কার্যক্রম চলমান রাখতে রেলমন্ত্রীর আশ্বাস

আপলোড তারিখঃ 2019-02-02 ইং
কার্যক্রম চলমান রাখতে রেলমন্ত্রীর আশ্বাস ছবির ক্যাপশন:
বন্ধ হচ্ছে আলমডাঙ্গা রেল স্টেশন : আন্দোলনের হুশিয়ারী উপজেলাবাসীর আলমডাঙ্গা অফিস/ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গায় ১৫৭ বছর আগে ১৮৬২ সালে দেশের প্রথম রেল স্টেশনের স্বীকৃতি পেয়েছিল ঐতিহ্যবাহী রেল স্টেশন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আমদানি-রপ্তানীর কারণে আলমডাঙ্গার এই রেল স্টেশন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতোমধ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্টেশনগুলোর জনবল নিয়োগ না দিয়েই সেই সকল স্টেশনে আলমডাঙ্গা স্টেশনে কর্মরত লোকজন দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে। আলমডাঙ্গার এই ঐতিহ্যবাহী রেল স্টেশনটিই এবার বন্ধ করতে চিঠি দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল টিকিট মাস্টারের কার্যক্রম রেখে বাকি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে আপ-ডাউনের পাখা ওঠানামা। জ্বলছে না আপ-ডাউনের কোনো বাতি। ট্রেন আসা-যাওয়ার তদারকিতে থাকছে না কেউ। তবে কলকাতা টু ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন ও মালবাহী অবিরাম চলাচলের কারণে সিগন্যালের কোন প্রকার সংকেত না পাওয়ায় ভয়ানক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। আলমডাঙ্গায় দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার মিন্টু মিয়া জানান, গত কয়েক মাস পূর্ব থেকে আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে সকল কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে দেশের বিভিন্ন স্টেশনে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশের আভাস চলে আসছিলো। গত ২৯ জানুয়ারি রেল স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করতে বিভাগীয় নির্দেশনা ফোনের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা স্টেশনে চিঠি এসে পৌঁছেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শুধু টিকেট মাস্টারের কার্যক্রম চালু থাকবে। ট্রেন আসা-যাওয়ার তদারকিতে কেউ থাকবে না। স্টেশন মাস্টার জানান, এখানকার সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র স্টেশনে বদলি করা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই টিকেট কাউন্টার ছাড়া বন্ধ হয়ে গেছে অন্যান্য কার্যক্রম। কি কারণে আলমডাঙ্গা স্টেশন বন্ধ করা হলো তা জানার জন্য বিভাগীয় পাইকশী রেল কর্মকর্তাদের নিকট ফোনে জানতে চাইলে, তিনি সঠিক কারন জানাতে পারেননি। তবে সঠিক কি কারণে বন্ধ করা হচ্ছে স্টেশনটি তার অফিসের কাগজপত্র দেখে তারা বলতে পারবেন বলে জানান। এ ব্যাপার আলমডাঙ্গা স্টেশনের ট্রেন যাত্রী আব্দুল খালেক মুন্সি জানান জানান, গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে চিত্রা একপ্রেস ট্রেনযোগে খুলনা থেকে আলমডাঙ্গায় আসেন। স্টেশনে পৌছানোর মুহূর্তে তারা নিজেদের নিকট থাকা ব্যাগসহ জিনিসপত্র নামানোকালে কোন সংকেত ছাড়াই স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে দেয়। এরই কারণে তাদের সাময়িকভাবে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়লেও তেমন ক্ষতি হয়নি। ৫৭ বছর বয়সে তার ট্রেন ভ্রমণ চললেও এই রকম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়নি। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন জানান, নতুন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের সাথে ফোনে কথা বলা হয়েছে। তিনি চুয়াডাঙ্গার জেলার আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের কার্যক্রম চলমান রাখতে আশ্বাস প্রদান করেছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্টেশনে কর্মকর্তা সংকটের কারণেই আলমডাঙ্গা স্টেশন থেকে অনেকেই প্রত্যাহার করে অন্যত্র স্টেশনে যোগদান করা হয়েছে। তবে এই সকল স্টেশনে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের কার্যক্রম সচল রাখা হবে। এ তথ্য অনুসারে আলমডাঙ্গার সচেতন মহল দাবি করে বলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা দেশের বৃহত্তম একটি এলাকা। আর এই এলাকার মধ্য দিয়ে প্রথম রেল স্টেশন হিসাবে স্বীকৃতি পায়। আর এই এলাকার লোকজনের প্রধান যানবহনে চলাচলের মাধ্যম ট্রেন। এই স্টেশনে ট্রেন স্টোপেজ ও কার্যক্রম দ্রুত চালু না করা হলে, দেশের বৃহত্তম আন্দোলন গড়ে তুলবো এই উপজেলায়। আলমডাঙ্গা উপজেলার এই স্টেশনটি বন্ধের জন্য বিভিন্ন কূটনীতিক মহলের যোগসাজসের মাধ্যমে বন্ধের ঘটনাটি ঘটতে দিবো না। আলমডাঙ্গা রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা স্টেশনটি দেশের প্রথম রেলস্টেশন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ব্রিটিশ আমলে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়া জেলার জগতি পর্যন্ত চালু হয় বাংলাদেশের প্রথম রেলপথ। সে সময়ই আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দ্বিতল ভবনের এই স্টেশনটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে উচ্চতম। ইতিহাস থেকে জানা যায়, রেলওয়ে স্টেশনটি এক সময় নীলকর ইংরেজদের একটি কুঠি ছিল। এখান থেকে তারা এ অঞ্চলের নীলচাষ সম্পর্কিত পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনা করত। ভবনের ওপর থাকতেন ইংরেজ সাহেব। নিচ তলার কামরাগুলো ছিল তাদের গুপ্তঘর বা জেলখানা। এসব কামরায় আলো-বাতাস, এমনকি বাইরের শব্দ পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারত না। যারা নীল চাষ করতে অস্বীকার করত, তাদের ধরে এনে কুঠির নিচতলায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতো। ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেছে, তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাদের ব্যবসা প্রসারে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এন্ড কোম্পানি (চিনিকল) এবং কুষ্টিয়ার জগতিতে আরও একটি চিনিকল গড়ে তোলে। ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সৃষ্টি করতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে জগতি পর্যন্ত রেলপথ তৈরি করা হয়। দর্শনা থেকে আলমডাঙ্গা হয়ে রেলপথটি জগতি স্টেশনে গিয়ে শেষ হয়। আর এই স্টেশন দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ব্যাপক উদ্দ্যোমি ভূমিকা পালন করেছে। স্টেশনে বর্তমানে ব্যাপক উন্নয়নের প্রসার ঘটলেও কালের বিবর্তণে বন্ধ হতে চলেছে স্টেশনটি। স্থানীয়রা জোর দাবি করে বলেন, দ্রুত আলমডাঙ্গা স্টেশনের সকল কার্যক্রম অব্যাহত না করলে উপজেলায় বৃহত্তম আন্দোলন গড়ে তুলবো।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)