উন্মুক্ত প্রার্থিতায় অস্বস্তি তৃণমূল আ.লীগে

আপলোড তারিখঃ 2019-02-02 ইং
উন্মুক্ত প্রার্থিতায় অস্বস্তি তৃণমূল আ.লীগে ছবির ক্যাপশন:
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : আগামীকাল তফসিল ঘোষণা ডেস্ক রিপোর্ট: আগামীকাল ৩ ফেব্রুয়ারি রোববার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওইদিন বিকালে কমিশন সভা শেষে উপজেলার প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসির সংশ্লিষ্টরা। এবার পাঁচ ধাপে উপজেলা পরিষদে ভোট হবে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই চার ধাপের ভোট শেষ করবে কমিশন। এদিকে আসন্ন এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ দুটি উন্মুক্ত রাখায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এমনিতেই নানা ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। তার ওপর বিএনপিবিহীন এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে গিয়ে দুটি পদ উন্মুক্ত করে দেয়ার পর বিদ্যমান দ্বন্দ্ব রূপ নিতে পারে সংঘাতে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকসহ অনেকের। এরই মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আওয়ামী লীগের ৮-১০ জন করে নেতা দেশের বিভিন্ন উপজেলায় মাঠে নেমে পড়েছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়া নেতারাও এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে নামার অপেক্ষায়। এ নিয়ে নতুন ‘সংকটে’ তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এবারই প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। এদিকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে জমা দেয়ার শেষ দিন রোববার। এরই মধ্যে অনেক উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে এক থেকে তিনজনের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি উপজেলায় বাছাই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। গোপন ব্যালটে ভোটও করতে হয়েছে কোথাও কোথাও। আবার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে কেন্দ্রে নালিশও জমা পড়ছে। একাধিক উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথা হয় সাংবাদিকদের সঙ্গে। তারা বলেছেন, বিগত সময়ে দলীয়ভাবে নির্বাচন না হলেও চেয়ারম্যান ও দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদে দল সমর্থিত প্রার্থী দেয়া হতো। এতে নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে একযোগে মাঠে নামার সুযোগ পেতেন। এবার দুটি পদ (ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে। এতে সবাইকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে। কারণ একটি উপজেলায় অনেক ইউনিট (থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন) থাকে। দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারাও আছেন। নিজেরাই যখন নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন, তখন তারা কে কার পক্ষে মাঠে নামবেন? ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৪৯২টির মধ্যে ৪৫০টির বেশি উপজেলায় নির্বাচন পাঁচ ধাপে হচ্ছে। এর মধ্যে চার ধাপের নির্বাচন শেষ হবে মার্চে এবং বাকি এক ধাপ হবে রোজার পর। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ছয় ধাপে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই সব উপজেলায় ভোট হয়েছিল। কয়েক দিনে পটুয়াখালী সদর উপজেলা, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরসহ আরও বেশকিছু উপজেলায় দলের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গোপন ব্যালট প্রক্রিয়ায় যেতে হয়েছে। সেখানে চেয়ারম্যান পদের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দলীয় প্রার্থীর জন্য ভোট নেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তির নামের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদের সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রে। এখন নতুন করে ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত রাখা হলে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হবে। দেশের একাধিক জেলার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সাংবাদিকরা কথা বললে তারা বলেন, চেয়ারম্যান পদে তিনজন করে নাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এসময় দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদ উন্মুক্ত রাখায় সমস্য হবে কি না জানতে চাইলে তারা আরো বলেন, এটা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। সমস্যা হলে দেখা যাবে। সেটিও কেন্দ্রকে জানানো হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ন একটি জেলার জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের বলেন, তিন পদের বিপরীতে নাম পাঠাতে বলা হয়েছে। এর পর আর কোনো চিঠি পাইনি। সেভাবেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছি। পরবর্তী সময়ে চিঠি পেলে সে অনুসারে কাজ করব। প্রার্থী বাছাই নিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় দলের ক্ষতি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক ঝামেলা হচ্ছে। দলের কিছুটা তো ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া বৃহত্তর চাঁদপুরের জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম পাটোয়ারি দুলাল বলেন, আপাতত চেয়ারম্যান পদে নাম পাঠানোর কাজ করছি। একজনের বিষয়ে ঐকমত্য না হলে তিনজনের নাম পাঠানো হবে। ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সমস্যা হলে পরে দেখা যাবে। কথা হয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দলীয় না হওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয়ভাবে মনোনয়নও দেব না। দলের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার সাংবাদিকদের বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের বিধান নেই, আমরা উন্মুক্ত করলাম কি করলাম না, সেখানে আইনগত কোনো বিষয় নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার একাধিক প্রার্থী জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে হাল ছাড়িনি। শেষ পর্যন্ত না পেলে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। অন্যদিকে, ইসির উপ-সচিব মো: শাহেদুন্নবী চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকাল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে তার সভা কক্ষে কমিশনের ৪৫তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার আলোচ্য সূচিতে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ওইদিনের সভায় একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টিও আলোচ্য সূচিতে রয়েছে।’ উল্লেখ্য, এবার উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এই তিনটি পদেই দলীয় প্রতীক নির্বাচন হবে। দেশের নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)