মেহেরপুরে ভুট্টাক্ষেতে ‘ফল আর্মি ওয়ার্ম’ পোকার আক্রমণ!

আপলোড তারিখঃ 2019-02-11 ইং
মেহেরপুরে ভুট্টাক্ষেতে ‘ফল আর্মি ওয়ার্ম’ পোকার আক্রমণ! ছবির ক্যাপশন:
গাংনী অফিস: আমেরিকা মহাদেশের মারাত্মক ক্ষতিকারক পোকা ‘ফল আর্মি ওয়ার্ম’ ফসলের জন্য বিধ্বংসী এই পোকা আমেরিকা, আফ্রিকার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রবেশ করেছে। গত এক সপ্তাহ আগে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া কারিগর পাড়া, খাসমহল, রংমহলসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ পোকা ছড়িয়ে পরেছে। তেতুলবাড়িয়া গ্রামের কারিগর পাড়ার সুজন হোসেনের ৩১ শতক ভুট্টা ক্ষেতে এ পোকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে এখন এ পোকাটি গাংনী উপজেলা ও মেহেরপুর সদরের বেশ কিছু ক্ষেতে দেখা যাচ্ছে। পোকাটি এতটাই ভয়াবহ যে মুহূর্তেই ক্ষেতের পর ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ক্ষেতের পরিমাণ। প্রতিষেধক ব্যবহার করেও প্রতিকার মিলছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এদিকে রোগ ব্যধি কম হওয়া ও বিক্রি সুবিধার কারণে গত বছরের ১০ হাজার হেক্টর ভুট্টার আবাদ এবার ১৫ হাজার ৮শ’ ৬০ হেক্টর ছাড়িয়েছে। কিন্তু এ নতুন পোকার আক্রমণে কৃষকের মুখের হাসি কেরেছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, পোকাটি এতাটাই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তাতে ধ্বংসের মুখে পড়বে জেলার ভুট্টা চাষ। বর্তমানে অনেক গমের জমিতেই ছড়িয়ে পরছে এই পোকা। অল্প সময়ে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে জেলার খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে ‘ফল আর্মি ওয়ার্ম’। তবে, মেহেরপুর কৃষি অধিদপ্তর বলছে, ফল আর্মি ওয়ার্ম প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা উঠান-বৈঠক ও লিফলেট বিতরনসহ কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এটা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তেতুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম জানান, এই এলাকাটি সীমান্তবর্তী তাই, ভারত থেকে এক ধরণের পোকা এসে আমাদের ভুট্টা ক্ষেতগুলোতে আঘাত হেনেছে। এ পোকা ভুট্টার বাইল ও পাতা কেটে খাচ্ছে। এগুলো দিনের আলোতে ভুট্টা গাছের থরের ভিতর ও অথবা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকে আর রাত হলেই আক্রমণ শুরু করে একযোগে। ফলে খুব অল্প সময়ে ক্ষেতের পর ক্ষেত শেষ করে দিতে সক্ষম এ পোকা। তবে এখনই দমন না করা গেলে জেলার ভুট্টা ক্ষেতে প্রচুর ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান। প্রথম আক্রমণের শিকার কৃষক সুজন জানান, সপ্তাহখানিক আগে আমি পোকা দেখতে পায়। পোকাটি আমার ও আমার পাশের ৫-৬ জনের ভুট্টায় ব্যাপক ক্ষতি করে। পরে বিষ দিয়েও এ পোকা মারা যাচ্ছেনা। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ কিছু নিয়ন্ত্রণ হলেও পুরাপুরি কমছে না। এ পোকা থাকলে আমাদের ভুট্টা ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পরবে। তেতুলবাড়িয়া ইউপির উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমরান আহম্মেদ জানান, ফল আর্মি ওর্য়াম একটি ভয়ঙ্কর পোকা। এ পোকাটি ফসলের পাতা খাই, মাইজ খাই এবং এ গুলো শেষ হলে পর্যাপ্ত খাবার না পেলে ফল আর্মি ওয়ার্ম তখন ফসলের ফলে যাবে। আমরা এই এলাকার কৃষক সুজনের জমিতে এ পোকাটি প্রথম দেখি। তাৎক্ষনিক আমরা বিভিন্ন কৃটনাশক ও নানা পরির্চযার পরামর্শ দিয়েছি। কিছুটা কমেছে পাশর্^বর্তী আরো ৫-৬ জনের জমিতে এ পোকা দেখা দিয়েছে। গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম সাহাব উদ্দীন জানান, গাংনী উপজেলায় ফল আর্মি ওর্য়াম নামের এক বিধ্বংসী পোকা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে যারা এক্সপার্ট তাদের সাথে আমরা যশোরে গিয়ে মতবিনিময় করেছি তারা যেভাবে পরামর্শ দিয়েছে আমরা সেভাবে কাজ করছি। এ পোকা দমনে বা নিয়ন্ত্রণে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। হাত দিয়ে পোকা ধরা, প্লাবন সেচ সব সময়ে সেচ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা, সেক্সফেরামন স্থপান করা এবং এসএম পিভি নামের যে যৌব বালাইনাশক আছে সেটা স্পে করার মাধ্যমে এ পোকাটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা কৃষকদের সাথে উঠান-বৈঠকসহ নানাভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় এ পোকা দিয়েছে আমরা কৃষকদের সহযোগিতায় এ পোকা দমন করে কৃষকের ফসল ঘরে তুলতে পারবে বলে আমরা আশা করছি। তাছাড়াও বাইরে আরও এক্সপাট আছে তারা আসবে তারাও আমাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেবে। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আক্তারুজামান জানান, এ পোকা ভারত থেকে এসেছে আমাদের জেলায়। এ পোকাটি ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১শ’ কি.মি. দ্রুতগতিতে উড়তে পারে। তাই এটা আমাদের কৃষি বিভাগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যার ফলে তেতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকা দেখা দিলেও এটা উপজেলাব্যাপি এর বিস্তার ঘটেনি। আমরা নিয়ন্ত্রনে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)