ছবির ক্যাপশন:
মিঠুন মাহমুদ: জীবননগর উপজেলার সংগীত গুরু কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা ওস্তাদ শাহাবুদ্দিন এখন প্যারালাইজড হয়ে অচল অবস্থায় গৃহবন্দি। একসময় সুরের মূর্ছনায় মঞ্চকাপানো কন্ঠশিল্পী এখন অনেকটাই নির্বিকার হয়ে পরকালের দিন গুনছেন। এলাকাব্যাপী হাজারো ভক্ত শ্রোতা থাকলেও এখন সে বড় একা। অবাক নির্বিকায় তাকিয়ে জানালার দিকে আবেক প্রবণতার মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছেন।
জানা যায়, জীবননগর পৌরসভাধীন ৭ নম্বার ওয়ার্ডের সংগীত শিল্পী মৃত আয়ুব আলীর ৫ ছেলে সন্তানের মধ্যে ওস্তাদ শাহাবুদ্দিন প্রথম সন্তান, বাবার কাছেই সংগীতের প্রথম তালিম নিয়েছিলেন এ গুণী সংগীত শিল্পী। তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবে। শুধু তাই নয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র, পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধে করে ছিনিয়ে এনেছিলেন এ দেশের স্বাধীন পতাকা। এছাড়াও জীবননগর সাংস্কৃতি অঙ্গনে তার ছিল অবাধ বিচরণ। ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’, ‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা কর’, ‘এতোজল ও কাজল চোখে’, এরকম অনেক রবীন্দ্র, নজরুল, আধুনিক, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি গান গেয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন ক্লান্তহীন জীবননগর শহরের দর্শক শ্রেতাদেরকে।
মানুষের একটু আনন্দ বিনোদন দেওয়ার জন্য ওস্তাদ শাহাবুদ্দিন একযোগে বেতার থিয়েটারেও অর্জন করেছিলেন অভাবনাময় সম্মান, বাজনার হাতও ছিল বেশ। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সে ছিল একজন মুজিব সেনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায় করার লক্ষে কাজ করেছেন দিন রাত। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, হাস্যজ্বল মানুষটি হঠাৎ ২০১০ সালে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে শরীরের কিছু অংশ অকেজো হয়ে পড়ে। নানাভাবে চিকিৎসা সেবা নিয়েও আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারছে না, উন্নত চিকিৎসা সেবার ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে সেটাও আর সম্ভব হয়ে উঠছেনা। ওস্তাদ শাহাবুদ্দিনের এখন শুধু পরিবারের সদস্যদের সাহায্য ও হুইল চেয়ারই এক মাত্র সম্বল। জীবননগর মুক্তিযোদ্ধা পরিষদেরসহ যোদ্ধা ও সাংস্কৃতি অঙ্গনে অনেক শুভাকাঙ্খী থাকলেও হাতে গোনা দু’একজন ছাড়া তেমন কেউ আর খোঁজখবর নেওয়ার সময় নেয় এ বীর মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গীত গুরু ওস্তাদ শাহাবুদ্দিনের। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগীত গুরু শাহাবুদ্দিন অর্থের অভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়লেও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বা রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও কোন খোঁজখবর না নেওয়ায় হতাশায় দিন যাপন করছে তাঁর।
