ছবির ক্যাপশন:
সাধুসঙ্গ উদ্বোধন করলেন এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার
খন্দকার হামিদুল আজম/সোহেল তানভীর: চুয়াডাঙ্গায় শ্রদ্ধা আর ভালাবাসায় একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের প্রথম বাউল সাধক কবি-সুরসাগর খোদাবকশ শাহের ২৯তম তিরোধান দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আলমডাঙ্গা উপজেলার জাহাপুর গ্রামে খোদাবকশ শাহ নিকেতন প্রাঙ্গণে গতকাল সোমবার সকালে দুইদিনব্যাপী সাধুসঙ্গ শুরু হয়। বেলা ১১টায় জাহাপুর গ্রামের খোদাবকশ শাহ নিকেতন থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে কবির মাজারে পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এরপর মাজার প্রাঙ্গণে খোদাবকশ শাহের লেখা গান পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টায় খোদাবকশ শাহ নিকেতনের সভাপতি আব্দুল লতিফ শাহ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সাধুসঙ্গ উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম শাহান, ঝিনাইদহ থিয়েটারের সভাপতি একরামুল হক লিকু ও আইলহাঁস ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. আব্দুল মালেক। এসময় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরিবারের পক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান কবি পুত্র আব্দুল লতিফ শাহ, পুত্রবধু রেখা বিশ্বাস, নাতনি তানিয়া বিশ্বাস ও সোনিয়া বিশ্বাস, নাতি রাজ তন্ময় ও নাতি জামাই ড. সইমন জাকারিয়া। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোস্তফা খান ও মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কবিপুত্র আব্দুল লতিফ শাহ, নাতনি তানিয়া বিশ্বাস ও সোনিয়া বিশ্বাস। এছাড়া গঞ্জের শাহ, মিলন শাহ ও অন্তর সরকার খোদা বকশ শাহের গান পরিবেশন করেন।
খোদাবকশ শাহ ১৯২৮ সালের ১৩ এপ্রিল (১৩৩৪ বঙ্গাব্দের ৩০ চৈত্র) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জাহাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৩৯৬ সালের পহেলা মাঘ (১৯৯০) ইহলোক ত্যাগ করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯১ সালে খোদাবকশ শাহকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত শিক্ষক খোদাবকশ শাহ বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত লালন সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি নিজেও ৯৫০ টি গান রচনা করে যান।
বাংলা একাডেমির সহকারি পরিচালক লালন গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া বলেন, খোদাবকশ শাহকে নিয়ে গবেষণা করার দরকার আছে দেশ ও বিদেশে। খোদাবকশ শাহের অনুসারীদেরকে উৎসাহ দেওয়া ও পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, কারণ তারা যেনো সাধু সংগের প্রকৃতভাব তুলে ধরে। নতুনদের গানের `র্চ্চায় এগিয়ে নিতে হবে।
কবিপুত্র বাউল আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, বিগত সময়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান ও ভোলা নাথ দের সহযোগিতায় এখানে বড় মাপের অনুষ্ঠান হতো। কিন্ত সহযোগিতার অভাবে অনুষ্ঠান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
