একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয়

আপলোড তারিখঃ 2019-01-01 ইং
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয় ছবির ক্যাপশন:
ফলাফলে আ.লীগও হতবাক ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচনের ফলাফল দেখে অবাক হয়েছে খোদ আওয়ামী লীগও। ক্ষমতাসীনদের এমন বিজয় আর বিএনপি জোটের এমন ভরাডুবির কথা ভুলেও ভাবেনি তারা। সরকারের টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার টার্গেট, প্রশাসনের অতি তৎপরতা, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং চাপের মুখে থাকা বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণার কারণেই ফলাফল এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। গত রোববার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট মাত্র সাতটিতে জয় পায়। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট পায় ২৮৯ আসন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যে তিনজন নির্বাচিত হন তারাও ক্ষমতাসীন জোটেরই। নির্বাচনের এমন ফলাফল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে সব মহলে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট এমন ফলাফলকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে বিএনপি জোট ইতোমধ্যেই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের ব্যবধান এমন হবে তা ক্ষমতাসীনদের কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দলের বিভিন্ন ফোরামে বিএনপি জোটের ৫০ থেকে ৭০ আসনের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় আলাপ-আলোচনা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সেই আলোচনা ২৫ থেকে ৩০ সিটে নামে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি আওয়ামী লীগ জোটের ২২২ আসন পাওয়ার কথা বলেন। বাকি আসনগুলোর কথা সরাসরি বলা না হলেও বিএনপি জোট ৭০ থেকে ৮০ আসন পেতে পারে বলে মনে করছিলেন অনেকে। কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন আগে জয় সর্বশেষ তথ্য দিয়ে বলেন, বিএনপি জোট ৩০টি আসন পাওয়ার মতো অবস্থাও নেই। তার বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিএনপি জোট হয়তো ২৫ থেকে ৩০টি আসন পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও সরকারের চতুর্মুখী তৎপরতায় সব জল্পনাকল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বিএনপিকে মাত্র সাত আসনে বন্দী করা হয়। এটি ছিল সবার ধারণারও বাইরে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ও সরকারের অনির্ধারিত বিভিন্ন আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত করে কথা বলতেন। তবে বিএনপি জোট কত আসন পাবে তা কোনো সময় শেয়ার করতেন না তিনি। নির্বাচনের নানা কৌশল নিয়েও নেতাদের সাথে খোলামেলা কথা বলতেন না। সেজন্য আওয়ামী লীগের বিজয়ের ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী-পর্যায়ের সব নেতা নিশ্চিত থাকলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের সর্বোচ্চ আসন সম্পর্কে কারোরই চূড়ান্ত ধারণা ছিল না। তবে বিএনপি জোট সাত আসন পাবে এটা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কেউ। সরকারি দলের নীতিনির্ধারণী-পর্যায়ের একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, বিএনপি জোটের কোণঠাসা অবস্থা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতি তৎপরতা, দেশের সর্বত্র সরকারসমর্থিত নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সর্বোপরি বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে নানা প্রচার-প্রচারণার কারণেই এমন ফলাফল এসেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের কোনো ‘ম্যাকানিজমই’ কম ভূমিকা পালন করেনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব ম্যাকানজিম নির্দেশনার চেয়েও বেশি তৎপর ছিল। সেজন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের ফলাফলেও এমন আকাশ-পাতাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে; যা আমরা নিজেরাও বিশ্বাস করতে পারছি না। দু’জন নেতা বলেন, সংসদ এবং মন্ত্রিসভা বহাল রেখে নির্বাচন ছিল শেখ হাসিনার বড় ধরনের কৌশল। এ কারণে তিনি প্রার্থী মনোনয়নে দশম জাতীয় সংসদের এমপিদেরই প্রাধান্য দেন। কারণ, তিনি জানতেন, এমপি এবং মন্ত্রীরা স্বপদে থাকলে প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও বিশেষ আনুকূল্য পাবেন। আর শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)