সংকটে নতুন মাত্রা!

আপলোড তারিখঃ 2019-02-10 ইং
সংকটে নতুন মাত্রা! ছবির ক্যাপশন:
মিয়ানমার থেকে এবার পালিয়ে আসছে বৌদ্ধরা সমীকরণ প্রতিবেদন: শরণার্থী সংকটে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। কক্সবাজারের ৭ লক্ষাধিক মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনে যখন জোরালো প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই মিয়ানমার থেকে বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে নতুন করে দুই শতাধিক শরণার্থীর অনুপ্রবেশের ঘটনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে এই সংকটে। স্বাভাবিকভাবেই বড় বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যতই উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই প্রকট রূপ নিচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। এদিকে, সীমান্তে জড়ো হওয়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আশ্রয়প্রার্থীরা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে সেজন্য মিয়ানমার সীমান্ত খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও চীন রাজ্যের শান্ত পরিস্থিতি বদলে গেছে। রাখাইন ও চীন এই দুই রাজ্যেই অপর বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির তৎপরতা রয়েছে। রাখাইনের স্বাধীনতার দাবিতে আরাকান আর্মি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এই বাহিনীর ৭ হাজারেরও বেশি সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত বাহিনী রয়েছে। কয়েকমাস আগে আরাকান আর্মির সদস্যরা মিয়ানমার পুলিশের ওপর কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে। ফলে গত দুই মাসে রাখাইন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন আরো বেড়েছে। এখন শুধু রোহিঙ্গা মুসলমানরা নয়, বৌদ্ধ ধর্মের লোকজনও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বৌদ্ধ যুবকদের আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে টিকতে না পেরে বৌদ্ধরাও পালিয়ে বাংলাদেশে এসে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এরফলে সেখানের আদি বাসিন্দা খুমি, খেয়াং, বম ও রাখাইনসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনও দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রি প্রাংসা সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের ৪০ নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি আরো ১৬৩ জন নারী-পুরুষ-শিশু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা সবাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এসব শরণার্থীরা চাইক্ষ্যংপাড়ার কাছে সীমান্ত এলাকায় তাবুতে বসবাস করছে। এই সীমান্ত দিয়ে রাখাইন রাজ্যের আরো শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। এই অবস্থায় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার ব্যাপারে জাতিসংঘ, ইউএনএইচসি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এতদিন ধরে যে বিরোধিতা করে আসছে তার সত্যতা মিলেছে। নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের আশা না দেখে কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা যে কোনো উপায়ে তৃতীয় কোনো দেশে ও কক্সবাজারের জেলাগুলোতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের প্রথম টার্গেট সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া। এজন্য অনেক রোহিঙ্গা পরিবার সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আবার অনেকে দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত শুক্রবার টেকনাফ উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর সময় ৩০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, গোলারচর ও সিলখালী উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির সদস্যরা তাদের আটক করে। আটককৃত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৭ জন নারী, ৭ জন শিশু ও ৬ জন পুরুষ। দালালরা তাদের মালয়েশিয়ার উপকূলে পৌঁছে দেয়ার জন্য টেকনাফে এনে জড়ো করেছিল। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে। শুধু সমুদ্র পথেই নয়, মাছের ড্রামের ভেতরে আত্মগোপন করে স্থলপথেও রোহিঙ্গারা কক্সবাজার থেকে পালানোর চেষ্টা করছে। গত ৪ জানুয়ারি সেনাবাহিনী ও পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে শাহপরীর দ্বীপের চরাঞ্চল থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী ১১ জনকে বিজিবি সদস্যরা আটক করে। এ ছাড়া কক্সবাজারের উখিয়া, বালুখালী ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা পরিবার ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাছে। আবার অনেক রোহিঙ্গা পরিবার দালাল ও পরিচিতজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার চেষ্টা চলাচ্ছে। এদিকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের টালবাহানা এবং অসহযোগিতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আদৌ শুরু করা যায়নি। এখন আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে যে হারে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটছে এবং রাখাইন ও চীন রাজ্য থেকে যেভাবে বৌদ্ধ শরণার্থীরা বাংলাদেশে আসছে তাতে রোহিঙ্গাদের আর ফিরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সবার প্রত্যাশা ছিল পরিস্থিতি শান্ত হলেই রোহিঙ্গারা আবার রাখাইনে ফিরে যাবে। কিন্তু রাখাইন রাজ্য ছেড়ে নতুন করে দফায় দফায় শরণার্থীদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে হতাশা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন শরণার্থীরা সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলোতে রাখাইন রাজ্য থেকে আরো শরণার্থীদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের পাশাপাশি বৌদ্ধ শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের হার বাড়লে শরণার্থী সংকট আরো কঠিন আকার ধারণ করবে। আর এই অবস্থায় রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া ও বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে রোহিঙ্গারা নতুন করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা শুরু করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দাতা সংস্থাগুলোও রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নেবে। প্রত্যাবাসনের নামে জোর করে কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পাঠানো যাবে না। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যতই আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাক না কেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার কোনো অগ্রগতি হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপের সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে নির্দেশনা পেলেই আবার প্রক্রিয়া শুরু করব আমরা। কার্যক্রম থেমে নেই, সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)