ছবির ক্যাপশন:
আত্মমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে পারেন আপনিও
বিশেষ প্রতিবেদক: শনিবার সাধারণত সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো না হলেও নাম’কা ওয়াস্তে ছুটি কাটান জেলা প্রশাসকরা। কিন্তু শীত তো আর ছুটিতে যায় না। তাই বসে না থেকে ছুটি উপেক্ষা করে সহকর্মীদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন প্রান্তরে। গন্তব্য- আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসহায়, দুস্থ, ছিন্নমূল, হতদরিদ্র, দিনমজুর, চাষী, বয়বৃদ্ধ-বৃদ্ধা শীতার্ত মানুষের আবাসস্থল। কেমন কাটছে তাদের এই কঠিন শীতের দিনরাতগুলি, কী করছেন তারা, শহুরে মানুষের ধারণার বাইরে কেমন জীবনযাপন করেন অজপাড়াগায়ের মানুষগুলো? এসব নিজ চোখে দেখতে এবং তাদের মাঝে উষ্ণতা ছড়াতে সহকর্মীদের নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের মধুপুর আবাসনে যান জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। সেখানকার ৪০টি পরিবারসহ তৎসংলগ্ন এলাকার অসহায়, দুস্থ, হতদরিদ্র, ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষদের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি। পরে একই ইউনিয়নের নারায়নপুর আবাসনের ৭০টি পরিবার ও আশপাশের বসতীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। রাত ৯টার দিকে বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা আবাসনের অন্তত ৬০টি পরিবারসহ শতাধিক শীতার্ত মানুষকে একটি করে কম্বল প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসকের ত্রাণ শাখা জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ বছর প্রায় ২০ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বেশ কিছু কম্বল দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা, সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগেও। জেলার চার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ১৫ হাজার এবং জেলা প্রশাসক স্বশরীরে গিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার শীতার্ত মানুষকে কম্বল দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শীতার্ত মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে কম্বল বিতরণ ও খোঁজখবর নেয়ার ধারাবাহিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চাইলে সমাজের বিত্তবান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি তথা আপনারাও একটি করে কম্বল দিয়ে আত্মমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে পারেন। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান ও জামজামি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দুয়ারে ঘুরে কম্বল বিতরণের ধারাবাহিক কার্যক্রমে অংশ নেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াহ্ ইয়া খান, সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা ও ত্রাণ শাখা) সুচিত্র রঞ্জন দাস, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) সিব্বির আহমেদ, সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি ও জেলা ই-সেবা) খাইরুল ইসলাম।
