ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর অফিস: জীবননগরে বিজিবির সোর্স মাদকব্যবসায়ী সৈয়দ ও মখলেচুরের বাড়িতে হামলা ও টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবির সোর্স সৈয়দ হরিহরনগর গ্রামের মতেহার মন্ডলের ছেলে এবং মখলেচুর রহমান একই গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ ও মখলেচুর ঝিনাইদহ-৫৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধীনস্থ মেদনীপুর বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স হিসাবে কাজ করে। গত পাঁচদিন আগে একই গ্রামের সুমন ও আলমগীরের সাথে সৈয়দ ও মখলেচুরের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। এতে সৈয়দ কৌশলে আলমগীরকে ডেকে আটপেকে গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে নিয়ে হাতমুখ বেধে মারধর করে। এতে আলমগীরের দুটি দাঁত ভেঙ্গে দেয় এবং গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে মাঠ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পূর্বের এই শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় জনগন।
সৈয়দের শ্বাশুড়ি মর্জিনা বলেন, সোমবার রাতে আমার জামাই মেয়ে কেউ বাড়িতে ছিলো না। এ সময় প্রায় শতাধিক মানুষ আমার জামাই’য়ের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ঘরের ভিতরের জিনিসপত্র নষ্ট করে দেয়। একই অভিযোগ করেন মখলেচুরের মা আনজুরা খাতুন। তিনি বলেন, পাঁচদিন আগে আমার ছেলেদের সাথে মাল ধরা নিয়ে আলমগীর ও সুমনের সাথে দ্বন্দ্ব হয়। সেই কারণে সুমনরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ ২৮হাজার টাকা ও বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে।
আহত আলমগীর জানান, আমি বিদেশে যাওয়ার জন্য সৈয়দের কাছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে টাকা না দিয়ে সে প্রায়ই আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে। গত পাঁচদিন আগে রাতে সৈয়দ আমাকে ফোন দিয়ে বলে আটপেকেয় এসে তোর টাকাটা নিয়ে যা। আমি রাতে যাবো না বললে বলে তাহলে তোর টাকা আমি আর দিবো না। এই কথা বললে আমি তাকে বলি আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আসছি তার কথা মত আটপেকেয় গেলে একটি তামাকে জমির পাশে আমাকে নিয়ে যায়। পিছন থেকে মখলেচুর ও হেলাল আমার মুখ চিপে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং মুখ ঠেসে ধরে। এরপর সৈয়দ আমার দুই পা ও দুই হাত বেধে হাতে লাঠি দিয়ে পায়ের তলায় মারতে থাকে। আমি চিৎকার করলে মখলেচুরের হাতে থাকা একটি লাইট দিয়ে আমার মুখে আঘাত করে। এতে আমার দুটি দাঁদ পড়ে যায়। আমি প্রাণে বাঁচার জন্য তাদের বলি তোদের নামে থানায় জিডি করেছি। এই কথা বলতেই সে আমাকে বলে আচ্ছা ঠিক আছে ওকে প্রাণে না মেরে ফেন্সিডিল দিয়ে বিজিবির হাতে তুলে দিয়। এ কথা বলতেই রাস্তার পাশে তারা ৪৫ বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে আমাকে বেধে বলে, এখানে ও থাক পরে বিজিবির ফোন দিয়ে ধরিয়ে দিবো। এই বলে ওরা চলে যায়। তার একটু পরেই বিজিবির গাড়ি রাস্তা দিয়ে যেতে দেখে আমি চিৎকার করি। এ সময় বিজিবি আমাকে উদ্ধার করে এবং আমি বিজিবির কাছে সমস্ত ঘটনা বলি।
তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা তথা খুলনা বিভাগের মাদক স¤্রাট খ্যাত জীবননগর থানাসহ পাশ্ববর্তী থানায় একাধিক মাদক মামলার আসামী হরিহরনগর গ্রামের মশিয়ারের ছোট ভাই সৈয়দ। বিজিবির সোর্স হিসাবে কাজ করে। এই সুযোগে সৈয়দ তার ভাইয়ের সমস্ত মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে সাহায্যে করে। এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে গত সোমবার রাতে হরিহরনগর গ্রামের মেম্বার আরজামকে মেদনীপুর বিজিবি ক্যাম্পের জোয়ানরা আটক করে। পরবর্তীতে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ক্যাম্পে যেয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। আরজাম মেম্বারের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলে তাকে বাড়িতে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জীবননগর উপজেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু জানান, আহত আলমগীরের অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হরিহরনগর গ্রামে বাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই এমনকি এ বিষয়ে এখন কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে গত কয়েক দিন আগে হরিহরনগর গ্রামে একটি মারামারির ঘটনার বিষয়ে আমি জানি। সেখানে পুলিশ বিজিবি উপস্থিত থেকে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়েছিলো। এদিকে একজন মাদকব্যবসায়ীর এহেন কান্ড দেখে এলাকার সাধারণ মানুষ হতবাক।
