জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান!

আপলোড তারিখঃ 2019-01-30 ইং
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান! ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুর ইউনিয়নের ‘দত্তাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ আকিমুল ইসলাম: নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; আছে শিক্ষার্থী, নিয়মিত ক্লাসে পাঠদানও করা হয়। কিন্তু ক্লাসে পাঠদানের সময়টা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিতে প্রতিনিয়ত। বলছিলাম চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দত্তাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা। সরেজমিনে দেখা যায়- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৭৩নং দত্তাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ক্লাসরুমে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করানো হচ্ছে ক্লাসের পাঠদান। এই বিদ্যালয়টির এমনই এক বেহাল দশা যে, মাঝে মাঝে ক্লাস চলাকালীন সময়েও ছাদের প্লাস্টার খসে খসে পড়ে ছাত্র-ছাত্রী এমন কী শিক্ষকের মাথার উপর। বর্ষাকালে বেড়ে যায় আরও একধাপ বেশি দূর্ভোগ। মাথার উপর ছাঁদ থাকা সত্বেও সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যায় বৃষ্টির পানি। বৃষ্টির পানি ছাঁদ থেকে রুমের ভিতরে ঢুকে ভিজে নষ্ট হয় বই খাতাসহ শিক্ষা সামগ্রী। এছাড়া বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ভিজে বসার অনুপযোগী হয়ে যায় চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ। দূর্ভোগের হাত থেকে রেহায় পায় না বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত অফিস কক্ষটিও। বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যায় অফিসের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থরা জানায়, আমরা অনেক ভয়ে ভয়ে ক্লাস করি। মাঝে মাঝে আমাদের গাঁয়ের উপর ছাঁদের প্লাস্টার ধসে ধসে পড়ে। আমরা ক্লাসে থাকা অবস্থায় সব সময় আতঙ্কে থাকি। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহাবুব আলম জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে ২ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আছে। বিদ্যালয়টির এমনই এক বেহাল দশা যে, রোদ কিংবা বৃষ্টি পুরো বছর ধরেই চরম ভোগান্তি আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ছেলে মেযেদের ক্লাস নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রোদে বা গরমে ছাদের গায়ে থেকে প্লাস্টার ধসে ধসে ছাত্র-ছাত্রীদের মাথার উপরে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বৃষ্টির পানি ছাদ থেকে রুমের ভিতরে প্রবেশ করে বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়াও আমাদের বিদ্যালয়ে ২ শিফটে ভাগ করে ক্লাস নেওয়া হয়। যার ফলে আমাদের যে পরিমাণ ক্লাসরুম প্রয়োজন সে তুলনায় আমাদের বিদ্যালয়ে ক্লাসরুম অনেক কম। বর্তমানে আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছে ৪ জন। আমাদের আরও একজন শিক্ষকেরও সঙ্কট। বিদ্যালটির সভাপতি রেজাউল হক জানান, আমাদের এই বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে নির্মাণ করা হয়। এরপরে একবার কোন রকমে একটি ভবনের ছাঁদের পানি পড়া রোধ করতে জলছাঁদ করে সংস্কার করে আর কোন সংস্কার করা হয়নি। এরপর দীর্ঘদিন এই ভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের ছেলে মেয়েদের ক্লাস নেওয়া হয়। আমাদের এই বিদ্যালয়ে দু’টি ক্লাসরুম ও একটা শিক্ষকেরও সঙ্কট রয়েছে। এলাকার সচেতন মহল, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সুনজর কামনা করে বিদ্যালয়টি আবারও পূণর্নির্মাণ করে বিদ্যালয়টিতে সুস্থ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)