ছবির ক্যাপশন:
রাতেই ৪০-৬০ ভাগ ব্যালটে সিল মারা হয়
ডেস্ক রিপোর্ট: গণশুনানিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীরা তুলে ধরেছেন নির্বাচনে অনিয়মের চিত্র। বলেছেন, আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে ভোটের বাক্স ভর্তি করার কথা। তাদের সবার কথা- ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচন হয়নি। হয়েছে ভোট ডাকাতি। রাতে ভোট কেটে নিলেও দিনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বারণ ছিল। ফাঁক গলিয়ে যারা গিয়েছেন তাদেরও প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। বের করে দেয়া হয় এজেন্টদের। তারা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই গণশুনানিতে বাম জোটের ৮২ প্রার্থী নিজ নিজ আসনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
প্রার্থীরা বলেছেন, এই নির্বাচন মানুষের অধিকারের প্রতি ভয়াবহ আঘাত। বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে আর সুষ্ঠু নির্বাচনের অবস্থা নেই। জনগণ এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। নতুন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। ৮টি বাম গণতান্ত্রিক জোট দিনব্যাপী এই গণশুনানির আয়োজন করে।
গণশুনানিতে ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া বাম জোটের প্রার্থী আসাদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই স্থানীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন বাম জোটের প্রার্থীরা। কিন্তু অনুমতি না থাকায় শহীদ মিনারে ফুল দিতেও আমাদের বাধা দেয় স্থানীয় পুলিশ। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানোর পরও তেমন কোনো ফলই পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রচারণার সময় তোপের মুখেও পড়তে হয় বলে তিনি জানান।
প্রহসনের এই নির্বাচন সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের জামানতের ২০ হাজার টাকা, সিডি বাবদ ১৬ হাজার টাকা এবং নিজেদের অর্থায়নে ভোটের লিস্ট ছাপানোর টাকা ফেরত চায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বাম জোটের প্রার্থী শাহরীয়ার মো. ফিরোজ, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের আবদুল আলীম ফকির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের মো. মগনু মিয়া, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের শেখ মো. মোস্তফা নুরুল আমীন, ময়মনসিংহ-৩ আসনের হারুণ আল বারীসহ প্রায় সব প্রার্থীরা।
গণশুনানি শেষে বাম জোটের পক্ষ থেকে জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, আমরা এই গণশুনানির আয়োজন করেছি শুধুমাত্র সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা ও পরিবেশ সম্পর্কে নিজেরা জানতে ও দেশের মানুষকে জানাতে। আর এটা সব থেকে সঠিক বলতে পারবেন একজন প্রার্থী নিজেই। তাই আমাদের এই আয়োজন। তিনি বলেন, আমরা সকলের অভিযোগগুলো শুনেছি। আগামী ১৫ই জানুয়ারি আমরা শীর্ষপর্যায়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। সেখানেই আলোচনা হবে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে। গণশুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক মো. খালেকুজ্জামান, আবদুল্লাহ আল-কাফি রতন প্রমূখ। সারা দেশের মোট ১৩১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাম জোটের মোট ১৪৭ জন প্রার্থী তাদের অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী পরিবেশের চিত্র তুলে ধরতে উপস্থিত ছিলেন। তবে সময় স্বল্পতায় আজকে মোট ৮২জন সদস্য তাদের অভিজ্ঞতার কথা উপস্থাপন করেন। বাম জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি এই গণশুনানিতে অংশ নেয় মানবাধিকার কমিশন, দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক গ্রুপের প্রতিনিধি, সংবাদকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের অতিথিবৃন্দ। তথ্যসূত্র- দৈনিক মানবজমিন
