চালু হয়নি কার্যক্রম : ভোগান্তিতে যাত্রীরা!

আপলোড তারিখঃ 2019-02-07 ইং
চালু হয়নি কার্যক্রম : ভোগান্তিতে যাত্রীরা! ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা রেলষ্টেশন: প্রতিশ্রুতির ৭ দিন অতিবাহিত হলেও ফেরদৌস ওয়াহিদ/তানভির সোহেল: জনবল সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে স্টেশন থেকে কর্তব্যরত মাষ্টারসহ অন্যান্য কর্মচারীদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ট্রেন প্রবেশের সিগন্যাল দেওয়া। বর্তমানে ‘ক্লোজ ডাউন’ অবস্থায় চলছে এই স্টেশনের কার্যক্রম। ট্রেন এসে ইচ্ছেমত দাঁড়িয়ে ছেড়ে যাচ্ছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উঠানামা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছেন শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধরা। বাদুর ঝোলা হয়ে ট্রেনের হাতল ধরতে হচ্ছে তাদের। যেকোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ভুক্তভোগীরা এ পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (আরটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুনের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করেছেন। ষ্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে সেখানে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ষ্টেশনমাষ্টার শরিফুল ইসলাম ইসলাম পোর্টার মিলন বিশ্বাসকে নিয়ে নিজ কক্ষে বসে আছেন। একের পর এক যাত্রী সেখানে আসছেন এবং ট্রেনের সময়সূচি জানতে চাইছেন। কিন্তু কেউই জানাতে পারছেন না। ‘আহে’ ট্রেন আসার আগ মুহূর্তে ঘন্টা বাজলেও ৩১ জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবহন খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করা হলেও বাণিজ্যিক খাতের কর্মচারী দুই বুকিং ক্লার্ক মুজাহিদুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম এবং পোর্টার মিলন বিশ্বাস ও ঝাড়–দার অশোক সরদারকে বহাল রাখা হয়েছে। এদিকে, টিকিটি বিক্রি করলেও ট্রেনের সময়সূচির বিষয়ে কোনো তথ্যই দিতে পারছেন না বুকিং ক্লার্করা। এই রেলষ্টেশন ঘিরে এখানে ঘরে উঠেছে প্রায় শতাধিক ছোট মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধের ফলে ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে ফুঁটে উঠেছে হতাশার ছাপ। স্থানীয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, ষ্টেশনটিতে কেন্দ্র করে এলাকাটি জনারণ্য এলাকা, শত শত লোকজনের সমাহার থাকে দিন রাত, আমাদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছিলো। কিন্তু এখন ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করায় অনেকটাই জনশূণ্য হয়ে পড়েছে এই এলাকাটি। ব্যবসা বাণিজ্যের ধস যে নামছে আমরা এখন বুঝতে পারছি। ষ্টেশনের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার সাথে হয়ত আমাদের ব্যবসায় গুটিয়ে নিতে হবে। আলমডাঙ্গা ষ্টেশন থেকে প্রতিদিন কুষ্টিয়া গিয়ে অফিস করতেন রফিকুল ইসলাম নামের সরকারি এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, প্রতিদিন তিনিসহ আরও অনেকেই এই ষ্টেশন থেকে কুষ্টিয়ায় যাতায়াত করতো এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে আসতো। এখন ষ্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি খুব দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি ষ্টেশনটির কার্যক্রম চালুর দাবি জানান। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ¯œাতক সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহরিমা অন্তরা বলেন, এই ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এখন আমরা যারা এই ষ্টেশন ব্যবহার করতাম তাঁরা এখন গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের ব্যায় বেড়ে গেছে। ষ্টেশনমাষ্টার শরিফুল ইসলাম জানান, আরটিও আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক আদেশে ২৯ জানুয়ারি সহকারী ষ্টেশনমাষ্টার (এএসএম) নাজমুল হোসেনকে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলষ্টেশনে ও পয়েন্টসম্যান মাহাবুল হককে যশোরের সিঙ্গিয়া এবং ৩০ জানুয়ারি পয়েন্টসম্যান সাইফুল ইসলামকে কুষ্টিয়ারি হালসা ষ্টেশনে বদলি করেন। এর আগে এক আদেশে পয়েন্টসম্যান ইমদাদুল হককে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বদলি করা হয়েছিল। যেকোন সময় তাঁকেও (শরিফুল ইসলাম) বদলি করা হতে পারে। ষ্টেশনমাষ্টার আরও জানান, রেলপথের পুরো অংশ ইন্টারলক পদ্ধতির। অর্থ্যৎ প্রতিটি ষ্টেশনে বিদ্যমান দুটি লাইওেনর উর্দ্ধমুখী ও নি¤œমুখী রেলপথ) সঙ্গে আরও একাধিক লাইন থাকে। ষ্টেশনমাষ্টার প্রয়োজনে ট্রেনকে লাইন পরিবর্তনে সহযোগিতা করে থাকেন। স্বয়ক্রিয় এই পদ্ধতির কারণে আলমডাঙ্গার উত্তর প্রান্তে কালিদাসপুর ও দক্ষিণ প্রান্তে মুন্সিগঞ্জ রেলগেট বন্ধ না হলে সিগন্যাল পড়ত না। এ ছাড়া বন্ডবিল ও রোয়াকুলি রেলগেট বন্ধ রাখতে হতো। কিন্তু ৩১ জানুয়ারি থেকে লোকোমাষ্টারদের (ট্রেনচালক) ট্রেনের গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু বলেন, রেলওয়ের এই খামখেয়ালি নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারের সঙ্গে বসে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার জানান, রেল বিভাগের এমন অমূলক সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। দ্রুত স্টেশনের সকল কর্মকর্তাদের পূনরায় স্টেশনে দায়িত্ব প্রদান করে স্টেশনের সকল কার্যক্রম সচল করতে হবে। ইতিমধ্যে উপজেলা তৃণমূলের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করে একটি আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের সকল কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক করা কখনোই সম্ভব হবে না বলে রেলওয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন ফোনের মাধ্যমে জানান। তিনি আরও বলেন, এর আগেও আরও ৫১টি স্টেশন থেকে জনবল গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়ে। এমন পরিস্থতিতে আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে জনবল প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। সরকারিভাবে এখনো কোন নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। আগামী মাসের মধ্যে স্টেশনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ প্রদান করা হলে হয়ত আবারও আলমডাঙ্গা স্টেশনের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক করা যাবে। তবে, আরটিও আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই বদলীর ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন রেলমন্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্টেশনে আবারও পূনরায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাদের পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। প্রতিশ্রুতির ৭ দিন পার হলেও আবারও ৭ দিনের মধ্যে পূর্ণরুপ ফিরে পাবে বলে রেলমন্ত্রী এমপি ছেলুনকে জানান। এরই মধ্যে মহা বিপাকে পড়েছে আলমডাঙ্গা থেকে রাজশাহী চিকিৎসাগামী অসুস্থ সাধারণ যাত্রীগণ, কুষ্টিয়ায় ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীরা। ‘আলমডাঙ্গা স্টেশন বাঁচাও’ নামের একটি সংগঠন ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে। দ্রুত স্টেশনের কার্যক্রম সচল না হলে মানববন্ধন, রেলপথ ও রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এই কমিটির পক্ষ থেকে হুশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)