ উদ্ধারে। নিহতদের সবার লাশ উদ্ধার করা হলেও ঘটনার দিন প্রায় অর্ধশত জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেও মারা যায় বেশকজন। অথচ আশ্চর্য্যরে বিষয় বিশ্বব্যাপী আলোচিত এবং হতাহতের এত বড় ঘটনায় তদন্তে অসংখ্য ত্রুটি প্রমাণিত হওয়া সেই হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনসহ আশপাশের ভবনগুলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউকের) অনুমোদিত কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট জোনের রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. নুরুজ্জামান জহির। সরকারি ছুটির কারণে কাগজপত্র দেখা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে রাজউকের এ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে এখনো খোঁজখবর নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আপনাকে (সাংবাদিক) বুঝতে হবে এটা পুরান ঢাকা। এখানে অনেক আগে থেকেই ভবন তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজউক অনেকদিন ধরে কাজ করছে। তবে সবার আগে দরকার সচেতনতা। এভাবে ভবন নির্মাণের নিয়ম নেই বলেও জানান তিনি। সর্বশেষ আলোচিত এ অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের আশু আরোগ্য কামনায় গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা বিশেষ মুনাজাতের আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। এ ছাড়া তিনি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনার করার জন্য অনুরোধ জানান এবং সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদ-মক্তব্যে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে নিহতদের আত্মার মাঘফিরাত কামনা করা হয়। এ ছাড়াও এ ঘটনায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কুয়েত ও বেলারুশসহ বর্হিবিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীরা শোক প্রকাশ করেছেন।