ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা পূর্ব শত্রুতার জের : হাজিরা দিতে আসা আদালত চত্বরে
সমীকরণ প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বরে পূর্ব শত্রুতার জেরে চাচা ভাতিজাকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আহতদের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা আদালত চত্বর আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বড় শলুয়া গ্রামের বাজার পাড়ার ইউনুস আলীর ছেলে স্বপন আলী (২৪) ও তার চাচা মৃত তোফাজ্জল হকের ছেলে কাবিল (৩২)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালে স্বপন ও তার চাচা কাবিল একটি মামলার হাজিরা দিতে চুয়াডাঙ্গা কোর্টে আসে। এ সময় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাতগাড়ী গ্রামের হিজলাপাড়ার মৃত আব্দুল বারীর ছেলে মুহুরী নাজিমুদ্দিন, বড়শলুয়া গ্রামের ওহিদুলের ছেলে নাজমুলসহ কয়েকজন পূর্বে থেকে কোর্ট চত্ত্বরে ওঁৎ পেতে থাকে। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে স্বপন ও তার চাচা কাবিলকে কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। এতে স্বপন ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে উপস্থিত জনগন তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, কাবিলের অবস্থা শঙ্কামুক্ত, তবে স্বপনের অবস্থা গুরুতর। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে স্বপনের পরিবারের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামীদের ধরতে আমরা ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায় নি।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়াড় থেকে নিজ জমি ক্রয়ের তিন লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে মুহুরী নাজিমউদ্দিন ও তার সহযোগী সাইফুলের সাথে নিজ বাড়ি সাতগাড়ীতে ফিরছিলেন। এ সময় স্বপন ধারকৃত এক হাজার টাকা পরিশোধ করবে বলে ফোন করে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে গেটের অদূরে আসতে বলে মুহুরী নাজিমুদ্দিনকে। এ সময় নাজিম ওই স্থানে গেলে স্বপন ও তার এলাকার আজাদের ছেলে সোহাগ ও জৈনকের ছেলে বিপুলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় নাজিম উদ্দিনের কাছে থাকা তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন নাজিম উদ্দিন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। ওই রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন মুহুরী নাজিমুদ্দিন।
