ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবননগরে ব্যাপক হারে গুড়ের সঙ্গে নি¤œমানের ও নোংরা চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল খেজুর গুড়। এক শ্রেণির অর্থলোভী গুড় উৎপাদনকারী জীবননগরের সুস্বাদু গুড়ের ব্যাপক চাহিদাকে পুঁজি করে খেজুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ভেজাল খেজুর গুড় তৈরি করে তা অবাধে বাজারজাত করছেন। এসব চিনি মেশানো ভেজাল গুড় এখন উপজেলার হাটবাজারে সয়লাব হয়ে গেছে এবং এ গুড় চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র। ক্রেতাদের অভিযোগ নি¤œমানের চিনি, পুরাতন চিটাগুড় ও গুড়ের মতো বিশেষ রং দিয়ে এ গুড় তৈরি করা হচ্ছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কম হওয়ায় খেজুর গুড়ে চিনি মেশাচ্ছে গাছিরা। গাছিরা ভোরবেলা গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে কড়াইয়ে রস জাল দেয়ার পর তা লাল বর্ণ হলেই তাতে চিনি ঢেলে দেয়া হয়। চিনিগুলো রসের সঙ্গে মিশে তৈরি হচ্ছে গুড়। এরপর ওই গুড়ে হাইড্রোজ ও ফিটকারি মিশিয়ে গুড়ের রং উজ্জ্বল করা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৪৮ টাকা। অপরদিকে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি চিনি থেকে প্রায় দেড় কেজি গুড় তৈরি হয়। সে হিসেবে চিনি মিশিয়ে চাষিরা প্রতি কেজি গুড়ে প্রায় ৬০ টাকার বেশি লাভ পাচ্ছেন।
একাধিক অভিযোগে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের দফাদারপাড়ার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে গুড় ব্যবসায়ী রাজা মিয়া তার নিজ বাড়িতে ভেজাল গুড় তৈরি করার জন্য মিনি কারখানা করেছেন। তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ২টা অবধি বাড়িতে খেজুর গুড়ের সঙ্গে নি¤œমানের চিনি, পুরাতন চিটাগুড় ও গুড়ের মতো বিশেষ রং দিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন এবং পরদিন সকালে ট্রাকভর্তি করে তা বাজারজাত করছেন। শুধু রাজা মিয়া না, এই রকম আরও কিছু অর্থলোভী অধিকাংশ ব্যবসায়ী ভেজাল খেজুর গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছেন।
একজন গুড় উৎপাদনকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চিনি জ্বালালে তা পরিমাণে অনেক বৃদ্ধি পায়। আর শুধু খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরি করলে পরিমাণে গুড় কম হয়। সে জন্যই অসাধু কিছু গাছি ও ব্যবসায়ী খেজুরের রসের সাথে চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, চিনিমিশ্রিত গুড় দেখতে সুন্দর ও কেমিক্যালের কারণে উজ্জ্বল হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা বেশি। এ কারণে অনেকেই ভেজাল গুড় তৈরি কাজে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, খেজুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে জ্বালালে মিশ্রণটি বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ দিয়ে খাদ্যদ্রব্য তৈরি করে খেলে তা থেকে পেটের পীড়াজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওই গুড় দিয়ে শিশুদের কোনো খাদ্য তৈরি করে খাওয়ালে শিশুরা লিভার ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
